ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৬ এপ্রিল ২০১৮

খুলনা

আ’লীগ ও বিএনপির তরুণ নেতারাই প্রচারণায় এগিয়ে

খুলনা-৩ আসন

শেখ শামসুদ্দীন দোহা খুলনা ব্যুরো

০১ জানুয়ারি ২০১৮,সোমবার, ১৪:২৯


প্রিন্ট
আ’লীগ ও বিএনপির তরুণ নেতারাই প্রচারণায় এগিয়ে

আ’লীগ ও বিএনপির তরুণ নেতারাই প্রচারণায় এগিয়ে

শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত খুলনা মহানগরীর খালিশপুর-দৌলতপুর এবং খানজাহান আলী থানার একাংশ নিয়ে গঠিত খুলনা-৩ সংসদীয় এলাকা। এলাকাটি জাতীয় সংসদের ১০১ নম্বর আসন। যেকোনো নির্বাচনে শ্রমিকদের ভোট এখানে বড় ফ্যাক্টর। বিগত দিনে এবং বর্তমানে নির্বাচিতরা স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় খুলনা-২ আসনের পরই গুরুত্ব দেয়া হয় এ আসনটিকে। বন্ধ মিলকলকারখানা চালু, বকেয়া মজুরি ও দাবি-দাওয়া নিয়ে শ্রমিক অধ্যুষিত এ এলাকা প্রায়ই আন্দোলনমুখর থাকে।

একাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে তাই এই আসনেও আগেভাগেই শুরু হয়েছে নির্বাচনী তোড়জোড়। এবার প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ভাবিয়ে তুলেছে মনোনয়নপ্রত্যাশী তরুণ নেতাদের আগাম প্রচার-প্রচারণা। তবে হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক এবং বিএনপি থেকে সাবেক এমপিরাই অ্যাডভান্টেজ পাবেন বলে দল দু’টির সূত্র জানায়। তবে তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা পুরনো নয়, এবার নতুন মুখ চান।

সূত্র মতে, খুলনা-৩ নির্বাচনী এলাকাটি ইসলাম ও জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসীদের ভোটব্যাংক হওয়ায় বিগত নির্বাচনগুলোতে বেশির ভাগ সময় বিএনপি ও চার দলের প্রার্থীরাই এখান থেকে বিজয়ী হয়েছেন। ৯ম ও ১০ম দু’টি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন ছাড়া কেবল ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ আসনে জয়লাভ করেন।

আসনটিতে এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী, বর্তমান এমপি বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এগিয়ে থাকলেও তরুণ কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামালের প্রচার-প্রচারণায় দলে ¯œায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে। শ্রমিক ও দলের সাধারণ নেতাকর্মীদের ‘বুু’ হিসেবে পরিচিত মন্নুজান সুফিয়ান বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে ভূমিকা রাখা, তার সাথে দেখা করার জন্য দীর্ঘসময় অপেক্ষা করাসহ বিভিন্ন কারণে তার গ্রহণযোগ্যতায় খানিকটা ভাটা পড়েছে। তা ছাড়া গত টার্মে মন্ত্রী থাকাকালীন নিজ ভাইকে ব্যক্তিগত সহকারী নিয়োগ এবং ভাইয়ের খবরদারির কারণে সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে বেগম মন্নুজান সুফিয়ান মন্ত্রিত্ব বঞ্চিত হয়েছেন বলে অনেকে মনে করেন। মনোনয়নের বিষয়ে তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সম্প্রতি এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রভাবশালী সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা এস এম কামাল হোসেন। এ ছাড়া দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ সৈয়দ আলীর কথাও শোনা যাচ্ছে। এস এম কামাল ১৯৮০’র দশকে খুলনায় দাপটের সাথে ছাত্ররাজনীতি করেছেন। দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কর্মকাণ্ডে তার সরব উপস্থিতি ছাড়াও তিনি মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। তবে তিনি খুলনার চেয়ে ঢাকাতেই সময় কাটান বেশি।

এস এম কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি দলের জন্য রাজনীতি করি। ছাত্রজীবন থেকে খুলনায় রাজনীতি করেছি। খুলনার মাটি-মানুষের সাথে আমার সম্পর্ক। দলীয় কারণে ঢাকায় অবস্থান করলেও এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করি। তবে প্রার্থিতার বিষয়টি নির্ভর করবে দলীয় সভানেত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর। দল মনোনায়ন দিলে কাজ করব। না পেলে যাকে দেবে তার পক্ষে কাজ করব। শেখ সৈয়দ আলী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের জন্য আমি দীর্ঘ দিন কাজ করছি। এবারো দলের কাছে মনোনয়ন চাইব।

অন্য দিকে বিএনপির অন্তত পাঁচজন নেতা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, মহানগর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রকিবুল ইসলাম বকুল, মহানগর কমিটির প্রথম যুগ্ম সম্পাদক তারিকুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ আরিফুর রহমান মিঠু এবং মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল আলমের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলেছে, বিসিবির সাবেক সভাপতি সাবেক এমপি আলী আসগর লবী মনোনায়ন পেয়ে চমক সৃষ্টি পারেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কাজী ডালিমের ২০ জোটের শরিকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও দলের তরুণ নেতৃত্বের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা আগের মতো নেই। তবে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। অন্য দিকে বসন্তের কোকিলের মতো এবার আলোচনায় উঠে এসেছে ৯০-র দশকের ছাত্রনেতা রকিবুল ইসলাম বকুলের নাম। খুলনার রাজনীতি এমনকি তৃণমুল নেতাকর্মীদের সাথে তার যোগাযোগ না থাকলেও খুলনা বিএনপি ও অংগসংগঠনের কমিটি গঠন অনেকটা তার কলকাঠিতেই হয়ে থাকে।

জানা গেছে, দৌলতপুর, খালিশপুর ও খানজাহান আলী থানা এলাকায় বকুলের পক্ষে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রচারণা। দীর্ঘ দিন দলে নিষ্ক্রিয় সাবেক এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বকুলের পক্ষে প্র্রচারণা চালাচ্ছেন। আরেক আলোচিত মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির মহানগর কোষাধ্যক্ষ আরিফুর রহমান মিঠু। মহানগর বিএনপির একটি অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই তরুণ নেতা। কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অংশের সাথে তার শক্ত যোগাযোগ রয়েছে।

বিএনপির আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী আশির দশকের ছাত্রনেতা তারিকুল ইসলাম। সাংগঠনিক দক্ষতার অধিকারী, দুর্দিনে নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করাসহ দলকে এলাকায় মজবুত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, প্রচার-প্রচারণায় পিছিয়ে থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার অবস্থান বেশ শক্ত। এ আসনে বিএনপির মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল আলমের নাম প্রথম দিকে উঠলেও তিনি সাধারণ ভোটারদের কাছে অপরিচিত। তা ছাড়া তার বাড়ি খুলনা-২ আসনে হওয়ায় তিনি আলোচনার দৌড়ে অনেক পিছিয়ে আছেন।

বিএনপি নেতা কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম বলেন, ‘এই আসনের সাবেক এমপি হিসেবে আগামী নির্বাচনেও প্রার্থী হতে চাই। দলের ঊর্ধ্বতন নেতাকর্মীদের সাথে প্রাথমিক আলাপ করেই কাজ করছি। এর আগেও দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছি, তাই এবারো আশাবাদী।’

আরিফুর রহমান মিঠু বলেন, হামলা-মামলাকে ভয় না করে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলাম। রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নেও মাঠে আছি। বিগত সময়ে এ আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলাম, এবারো চাইব। আমার বাবার পরিচয়ের সুবাধে এই এলাকায় ভোটব্যাংক আছে। মনোনয়ন দিলে অবশ্যই আসনটি পুনরুদ্ধারে সমর্থ হবো। তারিকুল ইসলাম বলেন, আমি নির্বাচনের জন্য নয়, দলের জন্য কাজ করছি। আর এটি দলীয় নির্বাচন, এখানে ব্যক্তি প্রচারের চেয়ে দলের প্রচার বেশি প্রয়োজন। দলের কাছে আমি মনোনয়ন চাইব। ইসলামী আন্দোলন থেকে এ আসনে প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫