ঢাকা, বুধবার,১৭ জানুয়ারি ২০১৮

এশিয়া

‘জনগণ দীর্ঘ বক্তৃতা শুনতে চায় না, তারা কাজকেই বড় করে দেখে’

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০২ জানুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ১৭:৪৬ | আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ১৭:৫৪


প্রিন্ট
‘জনগণ দীর্ঘ বক্তৃতা শুনতে চায় না, তারা কাজকেই বড় করে দেখে’

‘জনগণ দীর্ঘ বক্তৃতা শুনতে চায় না, তারা কাজকেই বড় করে দেখে’

‘রাশিয়া বিয়ন্ড দ্য হেডলাইন’ নামে রাশিয়ার একটি ইংরেজি সংবাদ মাধ্যম ইসলামে ধর্মান্তরিত এক নারীর সাক্ষাৎকার নেয়। ২০০৬ সালে তিনি ইসলামে ধর্মান্তরিত হন।

জয়নাব ওরফে এলেনা (৫৫) বলেন, ‘এটা ছিল ৯০ এর দশকের শেষের দিক। আমার স্বামীকে নিয়ে পর্যটক হিসেবে আমরা মিসর সফর করি। কোনো মুসলিম দেশে এটা ছিল আমার প্রথম সফর। সেখানে আমি সম্পূর্ণ একটি ভিন্ন মানসিকতার মানুষদের দেখেছি। এই সংস্কৃতির মধ্যে নিমগ্ন থাকার ফলে আমি আরব বিশ্বের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠি এবং আমি কোরান নিয়ে অধ্যয়ন শুরু করি।’

তিনি বলেন, ‘৪০ বছর বয়সে আমি আমার স্বামীকে বললাম যে, আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে চাই। আমার স্বামী এবং সন্তানরা আমার মনোভাব বুঝতে পেরে আমার সিদ্ধান্তে শান্ত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। কিন্তু আমার মা বিষয়টি অতটা সহজভাবে মেনে নেয়নি। মূল সমস্যা ছিল মাথায় হিজাব পরা নিয়ে। যদিও পরিস্থিতি এখন মীমাংসা হয়ে গেছে। এখন আমার মা আমার জন্য হালাল খাদ্য ক্রয় করেন। চার বছরের মধ্যে আমার জ্যেষ্ঠ কন্যাও ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়।’

‘ইসলাম গ্রহণ করার অল্পদিন পরেই আমি বুঝতে পারলাম আমার মধ্যে অনেক পরিবর্তন হয়েছে এবং তখন আমি আমার এলেনা নাম পরিবর্তন করে একটি মুসলিম নাম গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেই। আমার পরিবর্তিত নাম হয় জয়নাব,’ বলেন তিনি।

জয়নাব বলেন, ‘আমি ইংরেজি এবং জার্মান কারিগরি অনুবাদক হিসেবে কাজ করি। যখন আমি হিজাব পরিধান করি আমার সহকর্মীরা আমার সঙ্গে দুর্বল আচরণ করা শুরু করেন। একটি তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে এমন আচরণে আমি অত্যন্ত কষ্ট পাই। ওই সময় আমি খুবই মর্মাহত ছিলাম কিন্তু দুই মাস পরে আমি প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য একটি ফার্ম থেকে একটি চাকরির প্রস্তাব পাই। ওই একই কাজে আমাকে আগের চেয়ে দ্বিগুন বেতন অফার করে তারা। আমি তাদের বললাম যে, কর্মক্ষেত্রে আমি মাথায় হিজাব পরতে পারব কিনা। উত্তরে তারা জানায়, এটা কোনো সমস্যা না। তাদের প্রয়োজন দক্ষতা আর কাজ।’

এই নারী আরো বলেন, ‘উদাহরণ স্থাপনের মাধ্যমে আমি ইসলাম নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে চাই। জনগণ ইসলাম সম্পর্কে দীর্ঘ বক্তৃতা শুনতে চায় না। তারা কেবল আপনার কাজকেই বড় করে দেখে। আমি বলব, মুসলিমরা প্রকৃত অর্থেই অনেক ভালো।’

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫