সৈয়দপুরের বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নে তিনফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মাণের কাজ চলছে : নয়া দিগন্ত
সৈয়দপুরের বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নে তিনফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মাণের কাজ চলছে : নয়া দিগন্ত

সৈয়দপুরে তিনফসলি জমিতে ইটভাটা

জাকির হোসেন সৈয়দপুর (নীলফামারী)

নীলফামারীর সৈয়দপুরে সম্প্রতি দুই ও তিনফসলি জমিতে দেদার ইটভাটা স্থাপন করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও কৃষি বিভাগকে ম্যানেজ করে গড়ে উঠছে এসব ইটভাটা। উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নে প্রায় ২০টি ইট ভাটা রয়েছে। এ ছাড়া বোতলাগাড়ী ও বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নেও বেশ কিছু ইটভাটা রয়েছে।
বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামে লক্ষণপুর স্কুল ও কলেজসংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সোহরাব হোসেনের মালিকানাধীন একটি নতুন ইটভাটা তৈরির প্রস্তুতি চলছে। সদ্য ধান কাটা জমি থেকে ট্রাক্টরে মাটি কাটা, ইট রাখার জন্য খলান তৈরি করছে ৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক। পুরো ভাটাটি স্থাপন করা হচ্ছে বরেন্দ্র বহুমুখী সেচপ্রকল্প এলাকায়। প্রকল্পে জমি প্রায় ১০০ একর। সেখানে কিছু জমিতে আলু, রসুন, সরিষাসহ বেশ কিছু ফসল লাগানো হয়েছে। এই ইট উৎপাদনের জন্য পোড়ানো হচ্ছে প্রায় এক কোটি সিএফটি মাটি। বেশির ভাগ মাটি আসছে কৃষিজমি থেকে। কৃষিজমির মূল্যবান অংশ টপসয়েল ইটভাটায় গেলেও এ নিয়ে কারো তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। কৃষিজমির টপসয়েল বিনাশ করা হলে ফসল উৎপাদনের ওপরে মারাত্মক উপাদান নেতিকবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কয়েকজন জমির মালিক ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে তাদের উদ্বেগের কথা জানা গেছে।
জমির মালিক দুলাল, বিমল ও নরেশ বলেন, ‘হামরা এইলা জমিত বছরে তিনবার আবাদ করি। ২ বার ধান আর আলু, কপি, সইশা আবাদ করি। ভাটার হইলে হামার জমিত আর আবাদ হইবে না। হামাক না খেয়া থাকির নাইকবে।’
ইটভাটা মালিক সোহরাব হোসেন বলেন, আমি নিয়ম মেনে ইটভাটা করছি। নিউজ করে কিছুই হবে না।
বরেন্দ্র বহুমুখী সেচপ্রকল্পের ইজারাদার স্বপন জানান, এখানে বরেন্দ্র সেচপ্রকল্পের আওতায় ১০০ একর জমি রয়েছে। ইটভাটা করায় আবাদি জমিগুলোতে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে সেচপ্রকল্প বন্ধ হওয়ার কারণে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে লক্ষণপুর স্কুল ও কলেজের একজন শিক্ষক জানান, ইটভাটা চালু হলে স্বাস্থ্য ঝুঁঁকিতে পড়বে ছাত্রছাত্রীসহ এলাকার মানুষ। এ ছাড়াও এলাকার ফসলের উপড় পড়বে বিরূপ প্রভাব।
সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়রা মণ্ডল জানান, দুই বা তিন ফসলি জমিতে ইটভাটার জন্য আমরা কোনো ছাড়পত্র দেইনি।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.