ঢাকা, শনিবার,২০ জানুয়ারি ২০১৮

সংগঠন

মানবাধিকার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক : এইচআরএসএস

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ জানুয়ারি ২০১৮,সোমবার, ১৯:২৫


প্রিন্ট

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি-এইচআরএসএস’র বার্ষিক প্রতিবেদনে।

আজ সোমবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

সংস্থাটি বলেছে, বার্ষিক মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিগত বছর গুলির মত ২০১৭ সালেও আইন শৃংখলা বাহিনী কর্তৃক বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডণ্ড, প্রশাসনের হেফাজতে নির্যাতন, আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আইনবহির্ভূত আচরণ, ধরে নিয়ে যাওয়ার পর গুম করার অভিযোগ এবং গণপিটুনীতে মানুষ হত্যা অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতা এবং সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ, সীমান্তে বিএসএফ ও বিজিপি কর্তৃক নিরীহ বাংলাদেশী হত্যা ও নির্যাতন, নারীর প্রতি সহিংসতা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে হামলা, বাক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ, রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করা, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হত্যার হুমকির মধ্য দিয়ে দেশে বিরাজমান মানবাধিকার পরিস্থিতি খুব একটা সন্তোষজনক নয়।

দৈনিক সংবাদপত্র এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, এ বছরে ১৮০টি ঘটনায় বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ২২৪ জন। এছাড়াও ২০১৭ সালে কারা হেফাজতে মারা যান ২৫ জন।

‘নারী নির্যাতনের’ অংশ হিসেবে যৌতুকের জন্য নির্যাতনে ২৪৭টি ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৪৫ জন নারী এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১০২ জন নারী, পারিবারিক কলহে ৪৪৩টি ঘটনায় নিহত হয়েছে ৩৫১ জন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৯২ জন নারী, এসিড নিক্ষেপের ২১টি ঘটনায় আহত হয়েছে ২৭ জন, ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে ৮৭২ জন নারী, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৫৭ জন।

দৈনিক সংবাদপত্র এবং এইচআরএসএস’র সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে/ সন্দেহে ৬১ জনকে উঠেয়ে নেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে এবং এদের মধ্যে পাঁচজনের লাশ পাওয়া গেছে। এ বছরে ৭৬৬টি ‘সহিংস হামলার’ ঘটনায় নিহত হয়েছে ৫২৮ জন, আহত হয়েছে ৫১১ জন এবং গুলিবিদ্ধ ৭৭ জন।

এছাড়াও ‘গণপিটুনির’ ৮৫টি ঘটনায় নিহত হয়েছে ৬৫ জন। বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ ৪৩০ জন পুরুষের, ২৪০ জন মহিলার এবং ১৮৯ জনের অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে। এ বছরে ৪৪৩ টি ‘রাজনৈতিক সহিংসতার’ ঘটনায় নিহত হয়েছে ৭১ জন, আহত হয়েছে তিন হাজার ৯৩১ জন এবং গুলিবিদ্ধ হয়েছে ১৩২ জন, যার অধিকাংশ ঘটনায় সরকার দলীয়কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। ‘সংখ্যালঘু’ সম্প্রদায়ের উপর ৩৯টি হামলার ঘটনায় মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হামলাসহ নিহত হয়েছে চারজন, আহত হয়েছে ৬৯ জন। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ৫৯টি হামলায় শারীরিক নির্যাতন ও গুলি করে ৩২ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করা হয়েছে, আহত করা হয়েছে ২৫ জনকে এবং গ্রেফতার করা হয়েছে ৪৩ জন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হামলায় ‘সাংবাদিক’ আহত হয়েছেন অন্তত ৫১ জন, গ্রেফতার হয়েছেন ছয়জন। এছাড়াও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে ৩৬ জন এবং হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন ১৮ জন সাংবাদিক।

সংস্থাটি আরো বলেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাবে।

এজন্য সংস্থাটির পক্ষ থেকে ‘হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির’ পক্ষ থেকে দেশের সব সচেতন নাগরিক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে আরো সোচ্চার হওয়ার আহবান জানানো হয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫