ক্যাস্টোরিয়া হ্রদ

আজ তোমরা জানবে ক্যাস্টোরিয়া হ্রদ সম্পর্কে। এটি ক্যাস্টোরিয়া শহরের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। স্থানীয় অধিবাসীদের কাছে তো বটেই, বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের কাছেও রয়েছে এর মোহিনী আবেদন। লিখেছেন মুহাম্মদ রোকনুদ্দৌলাহ্
প্রাচীন সভ্যতার দেশ গ্রিসের একটি প্রশাসনিক এলাকা ক্যাস্টোরিয়া। এ এলাকায় রয়েছে একটি সুন্দর হ্রদ। হ্রদটির নামও ক্যাস্টোরিয়া।
ক্যাস্টোরিয়া হ্রদের অপর নাম ওরেস্টিয়াডা। ওরেস্টিয়াডা নামটি এসেছে ওরেইয়াডিস শব্দ থেকে, যার অর্থ উপদেবী বা পরী। গ্রিক ও রোমক কাহিনীতে আছে, এরা গাছ কিংবা পাহাড়-পর্বতে বাস করত।
ক্যাস্টোরিয়া হ্রদকে বলা হয়, ক্যাস্টোরিয়া শহরের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। স্থানীয় অধিবাসীদের কাছে তো বটেই, বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের কাছেও রয়েছে এর মোহিনী আবেদন। বিনোদনের জায়গা হিসেবে অনেক মানুষের পছন্দের তালিকায় আছে এটি। কারো কারো মতে, এ হ্রদের ধারে গেলে মানুষের মন ভরে যায় ভাববিলাসী মধুরতায়।
ক্যাস্টোরিয়া হ্রদের তীরে রয়েছে অনেক উন্মুক্ত স্থান ও উদ্যান। প্রকৃতির কোলে এসব অবারিত জায়গা এবং পাথুরে হাঁটা-পথ যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে সবাইকে। সব ঋতুতেই হ্রদ এবং পারিপার্শ্বিক এলাকার অনুপম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অম্লান। রূপতাত্ত্বিক দিক দিয়ে হ্রদটি গ্রিসের সবচেয়ে সুন্দর হ্রদ। এ দেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় একে ঘোষণা করেছে ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কীর্তিভূমি’।
হ্রদের উপত্যকাকে ঘিরে আছে পর্বতমালার নিজস্ব ভৌগোলিক পরিবেশ। এটি জলজ উদ্ভিদ, প্রাণী ও পাখির একটি স্বাভাবিক আশ্রয়স্থল।
এখানে বিভিন্ন ধরনের প্রচুর মাছ রয়েছে। তীরে বসে বড়শিতে কিংবা ঢেউ ভেঙে গভীর পানিতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাতে মাছ ধরায় অপার আনন্দ এ হ্রদে। এখানে যেসব মাছ পাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কার্প (স্বাদুজলের বড় আকারের মাছবিশেষ), বাটারফ্লাই, ইটালিয়ান ব্লিক, নর্দান পাইক ইত্যাদি।
পিগমি করমোর্যান্ট, সাদা পেলিক্যান, ড্যালমাটিয়ান পেলিক্যান, বড় সাদা এরগেট ইত্যাদি পাখি দেখা যায় এ হ্রদে।
হৃদ এলাকায় প্রাচীন সভ্যতার অনেক নিদর্শন রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্যানাগিয়া ম্যাভরিওটিসার বাইজানটাইন মঠ এবং ডিসপিলিওর প্রাগৈতিহাসিক জনবসতির নিদর্শন উল্লেখ্য।
ক্যাস্টোরিয়া হ্রদের আয়তন প্রায় ২৮ বর্গকিলোমিটার। সাগর সমতল থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৬৩০ মিটার।
Ñওয়েবসাইট অবলম্বনে

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.