ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৮ জানুয়ারি ২০১৮

নিত্যদিন

ঐ তি হ্য

কড়িখেলা

০২ জানুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আজ তোমরা জানবে কড়িখেলা সম্পর্কে। এটি বাংলাদেশের একটি প্রাচীন খেলা। বর্তমানে খেলাটির তেমন প্রচলন নেই। এটি এ দেশের ঐতিহ্য। লিখেছেন মৃত্যুঞ্জয় রায়
আমাদের দেশের পল্লী অঞ্চলে অনেক ধরনের খেলা আছে। এসব খেলাই আমাদের ক্রীড়া ঐতিহ্য। এসব খেলার মধ্যে কড়িখেলা অন্যতম। টাকা প্রচলনের আগে কড়িই ছিল টাকার মতো। কথায় বলে ‘ফেলো কড়ি, মাখো তেল’ অর্থাৎ কড়ি দিয়েই প্রাচীনকালে বেচাকেনা চলত। টাকা অর্থাৎ মুদ্রা প্রচলনের পর সেই মূল্যবান কড়িই হয়ে যায় খেলার সামগ্রী। কড়িখেলার আধুনিক সংস্করণ করে মার্বেল (চীনামাটির মার্বেল) ও কাচের মার্বেল খেলা। কাচের মার্বেল তৈরীর আগে কড়ি দিয়েই এভাবে খেলা হতো। কিন্তু এখনকার দিনে কড়িখেলা ওভাবে হয় না। সাধারণত মেয়েরা কড়ি খেলে। চারটা কড়িই এ খেলার উপকরণ।
সাধারণত দুই থেকে চারজন মিলে কড়িখেলা হয়। চারটি কড়ি এক হাতের তালুতে নিয়ে মাটির ওপর দান ফেলা হয়। যদি সবগুলো কড়ি চিৎ হয়ে পড়ে তখন খেলোয়াড়দের মধ্যে সেসব কড়ি দখলের কাড়াকাড়ি পড়ে যায়। কেননা এক একটা কড়ির মূল্য তখন চার পয়েন্ট। যে যতটা কেড়ে দখলে নিতে পারে তার পক্ষে তত পয়েন্ট যোগ হয়। আর সবগুলো উপুড় হয়ে পড়লে প্রতিটার জন্য এক পয়েন্ট করে দান ফেলা খেলোয়াড়ের পক্ষে যোগ হয়। এর ব্যতিক্রম হলে দান ফেলা খেলোয়াড় একটা কড়ি দিয়ে অন্য কড়িকে আঙুলে টোকা দিয়ে লাগানোর চেষ্টা করে। লাগাতে পারলে এক পয়েন্ট যোগ হয়, দুই জোড়াই লাগাতে পারলে যোগ হয় দুই পয়েন্ট। আর লাগাতে না পারলে তার দান হাতছাড়া হয়ে যায়। তখন তার পরের জন দান পায় এবং সেও একইভাবে খেলতে থাকে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খেলার পর সবার পয়েন্ট দেখা হয়। যার পয়েন্ট সবচেয়ে বেশি হয় সে হয় বিজয়ী। এ খেলার মাধ্যমে শিশুরা মুখে মুখে দ্রুত যোগ করা শেখে, তাদের লক্ষ্যস্থির ও ধৈর্যও বাড়ে। হিন্দু বিয়ের অনুষ্ঠানেও বর-কনের মধ্যে কড়িখেলা হয়। মাটিতে ছোট একটা গর্ত করে পুকুরের মতো বানিয়ে তার ভেতর কাদা ও ইটের কুচি রেখে জলের মধ্যে কনে কড়ি লুকায়। বরকে সেটা দ্রুত খুঁজে বের করতে হয়। না পারলে দর্শকরা হাসিতামাশা করে।

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫