ভূমিমন্ত্রী পরিবারের বিরুদ্ধে বাড়ি দখল ও লুটপাটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

পাবনা সংবাদদাতা

ভূমিমন্ত্রীর পরিবার ও তাদের ক্যাডারদের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাড়ি দখলের অভিযোগ করেছেন তাজনুবা তাজরীন নামের এক নারী।

আজ রোববার দুপুরে পাবনা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়ি ছাড়া হয়ে প্রাণ ভয়ে বর্তমানে অন্যত্র অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানায় বার বার অভিযোগ করেও কোন ফল প্রতিকার পেয়ে আদালতে মামলা করেছেন তিনি। ভূমিমন্ত্রী পত্নীর ইশারায় পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেফতার না করে দায়সারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার পিয়ারাখালী মহল্লার বাসিন্দা তাজনুবা তাজরীন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ভূমিমন্ত্রী পত্নী কামরুন্নাহার শরিফের ঘনিষ্ট সহযোগী শামিমা আকতার বেবী নামের এক প্রতিবেশীর সাথে টাকা ধার দেয়াকে কেন্দ্র করে মন্ত্রী পরিবারের রোষাণলে পড়েন তিনি। ধার দেয়া টাকা ফেরত চাইলে ভূমিমন্ত্রী পত্নীর নির্দেশে মন্ত্রীপুত্র তমালের ক্যাডার বাহিনীর অন্যতম তুষার মন্ডল, শান্ত, রাজিব সরকার, শিহাবসহ একদল সন্ত্রাসী গত ২৮ নভেম্বর অস্ত্রের মুখে পরিবারের সবাইকে জিম্মী করে বাসার সব মালামাল লুট করে ট্রাক যোগে নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য চার লক্ষাধিক টাকা। এর প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা আমার স্বামী চার বছরের শিশু সন্তানসহ আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে থানায় মামলা করতে গেলে থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে উল্টো আপোষের পরামর্শ দেন। পরে ন্যায় বিচারের স্বার্থে আদালতের শরনাপন্ন হই। পাবনার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিটিশন (দ্রুত)-১০/২০১৭ দায়ের করি। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। ভূমিমন্ত্রীর প্রভাবে তার স্ত্রী কামরুন্নাহার শরিফ পুলিশকে প্রভাবিত করে তদন্ত প্রতিবেদন বাধাগ্রস্ত করে। এ ছাড়াও মামলার বিষয়টি জানা জানি হওয়ায় ভূমিমন্ত্রীর ছেলে তমাল বাহিনীর ক্যাডার তুষার আমার মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এবং মামলা তুলে নেয়া না হলে আমার পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে।

এদিকে তাজনুবা তাজরীনের অভিযোগ সম্পর্কে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিম উদ্দিন জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বিস্তারিত বলার তেমন কিছুই নেই।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.