হাসান আলি
হাসান আলি

৮৬ থেকে এক লাফে শীর্ষে

নয়া দিগন্ত অনলাইন

পাকিস্তানের দুর্ধর্ষ বোলার হাসান আলি। ২০১৭ সালের শুরুতে ওয়ান ডে বোলারদের তালিকায় ৮৬ নম্বরে ছিলেন এই তরুণ তুর্কি। আর বছর শেষে তিনি উঠে গেলেন শীর্ষে। এই উত্থানকে অবিশ্বাস্য বললেও কম বলা হবে।

২০১৬ আগস্টে অভিষেক হয় হাসান আলির। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই শিরোনামে উঠে আসেন অখ্যাত এই বোলার।

কেরিয়ারের প্রথম আইসিসি টুর্নামেন্টের মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে হাসান এখন পাক ক্রিকেটের প্রতিষ্ঠিত তারকা ক্রিকেটার।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চোখ ধাঁধানো সাফল্যেই ক্রিকেটবিশ্বে নতুন করে তার পরিচিতি তৈরি করে দেয়। ভারতের বিরুদ্ধে বার্মিংহ্যমে মিনি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটা হাসানের কাছে ছিল দুঃস্বপ্ন। কোহলি-রোহিতদের মারকাটারি ব্যাটিংয়ের সামনে দিশেহারা হয়ে দশ ওভারে ৭০ রানে খরচ করে বসেছিলেন হাসান। সাফল্য বলতে মাত্র একটা উইকেট। ডাক ওয়ার্থ লুইস নিয়মে সেই ম্যাচে ভারতের কাছে পাকিস্তান হারে ১২৪ রানে।

সেই হার থেকেই ঘুরে দাঁড়ানো। পরের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে এটাই শুইয়ে দিলেন হাসান। ২৪ রান দিয়ে ডুপ্লেসিস, ডুমিনি আর পার্ণেলকে তুলে নিয়ে প্রোটিয়াদের থামিয়ে দেন ২১৯ রানে। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ডাক ওয়ার্থ লুইস নিয়মে পাকিস্তান জিতে ১৯ রানে।

এরপর গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কা আর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও জ্বলে ওঠেন তরুণ বোলার। ‘ডার্ক হর্স’ হাসানের কাঁধে ভর করে ফাইনালের টিকিট পায় পাকিস্তান। দুটি ম্যাচেই তিনটি করে উইকেট পেয়েছিলেন এই ডানহাতি।

ফাইনালে ফের বিস্ফোরণ। মোহাম্মদ আমিরের সাথে তিনটি করে উইকেট ভাগ করে নেন হাসান আলি। স্কোরবোর্ড ৩৩৮ রান তুলে ভারতকে ১৫৮ তে থামিয়ে দেয় আমির-হাসান জুটি। ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের জন্য চ্যাম্পিয়ন ট্রফি জেতে পাকিস্তান। পাঁচ ম্যাচে ১৩ উইকেট নেয়ার সুবাদে টুর্নামেন্ট সেরার মুকুট উঠেছিল হাসানের মাথায়।

২০১৭ মৌসুমে ৪৫টি উইকেট পকেট পুড়েছেন এই বোলার।

নতুন বছরে ক্রিকেটারদের কষ্ট

নতুন বছরের সূচনা। ক্রিকেটারদের জন্য এটা অনেক চ্যালেঞ্জিং একটা বছর। এ বছরে রয়েছে অনেক সিরিজ। হাতুরাসিংহে বছরের শেষ সময়ে এসে চলে যাওয়া, দলে পরিবর্তন। বিসিবিতেও নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন মেয়াদে পরিচালকেরা। এমন একটা বছর শুরু হচ্ছে ক্রিকেটারদের কষ্ট নিয়ে।

ক্রিকেটারদের সবচেয়ে অপছন্দের ‘প্লেয়ার বাই চয়েস’ আবারো চাপিয়ে দিচ্ছে বিসিবি। কষ্টটা তাদের এখানেই। গত মওসুমে দলবদল হয়েছিল। যাতে প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেটের দলবদলে খেলোয়াড়েরা পেরেছিলেন পছন্দ মতো দলে খেলতে, প্রত্যাশিত পারিশ্রমিকের শর্তে। সেটা পেয়েছেনও তারা। কিন্তু ক্লাবগুলোর অযৌক্তিক দাবির মুখে বিসিবি তাদের পক্ষে থেকেই খেলোয়াড়দের অপছন্দের ‘প্লেয়ার বাই চয়েস’ চাপিয়ে দিচ্ছে। এতে পছন্দের ক্লাব ও পছন্দসই পারিশ্রমিক লাভে বঞ্চিত থাকবেন তারা। প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেটটা হলো ক্রিকেটারদের রুটি-রুজির লিগ।

বিপিএল বা জাতীয় দলে সব ক্রিকেটারের খেলা বা দল পাওয়া সম্ভবপর হয় না। এমনকি জাতীয় ক্রিকেট লিগেও সবাই স্থান পান না। কিন্তু প্রিমিয়ারে ক্রিকেটারদের সুযোগ থাকে বিভিন্ন কাবের হয়ে খেলার। দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটারদের এতে তেমন সমস্যা নেই। বিপিএল, জাতীয় দল, এনসিএল থেকে বিপুল অর্থ পেয়ে থাকেন। এর বাইরের খেলোয়াড়দের রুটি-রুজির এ লিগ। সারা বছর চেয়ে থাকেন তারা এ লিগ পানে। এখানকার অর্থ দিয়ে অনেকে সংসার, বাব-মায়ের বিভিন্ন খরচও মেটান। প্রত্যাশিত প্রাপ্যটা না পাবেন- তখন মানবেতর জীবনযাপন ছাড়া আর কী উপায়।

বিসিবি ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে প্লেয়ার বাই চয়েসের কথা। এ নিয়ে তৃতীয়বার হচ্ছে এটা। অথচ প্রথমবার যখন এ প্রক্রিয়ার অবতারণা হয় তখন খেলোয়াড়দের প্রচণ্ড দাবির মুখে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন প্রতিশ্রুতি দেন, পরিস্থিতির আলোকে ও কাবগুলোর দুরবস্থার কারণে একবারই শুধু এ প্রক্রিয়ায় দলবদল হবে। আর কখনই এটা হবে না। খেলোয়াড়েরা সেবার বিসিবির সভাপতির কথায় সম্মান দেখিয়ে নিজেদের ক্ষতির স্বীকার করেও মেনে নেয়। কিন্তু তা বার বার।

বিসিবির কন্ট্রাক্ট রয়েছে ক্রিকেটারদের সাথে। বাইন্ডিংস রয়েছে অনেক কিছুতে। চাইলেই তারা সব কিছু মুখ ফুটে বলতে পারেন না। এতে ক্যারিয়ারের জন্য বিশাল সমস্যা। ফলে এবারের ঘোষণায় তারা ফুঁসছেন। প্রকাশ না করার শর্তে বলছেন অনেক কিছু, যা ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কারণ জাতীয় দল বা জাতীয় দলের আশপাশে থাকা ক্রিকেটারই ভবিষ্যৎ নয়। ক্রিকেট ও জাতীয় দলের স্বার্থে সব ক্রিকেটারকেই প্রয়োজন। এতে সুযোগ হয় সেরা পারফরমারকে বেছে জাতীয় দলে নিয়ে আসার। অর্থই যদি না পান, তাহলে ভবিষ্যতে এখানে ক্রিকেটার সঙ্কট দেখা যাওয়া স্বাভাবিক। এটা জাতীয় দলের জনও মারাত্মক হুমকি।

ক্রিকেটার্স ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) বরাবরই এটা নিয়ে সোচ্চার। যদিও এর শীর্ষভাগে থাকা ব্যক্তিরা বিসিবির সাথেই জড়িত। তারাও মুখ ফুটে বলতে পারেন না অনেক কিছুই। নিউজিল্যান্ডে অনূর্র্ধ্ব-১৯ দলের সাথে ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালনরত থাকা ক্রিকেটার্স ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন বিষয়টা নিয়ে বেশ কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে বিসিবির সাথে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যৌক্তিক বিষয়গুলো তুলে ধরছি। দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের কথাও আমাদের চিন্তা করতে হবে। একজন ক্রিকেটার আগের মওসুমে ৩০ লাখ টাকায় খেলেছেন। এবার যদি তিনি ৬০ লাখ দাবি করে বসেন এটা যেমন অযৌক্তিক। তেমনি ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের ওপর খড়গ বসিয়ে দেয়াটাও অযৌক্তিক। আমাদের সব দিকটাই দেখতে হবে। এটা তো সত্যি দেশের ক’টা কাব রয়েছে যাদের পক্ষে কোটি কোটি টাকার বাজেট গড়ে প্রিমিয়ার লিগে দল গঠন করার। দেশের প্রেক্ষাপট কী এখন তেমন? ক্লাবগুলো যাতে বেঁচে থাকে সেটা যেমন দেখতে হবে। তেমনি ক্রিকেটাররাও যেমনভাবে বেঁচে থাকেন সেটাও লক্ষ্য রাখতে হবে। আসলে একটা আরেকটার সম্পূরক।’

দেবব্রত বলেন, ‘আমরা বাস্তবতার আলোকেই প্রস্তাব করেছি। গত বছরের দলবদলে খেলোয়াড়েরা যে পরিমাণ অর্থ পেয়েছে এবার তার সাথে ১০ থেকে ১৫ ভাগ বাড়িয়ে যাতে দেয়া হয় সে বিষয়টা। এটা যৌক্তিক। ইতোমধ্যে বিসিবি মৌখিকভাবে এ যুক্তির সাথে একমত প্রকাশ করেছেন। এটা হলে কেউই ঠকবে না। এটা তো ঠিক, গত বছরের চেয়ে দেশের সব জিনিসপত্রে এমন দাম বাড়েনি যে সেটা ডাবল হয়ে যাবে। ১০ বা ১৫% বাড়লে সেটা মনে হয় সবার জন্য উপকারী। আমরা ইতোমধ্যে কোন খেলোয়াড় কোন কাবে কত পেয়েছে সেটা উদ্ধারের চেষ্টা করছি। আশা করি, ভালো একটা সমাধান হয়ে যাবে। দুই পক্ষই খুশি থাকবে এবং ক্রিকেট তার নিজস্ব গতিতে এগোবে।’ উল্লেখ্য, জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.