শুরু হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চলমান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় গেলেই পাওয়া যাবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। অবাক লাগলেও সত্যিই এবারের মূল ফটকের নকশা করা হয়েছে পদ্মা সেতুতে বসানো প্রথম স্প্যানের আদলে। গত কয়েক বছর বাণিজ্যমেলার প্রধান ফটক সাজানো হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের আদলে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের গণপূর্ত বিভাগের ৩১ দশমিক ৫৩ একর জমিতে অনুষ্ঠিত হবে বাণিজ্যমেলা। গতকাল ২০১৮ সালের প্রথম দিন ১০টায় বাণিজ্যমেলা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাথে ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত এবারের ২৩তম বাণিজ্যমেলা চলবে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মেলার মূল ফটক। প্রবেশ ফি ধরা হয়েছে বয়স্কদের ক্ষেত্রে ৩০ টাকা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা। টিকিট কাউন্টার রয়েছে ৫০টি।
দর্শনার্থীদের কাছে মেলার আকর্ষণ বাড়াতে ও নান্দনিক আবহ রাখতে এবার সুন্দরবনের আদলে একটি ইকো পার্ক করা হয়েছে। শিশুদের বিনোদনের জন্য থাকছে দু’টি শিশু পার্ক। মায়েদের বিশ্রামের জন্য রয়েছে দু’টি কেন্দ্র। নারী ও পুরুষদের জন্য ১২টি ব্লকে থাকবে ২৪টি বাথরুম। এ ছাড়া রয়েছে মসজিদ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। কার পার্কিংয়ের জন্য আছে বিশেষ ব্যবস্থা।
বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও পাখির পরিচিতির জন্য থাকবে পৃথক ফিশ অ্যাকুরিয়াম ও বার্ড অ্যাকুরিয়াম। দর্শনার্থীরা মূল মঞ্চে প্রতি সপ্তাহে দুই দিন উপভোগ করবেন লোকজ ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ ছাড়া মেলায় ডিজিটাল টাচস্ক্রিনের মাধ্যমে চেনা যাবে নির্দিষ্ট স্টল ও প্যাভিলিয়ন। নিরাপত্তার জন্য সিসি টিভির মাধ্যমে মনিটর করা হবে পুরো মাঠ।
গতকাল সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এখন চলছে মেলার শেষ মুহূর্তের সাজগোজের প্রস্তুতি। স্টলে চলছে রঙ দেয়ার কাজ। আর মাঠে চলছে পানি ছিটানো। ধুলোবালু থেকে পরিত্রাণ পেতে এই ব্যবস্থা।
ইতোমধ্যে স্টল সাজানোর কাজ শেষ করে এনেছেন সংশ্লিষ্টরা। এবার মেলায় প্যাভিলিয়ন ও মিনি প্যাভিলিয়নসহ মোট স্টল থাকছে ৫৮৯টি। এর মধ্যে সাধারণ স্টল ৪০০টি। আর প্যাভিলিয়ন ১৮৯টি। গত বছর অংশ নিয়েছিল ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠান।
ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, এবার বাংলাদেশ ছাড়াও অংশ নেবে ১৭টি দেশ। এগুলো হলোÑ ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, ভিয়েতনাম, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল ও হংকং। এই ১৭টি দেশের ৪৩টি স্টল থাকছে মেলায়।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো থেকে জানানো হয়, আবেদন করা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে। কোনো ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে যেন স্টল বরাদ্দ হয়ে না যায় সেজন্য এই পন্থা। বরাদ্দ দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ইপিবি থেকে দেয়া হয়েছে ২৭টি শর্ত। এগুলোর মধ্যে নির্দিষ্ট সময় নির্মাণ শেষ করা, অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও নির্মাণশৈলী মানসম্পন্ন করার কথা উল্লেখ করা হয়। দেশীয় পণ্যের স্থানীয় ক্রেতা বাড়ানোর কৌশল থেকে অতীতের যেকোনো বছরের তুলনায় আকর্ষণীয় হবে এই মেলা। গতবারের আসরে ৮০ কোটি টাকার রফতানি আদেশ পাওয়া গিয়েছিল। এবারের মেলায় এর পরিমাণ আরো বাড়বে বলে আশা করছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। এবারের বাণিজ্যমেলায় স্টল পেতে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দফতরে জমা পড়েছিল প্রায় এক হাজার ৩০০ আবেদনপত্র। এর মধ্য থেকে লটারি ও দরপত্রের মাধ্যমে দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠানের স্টল ও প্যাভিলিয়ন মিলিয়ে মোট ৫৮৯টি প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেয়া হয়েছে। অতীতের মতো এবারের মেলায়ও থাকছে তৈরী পোশাক, হোম টেক্সটাইল, ফেব্রিক্স পণ্য, হস্তশিল্পজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহস্থালি ও উপহারসামগ্রী, চামড়াজাত পণ্য, সিরামিকের তৈজসপত্র, প্লাস্টিক পণ্য, কসমেটিকস হারবাল ও প্রসাধনসামগ্রী, খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, জুয়েলারি, নির্মাণসামগ্রী ও আসবাবপত্রের স্টল।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.