ঢাকা, বুধবার,১৭ জানুয়ারি ২০১৮

অর্থনীতি

ভারত থেকে গরুর গোশত আমদানি!

বিবিসি

০২ জানুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ১৮:১৭


প্রিন্ট
ভারত থেকে গরুর গোশত আমদানি!

ভারত থেকে গরুর গোশত আমদানি!

বাংলাদেশের কিছু ব্যবসায়ী ভারত থেকে 'বিফ' অর্থাৎ গরুর মাংস আমদানির জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছেন।

বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সমিতি এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, বাজারে গরুর গরুর গোশতের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের আমিষের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে গরুর গোশত আমদানি একটি বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে।
তিনি জানান, শুধু ব্যবসায়ীরা নয়, এ ব্যাপারে সরকারও যথেষ্ট উৎসাহী।

কিন্তু বাংলাদেশের সরকার বা ব্যবসায়ীরা চাইলেও ভারত থেকে 'বিফ' বা গরুর গোশত আমদানি করা কি আদৌ সম্ভব?

ভারতের গোশত রফতানিকারকদের সমিতির প্রধান ফাওযান আলাভি বিবিসিকে জানিয়েছেন, ভারত থেকে রফতানি করার গোশতের ১০০ ভাগই মহিষের গোশত, এক গ্রামও গরুর গোশত নয়।

ভারত প্রতি বছর প্রায় ৭০টি দেশে ১০ লাখ টনের মতো প্রক্রিয়াজাত গোশত রফতানি করে ৪০০ কোটি ডলার আয় করে।

এই গোশতের পুরোটাই মহিষের গোশত, কারণ ভারত থেকে গরু বা গরুর গোশত রফতানি নিষিদ্ধ। ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে এমনকী মহিষের গোশত রফতানিও দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে বলে সেদেশের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন।

বিষয়টি তুললে, এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ভারত থেকে গরুর গোশত আমদানির কথাই ভাবা হচ্ছে, এবং সেটা সম্ভব।

কিন্তু ভারতের গোশত রপ্তানিকারকদের সমিতির প্রধান ফাওযান আলাভি বলছেন, বাংলাদেশে যদি ভারত থেকে আমদানি করে, সেটা অবশ্যই মহিষের গোশত হবে। "কেউ কেউ এই গোশতকেই বিফ বলে, কিন্তু এটি গরুর গোশত নয়, মহিষের গোশত।"

এ বাদেও, তিনি বলেন, সেই মহিষের গোশতও বাংলাদেশে রফতানি সম্ভব নয় যদি না বাংলাদেশ সরকার প্রক্রিয়াজাত গোশতের ওপর আমদানি কর না প্রত্যাহার।

"বাংলাদেশ গোশতের জন্য বড় বাজার। আমাদের ধারণা বাংলাদেশে প্রতি মাসে কমপক্ষে ১০০০ টন গোশত রফতানি সম্ভব। ভারতের রফতানি করা গোশতের পুরোটাই হালাল। কিন্তু বাংলাদেশে যদি তাদের ৪০ শতাংশ আমদানি কর না ওঠায়, তাহলে সেই রপ্তানি একবারেই লাভজনক হবেনা।"

তিনি জানান, সময়ে সময়ে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা খোঁজ-খবর করেন, কিন্তু আমদানি করের কারণে সেই উদ্যোগ আর এগোয় না।

ভারত থেকে গরু পাচার কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে গরুর গোশতের দাম অনেকটা বেড়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশের ভোক্তারা মহিষের গোশতকে গরুর গোশতের বিকল্প হিসাবে গ্রহণ করবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

 

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫