ঢাকা, বুধবার,১৭ জানুয়ারি ২০১৮

নিত্যদিন

কিশোর মুসা রবিনের অভিযান

রকিব হাসান

০২ জানুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

একচল্লিশ.

খোলা কর্দমাক্ত মাটি পেরোনোটা যদি কঠিন হয়ে থাকে, লতাপাতা আর ঝোপঝাড়ের এই জঙ্গল ভেদ করে ওপাশে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। তবু দমলাম না। প্রাণ বাঁচানোর প্রচণ্ড তাগিদে দুই হাতে ঝোপঝাড় আর পাতা সরিয়ে অমানুষিক পরিশ্রম করে এগিয়ে চললাম। মুখে ও গায়ে খোঁচা মারছে ভাঙা ডালের মাথা। ব্যথায় থেকে থেকেই কোঁকাচ্ছি। কিন্তু এগোনো বন্ধ করলাম না।
অবশেষে গাছের জঙ্গল পেরোলাম। অন্য পাশে উঁচু দেয়াল। দেয়ালের মাথায় লোহার কাঁটা বসানো। ওটা পেরোনো সম্ভব নয়। দেয়ালের মাঝে কোথাও ফাঁক কিংবা ভাঙা ফোকর আছে কি না দেখার জন্য কিনার ঘেঁষে ছুটে চললাম। ছুটতে ছুটতে চলে এলাম গেটের কাছে। বারবার পেছনে তাকিয়ে দেখছি, কিটু আমাকে অনুসরণ করছে কি না। আমি যখন ঢুকেছিলাম, গেটটা তখন খোলা ছিল, তালা ছিল না। এখন কি লাগানো? তাহলে আর বেরোতে পারব না।
দম বন্ধ করে গেটের পাল্লায় ঠেলা দিলাম। সহজেই যখন খুলে গেল, কৃতজ্ঞতায় ঠাণ্ডা লোহার ভেজা গেটটাকেই চুমু খেতে ইচ্ছে করল। যাক, বেরিয়েছি। পিশাচদের আওতা থেকে বেরিয়ে এসেছি। এখন আমার প্রথম কাজ হলো, একটা টেলিফোন খুঁজে বের করা।
পাকা রাস্তা ধরে দৌড়ে চললাম। জায়গাটা বড়ই নির্জন আর ফাঁকা। রাস্তার দুই পাশে কোনো বাড়িঘর নেই। শুধু গাছ আর ক্ষেত। বৃষ্টির চাদরে ঢাকা পড়েছে। দৌড়াতে দৌড়াতে বুকে ব্যথা শুরু হলো। ঘন ঘন দম নিতে নিতে গলা শুকিয়ে গেল। হৃৎপিণ্ডটাও যেন আর সহযোগিতা করতে চাইছে না। ভয় হতে লাগল, বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেও বাঁচতে পারব কি না।
(চলবে)

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫