ঢাকা, সোমবার,২২ জানুয়ারি ২০১৮

ঢাকা

কুয়াশায় পাটুরিয়া রুটে ফেরি বন্ধ, ভোগান্তি : কাজে আসছে না কোটি টাকার ‘ফগ লাইট’

শহিদুল ইসলাম, শিবালয় (মানিকগঞ্জ)

০১ জানুয়ারি ২০১৮,সোমবার, ১৬:৫৭


প্রিন্ট
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

চলতি মৌসুমে ঘন কুয়াশায় ব্যস্ত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে দফায় দফায় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় ঘাটে পারের অপেক্ষায় আটকে পড়ছে যাত্রী ও পণ্য বোঝাই অসংখ্য যানবাহন। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ও ভোগান্তিতে পড়ছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অগণিত যাত্রীসাধারণ। কুয়াশা কাটিয়ে ফেরি সার্ভিস সচল রাখতে এ রুটের ফেরিগুলোতে কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ফগ লাইট’ স্থাপন করা হলেও তা কোনো কাজে আসছে না।

জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার সাথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল ও যাত্রী দুর্ভোগ লাগবে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ঘন কুয়াশায় ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দু’বছর আগে খানজাহান আলী, কেরামত আলী, ভাষা শহীদ বরকত, বীরশ্রেষ্ট রুহুল আমীন, বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর, আমানত শাহ, শাহ্ পরান ও কপোতি নামে ৭টি ফেরিতে ‘ফগ লাইট’ স্থাপন করা হয়। এতে সংস্থার ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৫ কোটি টাকা। কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনা ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাবে অদ্যাবধি তা কোনো কাজে আসেনি। ফলে, ঘন কুয়াশায় এ রুটের ফেরি সার্ভিস প্রায়শই বন্ধ থাকায় নিত্যভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অগণিত যাত্রী। যোগাযোগ ব্যবস্থায় সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক অচলাবস্থা।

ঘাট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন যাবত সৃষ্ট ঘন কুয়াশায় বিশেষ করে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, আরিচা-কাজিরহাট নৌ-রুটে ফেরি, লঞ্চ, কার্গো, নৌকা ইত্যাদি চলাচল মারাত্মক ব্যাহত হয়। ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাটে সৃষ্টি হয় বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের দীর্ঘ সারি। এতে অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীসাধারণ, পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা।

ভুক্তভোগীরা জানায়, ফেরি বন্ধ থাকায় ঘাটে আটকে থাকা যাত্রীরা কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশায় রাতের আধারে নানা সংকটে পড়ে। ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত শৌচাগার ও নিরাপত্তার অভাব অনুভূত হয়। ফেরি-লঞ্চের ক্যান্টিন ও ঘাট এলাকার হোটেল-রেস্তোরাঁয় নিম্নমানের খাবার কিনতে গুনতে হয় অতিরিক্ত অর্থ। দীর্ঘ সময় আটকে থাকার কারণে স্বল্প অর্থ নিয়ে বের হওয়া মানুষেরা বেশি ভোগান্তিতে পড়ে।

এদিকে, যাত্রী দুর্ভোগ লাগবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস-কোচ, প্রাইভেট, মাইক্রোসহ অন্যান্য ছোট যানবাহন পারাপার করায় পন্যাবাহী ট্রাক-লড়ির সিরিয়াল ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। কাক্সিক্ষত সময়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে ট্রাক-লড়ি পৌঁছাতে না পারায় নানা সঙ্কট তৈরী হচ্ছে বলে চালক-মালিকরা অভিযোগ করেন।

ফেরি সেক্টর বিআইডব্লিউটিসি আরিচা আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঘন কুয়াশায় প্রায়শই ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে উভয় ঘাটে আটকে পড়া যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি ও যাত্রী ভোগান্তি হচ্ছে। বর্তমানে এরুটের ছোট-বড় ১৮টি ফেরির মধ্যে একটি সাময়িক বন্ধ রয়েছে।

আজ সোমবার সকালে সৃষ্ট ঘন কুয়াশায় ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকায় উভয় পাড়ে পারাপারের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের চাপ বেড়েছে। অপেক্ষমান যানবাহন পারাপারে সচল ফেরিগুলো নিরলস চলাচল করছে।

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫