আহেদ তামিমি
আহেদ তামিমি

এক কিশোরীর ভয়ে কাঁপছে ইসরাইল!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৬ বছরের ফিলিস্তিনি কিশোরী আহেদ তামিমি তার বাড়ির সামনে ইসরাইলি এক সৈন্যের গালে সপাটে চড় বসিয়ে দিয়েছিলেন। গ্রেফতারের পর সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনি। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের কাছে সে এখন ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়াতে এখন তার চড় মারার সেই ফুটেজ ভাইরাল হয়ে ঘুরছে।

ইসরাইলের বাম-ঘেঁষা দৈনিক হারেতজ লিখেছে, ইসরাইল যদি আহেদ তামিমির বিচার নিয়ে বাড়াবাড়ি করে, তাহলে এই কিশোরী হয়তো "ফিলিস্তিনি জোয়ান আর্ক হয়ে উঠবে।"

অন্যদিকে দক্ষিণ-পন্থী ইসরাইলিরা সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করে লিখছে, কেন তারা ঐ ফিলিস্তিনি কিশোরীর মুখে পাল্টা চড় মারল না।

ঘটনাটি ঘটে দু সপ্তাহ আগে অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবি সালেহ নামের একটি গ্রামে। বছরের পর বছর ধরে এই গ্রামের লোকজন প্রতি সপ্তাহে একদিন ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ঐ বিক্ষোভের সময় ইসরায়েলি সৈন্যদের সাথে আহেদ তামিমির ধাক্কাধাক্কি হচ্ছে। এক পর্যায়ে ঐ কিশোরী সপাটে চড় বসিয়ে দেযন এক সৈন্যের গালে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ওই চড়ে ওই সেনা সদস্যের ভ্রু কেটে গেছে। আহেদ তামিমির বিরুদ্ধে বিনা প্ররোচণায় সহিংসতা এবং দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। সামরিক আদালতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

ইসরাইলে এ ধরণের অপরাধে, একজন প্রাপ্তবয়স্কের ১০ বছরের সাজা হতে পারে। কিন্তু আইনজীবীরা বলছেন, কম বয়সের কারণে হয়তো লঘু সাজা হতে পারেএই কিশোরীর।

তার বিচার নিয়ে যখন টানাহেচড়া চলছে, একটি চড় মেরে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের নতুন এক প্রতীক হয়ে উঠেছেন ১৬ বছরের আহেদ তামিমি। ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আলোচনা-বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সে।

এই ধরণের দুঃসাহসিক কাজ এই কিশোরী আগেও করেছে।

দু বছর আগে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টার সময় সে ইসরায়েলি সৈন্যের হাত কামড়ে দিয়েছিল। তারও আগে ২০১২ সালে ইসরাইলি সৈন্যদের সাহসের সাথে মোকাবেলার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইপ এরদোগান তাকে আমন্ত্রণ করে নিয়ে গিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন। আহেদ তামিমির বয়স তখন ছিল মাত্র ১১ বছর।

গাজায় হামাসের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইসরাইলি হামলা
গাজা ভূখণ্ডে হামাসের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইসরাইল বিমান হামলা চালিয়েছে। ফিলিস্তিন থেকে ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে একটি রকেট হামলার কয়েক ঘন্টা পর মঙ্গলবার ভোরে ইসরাইল এ হামলা চালায়। খবর এএফপি’র।

সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সন্ত্রাসী সংগঠন হামাসের একটি কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।’

ফিলিস্তিনের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানায়, গাজার মধ্যাঞ্চলে দেইর আল-বালাহ্ ও দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনুস এলাকায় হামলাগুলো চালানো হয়। এতে ক্ষতি হলেও প্রাণহানি ঘটেনি।
এর আগে সোমবার রাতে গাজা থেকে ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে রকেট হামলা চালানো হয়। এতেও ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.