সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তেভোগী

খিলগাঁও থানার ওসির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের মদদ দেয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর খিলগাঁও থানার ওসির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের মদদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আজ সোমবার দুপুরে সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশে ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই এলাকার বাসিন্দা আজিহার রহমান এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মজিবর রহমান, হাজী গোলাম কবির, মোশাররফ হোসেন ও আইয়ূব হোসেন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে আজিহার রহমান বলেন, গত ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর খিলগাঁও থানার ৬ নম্বর রোডস্থ দক্ষিণ বনশ্রীর এইচ ব্লকের ১ নম্বর প্লট চার বছরের জন্য ভাড়া নেই। লিখিত চুক্তির মাধ্যমে জায়গার মালিক শহিদুল ইসলামকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম দেয়া হয়। এরপর সেখানে মাটি ভরাট করে আটটি দোকান, একটি সুইমিং পুলসহ প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যায় করি। আটটি দোকানে ক্রোকারিজ, বোর্ড, মিষ্টির দোকানসহ বিভিন্ন লোকজনের কাছে ভাড়া দেই। এরপর জায়গার মালিককে আরো ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়। চার বছরের মেয়াদ গত অক্টোবর মাসে শেষ হয়। এরপর মেয়াদ বৃদ্ধি নবায়ন করতে চাইলে তিনি মৌখিকভাবে রাজি হন।

আজিহার বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে নবায়ন করতে অস্বীকার করে তার জায়গা ছেড়ে দেয়ার জন্য বলেন। ক্ষতিপূরণ দাবি করলে ক্ষতিপুরণ না নিয়ে উঠে যেতে বলেন। গত ২৮ ডিসেম্বর বেলা ১টার দিকে বাড়ির মালিক ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক জুয়েলসহ তিনশতাধিক ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা চালিয়ে আমার দোকানপাট ভাঙচুর, লুটপাট করে। এসময় বাধা দিতে গেলে আমার ভাড়াটিয়াদের মারধর করে জোরপূর্বক বের করে দেয়। খিলগাঁও থানা পুলিশ কোনো প্রকার সহযোগিতা করেনি। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে মামলা নেননি ওসি। এর তিন দিন পর গত ৩১ ডিসেম্বর থানায় মামলা গ্রহণ করা হলেও আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়। ওসির মদদে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাসহ সন্ত্রাসীরা আমাকে হত্যাসহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিয়ে আসছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন ক্ষতিগ্রস্থ আজিহারসহ ব্যবসায়ীরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসি মশিউর রহমান বলেন, জমির মালিক একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি আজিহারের কাছে শুধু জমিটা ভাড়া দিয়েছিলেন। তার চুক্তিও শেষ হয়েছে অনেক আগে। এখন ওই জমিতে মালিক ভবন করবেন। তাই সে নতুন করে চুক্তি না করে চলে যেতে বলছেন। এ নিয়ে ঝামেলার কারণে আমি দুই পক্ষকেই বলে দিয়েছি নির্দিষ্ট একটি সময় নিয়ে সমঝোতায় আসতে। কিন্তু তা হয়নি। ফলে মালিক এলাকার লোকজন নিয়ে তার জমি দখল নিয়েছে। এখানে আমাদের কোনো ভূমিকা ছিল না।

তিনি বলেন, ওই জমিতে কিছু দোকানপাট ছিলো তারা অভিযোগ করেছেন তাদের মালামাল খোয়া গেছে। আমরা মামলা নিয়েছি। এতে ওই জমির মালিক শহিদুলও আসামি। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.