নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির (এনসিপিএসআরআর) বার্ষিক জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির (এনসিপিএসআরআর) বার্ষিক জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সড়কে প্রাণহানি ২৬ ভাগ বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদায়ী বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা ২০১৬ সালের তুলনায় বেড়েছে। বৃদ্ধির এ হার প্রায় ২৬ শতাংশ। তবে তা ২০১৫ সালের তুলনায় কম। গত বছর সারা দেশে তিন হাজার ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় চার হাজার ২৮৪ জন নিহত ও নয় হাজার ১১২ জন আহত হয়েছেন। নিহতের তালিকায় নারী ও শিশুর সংখ্যা যথাক্রমে ৫১৬ ও ৫৩৯। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে এসব দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির (এনসিপিএসআরআর) বার্ষিক জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন ২০১৭-তে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

২২টি জাতীয় দৈনিক, ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্র এবং আটটি অনলাইন নিউজপোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে এই বেসরকারি সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জাতীয় কমিটির তথ্য মতে, ২০১৬ সালে দুই হাজার ৯৯৮টি দুর্ঘটনায় ৪৭০ নারী ও ৪৫৩ শিশুসহ তিন হাজার ৪১২ জন নিহত এবং আট হাজার ৫৭২ জন আহত হয়েছেন। তবে এর পূর্ববর্তী বছর ২০১৫ সালে চার হাজার ৫৯২টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ছয় হাজার ৮২৩ ও ১৪ হাজার ২৬। নিহতের মধ্যে ৭৮১ নারী ও ৭৬২ শিশু ছিল। এ হিসেবে, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির হার যথাক্রমে ১৫ দশমিক ৮২ ও ২৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর ফেব্রুয়ারিতে সর্বাধিক ৩৭২টি দুর্ঘটনায় ৫৬ নারী ও ৫৮ শিশুসহ মোট ৪৭২ জন নিহত এবং এক হাজার ৯৪ জন আহত হয়েছেন। একই বছর আগস্টে সর্বনিম্ন ২১৭টি দুর্ঘটনায় ২৫ নারী ও ৩১ শিশুসহ ২৭৯ জনের প্রাণহানি ঘটে। আর আহত হন ৫০৩ জন।

বছরব্যাপি পর্যবেক্ষণে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির জন্য প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে জাতীয় কমিটি।

সেগুলো হচ্ছে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো। সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেলসহ তিন চাকার যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি। স্থানীয়ভাবে তৈরি দেশীয় ইঞ্জিনচালিত ক্ষুদ্রযানে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন, বিধি লঙ্ঘন করে ওভারলোডিং ও ওভারটেকিং। জনবহুল এলাকাসহ দূরপাল্লার সড়কে ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা। দীর্ঘক্ষণ বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও বেহাল সড়কে ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব এবং অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ।

জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি কর্তৃপক্ষগুলোর যথাযথ তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাবই দায়ী। দুর্ঘটনা সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনতে হলে গণপরিবহন খাতের নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা দূর করতে হবে। সে ক্ষেত্রে শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগপত্র ও উপযুক্ত বেতন-ভাতা প্রদান এবং চাঁদাবাজি ও দখলদারীত্ব বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে জরুরি বলে মনে করেন করেন আশীষ কুমার দে।

এদিকে নিরাপদ সড়ক চাই কর্তৃক ২০১৭ সালের সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান-সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে তিন হাজার ৩৪৯টি, আহত সাত হাজার ৯০৮ জন নিহত পাঁচ ৬৪৫ জন।

আজ সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে নিরাপদ সড়ক চাই কর্তৃক ২০১৭ সালের সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান প্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য তুলে ধরা হয়।

নিসচা প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে এ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন নিসচা কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ হোসেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসান উল হক কামাল।

মহাসচিব শামীম আলম দীপেন, দুর্ঘটনা অনুসন্ধান ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওবায়দুর রহমান নিসচা উপদেষ্টা বিআরটিএ এর সাবেক চেয়ারম্যান আয়ুবুর রহমানসহ নিসচার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.