ঢাকা, মঙ্গলবার,২৪ এপ্রিল ২০১৮

উপসম্পাদকীয়

রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও সরকারবিরোধিতা এক নয়

ইকতেদার আহমেদ

০১ জানুয়ারি ২০১৮,সোমবার, ১৮:৪২ | আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০১৮,সোমবার, ১৯:৪৮


ইকতেদার আহমেদ

ইকতেদার আহমেদ

প্রিন্ট

রাষ্ট্র ও সরকারের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো রাষ্ট্র স্থায়ী, অপর দিকে সরকার অস্থায়ী। পৃথিবীর প্রতিটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের পরিবর্তন ঘটে। আবার এমন কিছু রাষ্ট্র রয়েছে যেখানে জনবিপ্লবের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের ঘটনা প্রত্যক্ষ করা যায়। সরকার রাষ্ট্রের শুধু একটি উপাদান। চারটি অপরিহার্য উপাদান সমন্বয়ে রাষ্ট্র গঠিত। যথা- জনসংখ্যা, ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব। সরকার রাষ্ট্রের একটি মাত্র অংশ, যা রাষ্ট্রের পক্ষে কার্য সম্পাদন করে। সরকার রাষ্ট্রের প্রতিনিধি রূপে কাজ করে। এটি রাষ্ট্রের এমন একটি প্রতিনিধি, যা রাষ্ট্রের আকাক্সক্ষাকে আইনে পরিণত করে, রাষ্ট্রে আইনগুলোর বাস্তবায়ন করে এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করে। রাষ্ট্র বিমূর্ত, অপর দিকে সরকার মূর্ত। একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসরত ব্যক্তিসমষ্টির সার্বভৌম অধিকার রক্ষার ধারণা রাষ্ট্র ব্যক্ত করে। রাষ্ট্র অদৃশ্য। 

জনগণের সমন্বয়ে রাষ্ট্র গঠিত, অপর দিকে জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে সরকার গঠিত হয়। সরকারের নির্দিষ্ট ও নির্ধারিত গঠনপ্রক্রিয়া রয়েছে। এটিকে জনগণের পক্ষে রাষ্ট্রের ক্ষমতা প্রয়োগকারী ব্যক্তিসমষ্টি হিসেবে দেখা হয়। সব জনগণই রাষ্ট্রের অংশ এবং তারা রাষ্ট্রের নাগরিকও বটে। যেসব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি সমন্বয়ে সরকার গঠিত, তাদের সংখ্যা দেশের সামগ্রিক জনসাধারণের তুলনায় স্বল্প। একটি শিশু জন্ম-পরবর্তী আপনা-আপনিভাবে রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করে, কিন্তু শিশুটি ব্যক্তি রূপে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হলে সে সরকারের সদস্য হিসেবে পরিগণিত হয়।
সার্বভৌমত্ব সব সময়ই রাষ্ট্রের অধীন এবং কখনো সরকারের অধীন নয়। সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রের বিশুদ্ধতার প্রতীক। সার্বভৌমত্ব ব্যাপক, অসীম, অবাধ এবং রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতা এর অন্তর্ভুক্ত। সার্বভৌমত্বের মতো ভূখণ্ডও রাষ্ট্রের অধীন। ভূখণ্ডের ওপর রাষ্ট্রের সার্বভৌম মালিকানা ও অধিকার ন্যস্ত। রাষ্ট্রের ভূখণ্ডের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান সরকারের দায়িত্ব। সরকার প্রণীত আইন রাষ্ট্রের সব অংশের ওপর প্রযোজ্য।

বিভিন্ন রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সরকারের ভিন্নতা রয়েছে। কোনো কোনো রাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থা সংসদীয় পদ্ধতির। আবার কোনো কোনো রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা। কোনো কোনো রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সরকারব্যবস্থা একক আবার কোনো কোনো রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় অথবা উভয়ের সমন্বয়। একটি সরকার রাজতান্ত্রিক, অভিজাত অথবা গণতান্ত্রিক অথবা একনায়কতান্ত্রিক হতে পারে। জনগণ তাদের পছন্দ অনুযায়ী সরকারের ধরনের পরিবর্তন ঘটায়, কিন্তু রাষ্ট্র স্বাধীনসত্তায় বিদ্যমান এবং এর বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তনশীল।

রাষ্ট্রদ্রোহিতা প্রতিটি সার্বভৌম দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ। আমাদের মূল দণ্ড আইন দণ্ডবিধিতে অপরাধ হিসেবে রাষ্ট্রদ্রোহিতার যে সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে তাতে উল্লেখ রয়েছে- যদি কোনো ব্যক্তি উচ্চারিত বা লিখিত কথা বা উক্তি দিয়ে কিংবা চিহ্নাদি দিয়ে কিংবা দৃশ্যমান প্রতীকের সাহায্যে কিংবা অন্য কোনোভাবে বাংলাদেশে আইনানুসারে প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা করার চেষ্টা করে, কিংবা বৈরিতার উদ্রেক করে বা করার চেষ্টা করে, তাহলে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কিংবা এমন যেকোনো স্বল্পমেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, যার সাথে অর্থদণ্ড যুক্ত করা যাবে কিংবা তিন বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এর সাথে অর্থদণ্ড যোগ করা যাবে কিংবা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

সংজ্ঞাটিতে ‘বিদ্বেষ’ বলতে অনানুগত্য ও সব ধরনের শত্রুতাকে বুঝানো হয়েছে। অপর দিকে ঘৃণা, বিদ্বেষ বা বৈরিতা সৃষ্টি করা বা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা ছাড়া আইনসম্মত উপায়ে পরিবর্তন বা সংশোধনের উদ্দেশ্যে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থাগুলোর প্রতি অসমর্থন প্রকাশ এ ধারা মতে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত নয়। একইভাবে ঘৃণা, বিদ্বেষ বা বৈরিতা সৃষ্টি করা বা করার চেষ্টা করা ছাড়া সরকারের কোনো শাসন পরিচালনসংক্রান্ত বা অনুরূপ কাজ সম্পর্কে অসমর্থনমূলক অভিমত বা মন্তব্য প্রকাশ এ ধারা মতে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত নয়।

উপরোল্লিখিত সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা অবলোকনে প্রতীয়মান হয়, বিরোধী দল বা যেকোনো সমালোচকের পক্ষ থেকে সরকারের নীতি, পরিকল্পনা ও নির্বাচনী ইশতেহারের গঠনমূলক সমালোচনা রাষ্ট্রদ্রোহ নয়। পৃথিবীর সর্বত্র নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী সংসদে বিরোধী দল সরকারি দলের গঠনমূলক সমালোচনা করে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এ ধরনের গঠনমূলক সমালোচনা গণতন্ত্রের উৎকর্ষের সহায়ক। যেকোনো গঠনমূলক সমালোচনা সরকারকে ন্যায়ের পরিপন্থী সব ধরনের কাজ পরিহারের পথ দেখিয়ে দিয়ে সঠিক পথে চলার প্রেরণা জোগায়। পৃথিবীর উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা থাকে। এরূপ ছায়া মন্ত্রিসভায় প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ন্যস্ত মন্ত্রীর বিপরীতে মনোনীত ছায়ামন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ড অবলোকন করে বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনার মাধ্যমে মন্ত্রীকে তার দায়িত্ব সুচারুরূপে সম্পাদনে সার্বিক সহায়তা দিয়ে থাকে। উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে এ ধরনের গঠনমূলক ও বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা উপদেশ ও পরামর্শ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সংবিধান দেশের প্রচলিত অপরাপর আইনের মতো আইন হলেও সংবিধানের অবস্থান অপরাপর আইনের চেয়ে অধিকতর মর্যাদার স্থানে। আমাদের সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে- সংবিধান ও আইন মানা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সরকারের মন্ত্রী পদে থাকলে তাকে সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধানের শপথ ব্যক্ত করতে হয়।

আমাদের দণ্ড আইনে সাধারণ অর্থে একজন নাগরিক আইন অমান্য করলে শাস্তির উল্লেখ না থাকলেও আইনে নির্দিষ্টভাবে যেসব কাজকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, এ ধরনের যেকোনো কাজ করলে কারা ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। আমাদের সংবিধান প্রণয়নকালীন সংবিধান অমান্যের জন্য কোনোরূপ সাজার বিধান ছিল না। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সংবিধানেও সংবিধান অমান্যের সাজার উল্লেখ না থাকলেও বৈধভাবে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে গণ্য হয়। প্রতিটি দেশের প্রচলিত আইনে এ ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহিতা অপরাধ গণ্যে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দান নিশ্চিত করে।

আমাদের সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী প্রণয়নকালে অভিনবভাবে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ ইত্যাদি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে নতুন একটি অনুচ্ছেদ সংযোজন করে বলা হয়- কোনো ব্যক্তি শক্তি প্রদর্শন বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বা অন্য কোনো অসাংবিধানিক পন্থায় এ সংবিধান বা এর কোনো অনুচ্ছেদ রদ, রহিত বা বাতিল বা স্থগিত করলে কিংবা করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করলে কিংবা এ সংবিধান বা এর কোনো বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করলে কিংবা তা করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করলে তার এ কাজ রাষ্ট্রদ্রোহিতা হবে এবং ওই ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হবে। অনুচ্ছেদটিতে অনুরূপ কাজের উসকানি ও সহযোগিতাকেও সম-অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের সাজা বিষয়ে অনুচ্ছেদটিতে বলা হয়েছে- বর্ণিত অপরাধে দোষী ব্যক্তি প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

উপরোল্লিখিত অনুচ্ছেদটি অবলোকনে প্রতীয়মান হয়, এতে দুই ধরনের কাজ রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে পরিগণিত। এর একটি হলো- শক্তি প্রদর্শন বা শক্তি প্রয়োগ বা অন্য কোনো অসাংবিধানিক পন্থায় সংবিধান বা এর কোনো অনুচ্ছেদ রদ, রহিত বা বাতিল বা স্থগিত করা বা করার ষড়যন্ত্র এবং অপরটি সংবিধান বা এর কোনো বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করা বা করার ষড়যন্ত্র।

এ অনুচ্ছেদটির বক্তব্য এবং এর পাশাপাশি দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সংবিধান ও আইন মেনে চলার কর্তব্য অধিকন্তু জনপ্রতিনিধি হিসেবে সরকারের মন্ত্রী পদে আসীন ব্যক্তিদের সংবিধানের রক্ষণ, সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধানের শপথ পাঠ রাষ্ট্রের সব নাগরিককে এ কথাটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সংবিধান অনুমোদন করে না এমন যেকোনো কাজ সংবিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস ও প্রত্যয় পরাহত করার সমরূপ। আর আস্থা, বিশ্বাস ও প্রত্যয় পরাহতের পরিণতি কী তার উল্লেখ অপর কোথাও নয়, সংবিধানেই সুস্পষ্ট।

পৃথিবীর বেশির ভাগ গণতান্ত্রিক দেশে একাধিক রাজনৈতিক দল থাকলেও সচরাচর দেখা যায় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের দায়িত্ব প্রধান দু’টি দলের যেকোনো একটি পায়। আবার কখনো কখনো সরকার গঠনের জন্য প্রধান দু’টি দলের যেকোনোটি প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হলে তৃতীয় দলের সাথে মিলে যৌথ সরকার গঠনে উদ্যোগী হয়।

পৃথিবীর উন্নত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে সরকার পরিবর্তনের একমাত্র মাধ্যম হলো সাংবিধানিক ব্যবস্থায় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান। এ ধরনের নির্বাচন যেকোনো দেশের গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করে, যা দেশের সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
আমাদের দেশসহ কিছু উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশে ক্ষমতাসীনেরা প্রায়ই রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও সরকারবিরোধিতার পার্থক্য অনুধাবনে ব্যর্থ হয়ে বিরোধীদের প্রতি অন্যায়ভাবে রাষ্ট্রদ্রোহসহ বিভিন্ন নিপীড়নমূলক আইনের অপপ্রয়োগের প্রয়াস নেয়।

আর এ কারণে দেখা যায়, বিরোধীরা ক্ষমতাসীন হলে আগেকার ক্ষমতাসীনেরা অনুরূপ পরিস্থিতির শিকার হয়। যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি স্বাধীন হয়েছে, তার মূলে ছিল গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে শোষণ ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র বিনির্মাণ। আমাদের দেশে অদ্যাবধি গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে ব্যর্থ হওয়ায় আমরা আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত। আর যত দিন আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দলসহ অপরাপর রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে অসমর্থ হবে, তত দিন তা আমাদের গণতন্ত্র বিকাশে অন্তরায় হিসেবে দেখা দেবে, যা রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও সরকারবিরোধিতাকে সমরূপতায় পথভ্রষ্ট করে।

লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক
E-mail: iktederahmed@yahoo.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫