ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তৃতা করছেন বেগম খালেদা জিয়া : নয়া দিগন্ত
ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তৃতা করছেন বেগম খালেদা জিয়া : নয়া দিগন্ত

চাইলেই বাইরে রাখা যাবে না আমরা নির্বাচন করব

ছাত্রদলের সমাবেশে খালেদা জিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এই সংসদ রেখে নির্বাচন হবে না। আর হাসিনার অধীনেও নির্বাচন হবে না। বিএনপি নির্বাচনী দল। আমরা নির্বাচন করব। বাইরে রাখতে চাইলেই রাখা যাবে না, নির্বাচন করব আমরা। তবে শেখ হাসিনার অধীনে অতীতে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, আগামীতেও হবে না। তিনি বলেন, এ সংসদ অবৈধ। কারণ এ সংসদ জনগণের ভোটে গঠিত হয়নি। অবিলম্বে এ সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। এ সরকার ভালো লোককে দীর্ঘদিন আটক রেখে জঙ্গি বলে চালিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যত দিন ক্ষমতায় থাকবে তত দিন দেশের মানুষের কিছুই থাকবে না। কারণ তারা জনগণের সরকার নয়।
রাজধানীতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। এর আগে সমাবেশ অনুষ্ঠান নিয়ে দিনভর নানা নাটকীয়তা চলে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রদল এ সমাবেশের আয়োজন করে।
জানা গেছে, আগে থেকেই সমাবেশের অনুমতি নিয়েছিল ছাত্রদল। পরে সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সেখানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের প্রধান গেটে তালা লাগানো ছিল। পরে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে দেখেন তালা লাগানো। তারা তালা খুলে দিতে বললে সেখানকার দায়িত্বরত ব্যক্তি জানান নিষেধ আছে। তবে কার নিষেধ আছে তা বলেননি। ছাত্রদল ও বিএনপির হাজারো নেতাকর্মী মিলনায়তনের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রদলের সমাবেশ নির্বিঘœ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টে গতকাল রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠান থাকায় নিরাপত্তার কারণে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের তালাবব্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তালা খোলাতে পারেননি। ফলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যান্য নেতা পাশে কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচেই অবস্থান নিয়ে বক্তৃতা শুরু করেন।
এ দিকে সমাবেশের প্রধান অতিথি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সভাস্থলে আসেন বিকেল ৪টা ২৬ মিনিটে। তিনিও নেতাকর্মীদের কর্মসূচিতে সমর্থন দিয়ে গাড়িতে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে বিকেল ৫টা ১৭ মিনিটে প্রধান ফটক খুলে দেয়া হয়। বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী তখন মাইকে ঘোষণা দিয়ে বলেন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান দেখিয়ে মিলনায়তনের তালা খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এরপর সন্ধ্যায় সমাবেশ শুরু হয়। ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসানের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের পরিচালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আমানউল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়া দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, আজকে দেশে গণতন্ত্র নেই। কোনো নির্বাচিত সরকার নেই। যে সরকার ক্ষমতায় আছে তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তারা অবৈধ সরকার। দেশে আইনের শাসন ও কথা বলার অধিকার নেই। তার প্রমাণ হলো আজকে ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে তারা অনুমতি দিয়েও হলরুমে তালা দিয়ে রেখেছিল।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দেশ এক ব্যক্তির ইচ্ছায় চলছে। আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে নির্যাতন, গুম, খুন ও দ্রব্যমূল্য বেড়েছে। মানুষ আওয়ামী লীগকে আর চায় না। আওয়ামী লীগ বিএনপিকে ভয় পায়। কারণ বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েই ক্ষমতায় এসেছে। আজকে দেশে উন্নয়নের নামে লুটপাট চলছে। অভাব-অনটন আর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, ২০১৪ সালে দেশে কোনো নির্বাচন হয়নি। ২০০৮ সালে সরকার বলেছিল ১০ টাকায় চাল খাওয়াবে। বিনামূল্যে সার দেবে। ঘরে ঘরে চাকরি দেবে। কিন্তু সারের দাম তারা তিন গুণ বাড়িয়েছে। আওয়ামী লীগ পদ্মা সেতু করতে পারবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে ব্যাংক ডাকাতি হচ্ছে এমন ভাবে যে কেউ টের পাচ্ছে না। ব্যাংক ও শেয়ারবাজার লুট হয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীনেরা সুইস ব্যাংকে টাকা পাচার করছে। দেশ থেকে লুট করে দেশকে ধ্বংস করছে। বিচার বিভাগ, মানবাধিকার, বাক-স্বাধীনতা সবই তারা ধ্বংস করেছে। জনগণের জন্য আর কিছুই থাকল না।
খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের মানুষ বাঁচবে না। মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। বিএনপি নির্বাচনে যাবে। তবে এ জন্য নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু নির্বাচন দরকার। কারণ শেখ হাসিনার অধীনে অতীতে যত নির্বাচন হয়েছে সুষ্ঠু হয়নি। আগামীতেও হবে না। তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। আজকে সংসদ বলে কিছুই নেই। এ সংসদ ভেঙে দিয়ে অবিলম্বে নির্বাচন দিতে হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। এক ব্যক্তির ইচ্ছানুযায়ী দেশ চলছে। হাসিনা যা বলে সেই অনুযায়ী চলে। আসলে কিছু চলছে না। দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে। সব কিছু অচল হয়ে যাচ্ছে। আমরা বলতে চাই, এক ব্যক্তির শাসনে তো এ দেশ চলতে পারে না। এ জন্য দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করেছিল। যে অত্যাচার পাকিস্তানিরা করেছে, তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি অত্যাচার করছে হাসিনার সরকার।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে অস্ত্রের মুখে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, আজ পর্যন্ত নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয়নি। কাজেই মতলবটা তাদের ভালো নয়। মওদুদ সাহেব বলেছেন এক দিনও নাকি ওই পদ খালি রাখা যায় না। কাজেই আমরা বলতে চাই, হাসিনা যা চাইবে তা না করলে তাকে মতা থেকে বিদায় নিতে হবে, তার নামে মামলা হবে, তাকে জেলে যেতে হবে, অত্যাচারিত হতে হবে।
ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খল ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ঐক্য, ঈমান ও শৃঙ্খলাÑ এ তিনটি জিনিস তোমাদের মধ্যে থাকতে হবে। তোমাদের আরো সুশৃঙ্খল হতে হবে। তাহলে সব কিছু জয় করা সম্ভব হবে। শুধু স্লোগান দিলে চলবে না। কোনো ব্যক্তির নামে স্লোগান না দিয়ে দেশের জনগণের হাজারো সমস্যা চলছে সে বিষয়ে স্লোগান দিতে হবে, যেমনÑ নব্বইয়ে এরশাদের বিরুদ্ধে ছাত্ররা দিয়েছিল। আজকে গ্রামের মানুষ ভয়ে বের হতে পারে না। দেশের কত মানুষ, তোমাদের ভাই গুম হয়ে গেছে। এই শেখ হাসিনা সরকার থাকলে দেশের আর কিছুই থাকবে না।
তিনি বলেন, আজকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রলীগের ছেলেরা অন্যদের থাকতে দেয় না। অন্য সংগঠনের ছেলেদের হলে থাকতে দেয় না। শিক্ষক-কর্মকর্তা সবাইকে তারা অপমানিত করছে।
দেশে জঙ্গিবাদ উত্থানের জন্য আওয়ামী লীগকে অভিযুক্ত করে খালেদা জিয়া বলেন, নিজেরা বোমা রাখে, অস্ত্র রাখে। তারপর যাকে ইচ্ছা তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তুলে নিয়ে যায়। জঙ্গি সৃষ্টি আওয়ামী লীগ করেছিল। শায়খ আবদুর রহমান, বাংলা ভাই সব তাদের জ্ঞাতি-গোষ্ঠী। কিছু হলে কথায় কথায় জঙ্গির ভয় দেখায়। বাংলাদেশের মানুষ জঙ্গি নয়, তারা শান্তিপ্রিয় মানুষ, তারা জঙ্গি হতে চায় না। তাদের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জঙ্গি বানানো হচ্ছে, জঙ্গি বানাচ্ছে তারা। বিদেশীদের কাছে জঙ্গি দেখানো হচ্ছে। দাড়িওয়ালা-টুপি পরা লোক হলে সে জঙ্গি হয়ে যায়। একজন লোককে যদি এক মাস ধরে নিয়ে রাখা যায় তাহলে তার দাড়ি এরকম হয়ে যাবে, তার চেহারা এরকম হয়ে যাবে। তাকে ঘুমাতে দেবে না, তাকে খেতে দেবে না তাহলে জঙ্গি বানানো সহজ। এই কাজগুলো তারা করছে প্রতিনিয়ত। মানুষকে ধরে নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বন্দী করে রেখে জঙ্গি সাজায়।
আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকে আমরা বলি, আওয়ামী লীগের সাথে যারা আছেন, যারা থাকবেন তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যে কাজগুলো করছেন, একদিন তাদের বিরুদ্ধেই মানুষ রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করবে। কারণ তারা সব কিছু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে করছে। দেশের এতগুলো মানুষকে গুম করা, খুন করার কাজ করছে।
পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, এখন তারা পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে। আওয়ামী লীগের আমলে এই সেতু হবে না। কোনোভাবে একটা যদি জোড়াতালি দিয়ে বানায় সেই সেতুতে কেউ উঠতে যাবেন না। অনেক রিস্ক আছে। দেশে উন্নয়নের নামে মতাসীনদের লুটপাট ও দুর্নীতি এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুমতি দিয়ে অনুষ্ঠান করতে না দেয়ায় ইনস্টিটিউশন কর্তৃপরে সমালোচনা করে বিএনপি প্রধান বলেন, সমাবেশ যদি করতে না-ই দেবেন তো অনুমতি দিলেন কেন? আসলে আওয়ামী লীগই শৃঙ্খলা ভাঙে। আমরা কিন্তু তা করি না। সব পুলিশই খারাপ না। আওয়ামী লীগই তাদের খারাপ বানায়। আজকে দেশে গণতন্ত্র নেই। আমাদের কথা বলতে দেয়া হয় না। এখন পর্যন্ত যাদের আটক করা হয়েছে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি জানান তিনি।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিচার আল্লাহই করবেন জানিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সরকার সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে জোর করে অস্ত্রের মুখে সরিয়ে দিয়েছে। তাকে প্রথমে বাধ্যতামূলক ছুটি দিয়ে পরে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। এখন পর্যন্ত সরকার প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয়নি।
মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। সে সময় বাংলাদেশের জনগণকে আশ্রয় দেয়ায় ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা আপনাদের মনে রাখব। ভালো বন্ধুত্ব চাই।
সমাবেশে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন বেগম খালেদা জিয়া।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবিলম্বে সরকারকে পদত্যাগ করে সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ সরকারের পতনের দিন শুরু হলো। এই সরকার দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র করতে চায়। ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে সারা দেশে বাধা দিয়েছে। এক মাস আগে পুলিশ ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ অনুমতিও দিয়েছে। কিন্তু মিলনায়তনের গেট কেন খুলল না। বাধা দিলো কে? অবিলম্বে সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।
মওদুদ আহমদ বলেন, স্বৈরাচারী সরকার গণতন্ত্রে বিশ^াস করে না। তারা ঘরোয়া অনুষ্ঠানও করতে দেয় না। এই দিনটি সরকারের কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হলো। তিনি ছাত্রদলসহ সবাইকে দেশে গণতন্ত্র ফেরানোর জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে শপথ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারকে আন্দোলনের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে বাধ্য করতে হবে। এখন দাবি একটাইÑ সরকারের পদত্যাগ।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বিএনপিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে ছাত্রদলকে বাঁচাতে হবে। এটি হচ্ছে বিএনপির প্রাণভোমরা। ইনশাআল্লাহ আমরা স্বৈরাচারী সরকারকে হটিয়ে খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত না করা পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.