কর্মসূচির সাত দিনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সরকারের উচ্চ-পর্যায় থেকে কেউ অনশনরত শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগও করেননি।
কর্মসূচির সাত দিনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সরকারের উচ্চ-পর্যায় থেকে কেউ অনশনরত শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগও করেননি।
হাসপাতালে ১৬ জনের চিকিৎসা গ্রহণ

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন : শিক্ষক নেতৃবৃন্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন বছরে ছাত্রদের হাতে নতুন বই তুলে দিচ্ছেন যে শিক্ষামন্ত্রী, তিনি শিক্ষকদের আনন্দ দিতে জানেন না। শিক্ষকদের নিরানন্দে রেখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আনন্দ থাকে না। ছাত্ররাও আনন্দে নেই। এভাবেই নিজেদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করছিলেন গত সাতদিন ধরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে এমপিওভুক্তির দাবিতে অনশনরত নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা।

আজ নতুন বছরের প্রথম দিনে অনশনরত শিক্ষকদের সাথে সংহতি-সমর্থন জানান বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন ও এর নেতারা।

২৬ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন একই স্থানে খোলা আকাশের নিচে দিন-রাত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ। এমপিওভুক্তির দাবিতে গতকাল শুরু হওয়া ‘আমরণ অনশন’ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে ১৬ শিক্ষক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে কুড়িগ্রাম চিলখালা মডেল কলেজের মোঃ ফরহাদ, বরিশালের আল-ইখন দাখিল মাদরাসার মোঃ বজলুর রহমান, কুষ্টিয়া খোকসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আব্দুর রাজ্জাক, বরিশালের আল ইখওয়াসা দাখিল মাদরাসার ফজলুর রহমানের অবস্থা গুরুতর।

বিরতিহীন অবস্থান ও আমরণ অনশন কর্মসূচির সাত দিনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সরকারের উচ্চ-পর্যায় থেকে কেউ অনশনরত শিক্ষকদের সাথে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগও করেননি বলে জানান নন এমপিও শিক্ষাক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার।

তিনিসহ অন্য নেতারা বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে এমপিওভুক্তির কোনো ঘোষণা আসে নাই বরং ৩০ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী অর্থপ্রাপ্তি সাপেক্ষে এমপিওভুক্তি করবেন বলে যে বক্তব্য দেন তা সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রত্যাখান করা হয়। ইতোপূর্বে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি সংবলিত একটি আবেদনপত্র জমা দেয়া হয়।

নেতৃবৃন্দ এমপিওভুক্তির দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, অনশন চলাকালে মৃত্যুর খবর শোনার আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেবেন।

শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭ জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের কৃতীত্বের দাবিদার হলেও আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের সাথে সেই ফলাফলের আনন্দের অংশীদার হতে পারিনি। তাছাড়াও ১ জানুয়ারি বই উৎসবেও অংশগ্রহণ করতে পারিনি।

আজ এমপিওভুক্তির দাবিতে অনশনরত শিক্ষক কর্মচারীদের দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের একক বৃহৎ সংগঠন শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যেজোট।

আজ অনুষ্ঠিত জোটের এক আলোচনা সভায় শিক্ষক নেতারা বলেন, রুটি রুজির দাবিতে শিক্ষকদের রাজপথে নেমে আসা বিশ্বসভ্যতার একটি কালিমাযুক্ত অধ্যায়। সরকারের দীর্ঘ অবহেলার কারণেই শিক্ষক সমাজকে রাজপথে নেমে এসে অনশন করতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষক জাতি গঠনের মত মহান পেশা বেছে নিয়ে ২০/২৫ বছর শিক্ষকতা করছে কিন্তু তারা পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। শিক্ষকরা জাতি গঠনের কারিগর। তারা উন্নত জাতি গঠনে বছরের পর বছরের কাজ করতে যাচ্ছে অথচ তাদের বেতন দেয়া হয় না। এ কোন বর্বরত? সরকার বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বারবারই ভংগ করে যাচ্ছে। আর তাই নিরুপায় হয়েই তারা অনশন করছে। অবিলম্বে দেশের সব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা না হলে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হবে।

আজ অনশন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ এম. এ সাঈদ (বারডেম), গণতান্ত্রিক বামমোর্চার সমন্বয়ক সাইফুল হক, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ ও খালেকুজ্জামান লিপন, ন্যাপের সম্পাদক পার্থ সারথী চক্রবর্তী, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য ক্বাফি রতন ও জলি তালুকদার, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আকবর খান প্রমুখ।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.