ঢাকা, সোমবার,২২ জানুয়ারি ২০১৮

উপমহাদেশ

তাজমহলে নিয়ে নতুন ভাবনা!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০২ জানুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ১৫:৪৩


প্রিন্ট
তাজমহল

তাজমহল

তাজমহলে পর্যটকদের প্রবেশের উপরে লাগাম পরাতে চাইছে ভারতের প্রত্নতত্ত্ব দেখভাল বিষয়ক সংস্থা দ্য আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই)। যার ফলে তাজমহলকে ‘বাঁচাতে’ দিনে ৩০ হাজার জনের বেশি পর্যটক প্রবেশের অনুমতি আগামী দিনে না দেওয়ার ভাবনা রয়েছে সংস্থাটির।

জানা যায়, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্মৃতিসৌধ চত্বরে প্রবেশের আলাদা টিকিট করার পাশাপাশি ১৫ বছরের কমবয়সীদের টিকিট ছাড়াই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। টিকিট বুকিং সিস্টেমের মতো করে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সংখ্যা হিসাব করে রাখা হবে। দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা ৩০ হাজার পেরিয়ে গেলেই বন্ধ হয়ে যাবে কাউন্টার। সেদিনের মতো আর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

সংবাদমাধ্যম ওয়ান ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ইতিমধ্যে কেন্দ্রের সংষ্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এএসআইয়ের এই বিষয়ে কথা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দুই পক্ষ সম্মতও হয়েছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এখনও বাকি রয়েছে।

বর্তমানে তাজমহলে পর্যটক ঢোকার ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ নেই। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যতজন ইচ্ছা ঢুকতে পারেন। কোনো কোনোদিন তা ৬০-৭০ হাজার পেরিয়ে যায়।

ঐতিহাসিক এই সৌধের পক্ষে প্রতিদিন এত মানুষের চাপ সহ্য করা ভবিষ্যতে ক্ষতি করতে পারে- এমন ভাবনা থেকেই এএসআই নতুন উদ্যোগ নিতে চাইছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১৫ বছর পর্যন্ত বয়সীদের ও ভিআইপিদের প্রবেশের জন্য মূল্য দিতে না হলেও তাদেরও মাথা গোনার জন্য বার কোড দেওয়া টিকিট দিতে হবে। প্রবেশ ও প্রস্থানের গেলে ইলেকট্রনিক গেজেটের সাহায্যে সংখ্যায় হিসাব রাখা হবে।

এবার তাজমহলের ভেতরে শিবপূজা
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭
এবার তাজমহলের ভেতরে ঢুকে দুই ব্যক্তি হিন্দু দেবতা শিবের পূজা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ পায়। ভারতীয় পুলিশের বিশেষায়িত শাখা সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের (সিআইএসএফ) ডিরেক্টর জেনারেল তাজমহলের নিরাপত্তা কর্মীদের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়েছেন এ ব্যাপারে। খবর ডিএনএ ইন্ডিয়ার।

ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তির একজন তাজমহলের ভেতরে বসে শিব আরতি পড়ছেন আর অন্যজন তা মোবাইল ফোনে ভিডিও করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভিডিওটি বুধবার প্রকাশ হলেও, ঘটনাটি মঙ্গলবার সন্ধ্যার। সে সময় তাজমহল ঘুরতে আসা দর্শকরা অভিযোগ করেন, দুই জন তাজের ভেতরের মার্বেলের মেঝেয় বসে শিবপূজা করছেন। সঙ্গে পূজার সামগ্রীও রয়েছে। সিআইএসএফ কর্মীদের এ ব্যাপারে জানান তারা।

মোবাইলে ঘটনার ভিডিও কী করে তোলা হল তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, তাজমহলের ভেতরে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। ওই দুই ব্যক্তির কাছে এমন কিছু ছিল না, যাতে তাদের ভেতরে যাওয়া বন্ধ করা যায়। তবে ঘটনার পরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তাদের দাবি।

কিছুদিন ধরে একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে তাজ। উত্তরপ্রদেশ সরকারের পর্যটন পুস্তিকা থেকে তাজের নাম বাদ পড়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও বলেছেন, তাজমহল ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতীক নয়।

তাজমহল নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য হরিয়ানার মন্ত্রীর
ভারতে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের স্মৃতি বহনকারী এবং বিশ্বের সপ্তাশ্বর্যের একটি আগ্রায় অবস্থিত তাজমহল সম্পর্কে এবার বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন হরিয়ানার মন্ত্রী অনিল ভিজ।

বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশ রাজ্যের পর্যটন বিভাগের নতুন এক পুস্তিকায় বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম তাজমহল নিয়ে কোনো কথা না থাকায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সমালোচনা চলতে থাকে সর্বত্র। এরই মাঝে এই প্রসিদ্ধ সৌধ সম্পর্কে আলোড়ন ফেলে দিয়ে বিজেপির উত্তরপ্রদেশের সারদানার বিধায়ক সঙ্গীত সোম বলেন, তাজমহল ভারতীয় সংস্কৃতির কলঙ্ক, যিনি এর নির্মাতা, নিজের বাবাকেই বন্দি করেছিলেন তিনি! দেশের ইতিহাসে তাজমহলের স্থান কোথায়, সেই প্রশ্ন করেন সঙ্গীত।

এর রেশ কাটতে না কাটতেই হরিয়ানার স্বাস্থ্য ও ক্রীড়ামন্ত্রী ভিজের ট্যুইট, তাজমহল এক চমত্কার সুন্দর কবরখানা! তবে এটা নতুন কিছু নয়, অতীতেও ভিজের নানা মন্তব্য বিতর্কের ঝড় তুলেছে।

সঙ্গীতের তাজমহল সম্পর্কে মন্তব্য খারিজ করেছেন খোদ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথই। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ সরকার প্রকাশিত দ্রষ্টব্য পর্যটনস্থলগুলোর তালিকা থেকে তাজমহল বাদ পড়ায় প্রবল বিতর্ক শুরু হয়েছিল। সঙ্গীতের মন্তব্য তাতে ঘি ঢাললেও শেষ পর্যন্ত আদিত্যনাথ জানিয়ে দেন, তাজমহল তৈরি হয়েছিল ভারতমাতার সন্তানদের ঘাম-রক্তে এবং তার সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা উত্তরপ্রদেশ সরকারের দায়িত্ব।

তবে আদিত্যনাথের স্পষ্ট ঘোষণা সত্ত্বেও বিতর্ক থামেনি। বিজেপির আরেক শীর্ষ নেতা বিনয় কাটিয়ার দাবি করেন, তাজমহল আদতে ছিল শিবের মন্দির, যার নাম ছিল তেজো মহল, পরবর্তীকালে তাকে স্মৃতিসৌধে পরিণত করেন মুঘল সম্রাট শাহজাহান।

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫