সর্বনাশা ডিজিটাল ক্ষতি
সর্বনাশা ডিজিটাল ক্ষতি

সর্বনাশা ডিজিটাল ক্ষতি

সাবরিনা শুভ্রা

খুন, ধর্ষণ, ইভটিজিংসহ যে সব ঘটনা অহরহ ঘটে চলেছে তার পেছনে মোবাইলের একটা ভূমিকা বরাবরই লক্ষ করা যাচ্ছে। লেখাপড়া ফাঁকি দিয়ে ফেসবুকে চ্যাট করে কিংবা মোবাইলে কথা বলে কেউ কেউ রাত পার করে দিচ্ছে। কথা বলার টাকা জোগাতে তারা বিভিন্ন সময় অবৈধ পথে পা বাড়াচ্ছে, হারিয়ে ফেলছে নৈতিক চরিত্র ও চিন্তার মান। 

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বড় একটা অংশ জড়িয়ে পড়েছে মোবাইল পর্নোগ্রাফি আসক্তিতে। ইন্টারনেটের সুবাদে এবং বিভিন্ন মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার থেকে গান ঢোকানোর নামে শিক্ষার্থীরা সুলভেই তাদের মোবাইল মেমোরিতে নগ্ন ভিডিও ক্লিপস লোড করে নিচ্ছে। এসব নগ্ন ভিডিও এক সাথে অনেকে মিলে দেখছে এবং ব্লুটুথের সুবাদে তা এক হাত অন্য হাত হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে সবার হাতে হাতে।

শুধু তা-ই নয়, ক্লাসের পেছনের বেঞ্চে বসে শিক্ষকের চোখ ফাঁকি দিয়ে মোবাইলের অপব্যবহারের কথাও শোনা গেছে। ভাবার বিষয় হচ্ছে, এ আসক্তি শুধু ছেলেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, মেয়েদেরও একটা বড় অংশ ব্লুফিল্ম আসক্তিতে জড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে খুব অল্প বয়সেই ছেলেমেয়েদের মাঝে যৌন আসক্তি বাড়ছে। ফলে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, ইভটিজিং, আত্মহত্যা, অপহরণসহ অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছে অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা।

মাদকাসক্তি বিষয়টিকে আমরা অনেক গুরুত্ব নিয়ে দেখি। এই আসক্তির কুপ্রভাব ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করি, আসক্তকে নিরাময় কেন্দ্রে পাঠাই বা পাঠানোর কথা বলি। কিন্তু বর্তমান সময়ের এক আশীর্বাদ যে আসক্তির অভিশাপ হয়ে তরুণ প্রজন্মের পিছু নিয়েছে সে দিকে আমাদের নজর নেই।

অভিশাপটির নাম ‘ইন্টারনেট আসক্তি’, যা কেড়ে নিচ্ছে তরুণ প্রজন্মের সামাজিক জীবন। এর ফলে এরা পড়ায় ফাঁকি দিচ্ছে, অনেকে লেখাপড়া ছেড়েই দিচ্ছে। অন্য দিকে পরিবার, আত্মীয় ও বন্ধুদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সামাজিক বিভিন্ন পরিস্থিতিতেও অস্বস্তি বাড়ছে তাদের।

অভিভাবকদের সহায়তা দানের যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা কমনসেন্স মিডিয়া ১৩ শ’র বেশি কিশোর-কিশোরী ও তাদের অভিভাবকের ওপর একটি গবেষণায় দেখে, ৫৯ শতাংশ অভিভাবক মনে করেন তাদের সন্তানেরা বিভিন্ন মোবাইল ডিভাইসের (স্মার্টফোন, ট্যাব) প্রতি আসক্ত। সেখানে ৫০ শতাংশ ছেলেমেয়ে নিজেই নিজের ব্যাপারে এমন ধারণা পোষণ করে বলে গবেষণায় দেখা যায়। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, অনেক বাবা-মা এই আসক্তি থেকে বের করে আনতে তাদের সন্তানের চিকিৎসা করাতে চাইছেন। এ জন্য তারা হাজার হাজার ডলার খরচ করতে রাজি। 

লেখক : বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক
shuvraa7@gmail.com

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.