ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৮ জানুয়ারি ২০১৮

রাজশাহী

রাবিতে ক্রিকেট খেলা নিয়ে দ্বন্দ্ব : ৩ শিক্ষকও লাঞ্ছিত

রাবি সংবাদদাতা

৩১ ডিসেম্বর ২০১৭,রবিবার, ১৮:২৪


প্রিন্ট
রাবিতে ক্রিকেট খেলা নিয়ে দ্বন্দ্ব : ৩ শিক্ষকও লাঞ্ছিত

রাবিতে ক্রিকেট খেলা নিয়ে দ্বন্দ্ব : ৩ শিক্ষকও লাঞ্ছিত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা ও ফাইন্যান্স বিভাগে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে মারধরের হাত থেকে ছাত্রদের বাঁচাতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন তিন শিক্ষক। এছাড়া ৮ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ১০ টা থেকে আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট খেলার প্রথম সেমিফাইনালে বিশ্ববিদ্যালয় ফাইন্যান্স বিভাগ ও ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় ৬০ রানে ফাইন্যান্স বিভাগকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে যায় ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের দল। খেলা শেষে উল্লসিত ভূগোল বিভাগের দলের সদস্যরা আনন্দ উপভোগ করতে গেলেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থীরা ভূগোল বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকে হাতে থাকা ব্যাট দিয়ে মারধর শুরু করেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের মারধর করতে থাকলে বাধা দেন ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা ড. মিজানুর রহমান, সাবেক সহকারী প্রক্টর জিহাদ আহমেদ, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্যাহ আল মারুফ। এসময় শিক্ষকদেরকে লাঞ্ছিত করেন ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলে দাবি করেন ঘটনাস্থলে থাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে থাকা ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী এরশাদুর রহমান রিফাত, সজল (রাবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি) নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতা সমীরণ কুমার মণ্ডল, তন্ময়, মেহেদী হাসান তায়েব কিসের এত আনন্দ- বলে মারধর শুরু করে ভূগোল বিভাগের শিক্ষার্থীদের। বাধা দিতে গেলে আমার হাতে ব্যাটের আঘাত লাগে। মোবাইলটিও ভেঙ্গে যায়।

এদিকে মারধরে বিভাগের শিক্ষার্থী আলমগীর, শান্ত, কিবরিয়া, তারেক, আশিকুর রহমান জীম আহত হয়েছেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান।

অন্যদিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ, তিনজন সহকারী প্রক্টর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন কিন্তু তারা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন বলে দাবি করেন ভুগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

জানতে চাইলে ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. রুস্তম আলী আহমেদ বলেন, খেলা শেষে একজন আরেকজনকে উদ্দেশ্য করে শীষ দিয়েছে এরকম একটা ঘটনার মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে এবং আমাদেরও তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে জানতে পেরেছি।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছিল। খবর পেয়ে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে মিমাংসা করা হয়েছে।

রাবির শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালার পরিবর্তন
রাবি সংবাদদাতা
আবারো পরিবর্তন আসছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক নিয়োগ নীতিমালায়। এরই মধ্যে প্রভাষকের যোগ্যতার বিষয়ে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেখানে কমিয়ে আনা হচ্ছে মোট সিজিপিও। এনিয়ে গত দুই বছরে দ্বিতীয়বারের মতো পরিবর্তন করা হলো শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে ৪৭৫ তম সিন্ডিকেট সভায় এ নীতিমালা পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় বলে নিশ্চিত করেন সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক কে বি এম মাহবুবুর রহমান।

অধ্যাপক মাহবুব জানান, তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালা পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
১। কলা, চারুকলা ও ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ ক্যাটাগরিতে স্নাতক পর্যায়ে সিজিপিএ-৩.০০ ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৩.২৫।
২। সামাজিক বিজ্ঞান, আইন, ব্যাবসায় শিক্ষা, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট পর্যায়ে স্নাতকে সিজিপিএ-৩.২৫ ও স্নাতকোত্তর- ৩.৫০ এবং
৩। বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ালেখা হয় এমন অনুষদগুলো যেমন বিজ্ঞান, জীব ও ভূবিজ্ঞান, কৃষি, প্রকৌশল অনুষদগুলো থেকে দুইটিতেই সর্বনিম্ন সিজিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে নিয়োগপ্রত্যাশীদের।

এদিকে এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলে দুইটি মিলে ৮ পয়েন্ট থাকতে হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়।
সূত্রে জানা যায়, এর আগে ২০১৫ সালে একবার পরিবর্তন আনা হয় শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায়। সেখানে প্রতিটি বিভাগ বা ইনস্টিটিউটে শিক্ষক নিয়োগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সিজিপিএ-৩.৫০ থাকা আবশ্যক করা হয়। এর আগের নীতিমালায় যেকোনো দুটিতে প্রথম বিভাগ থাকলে আবেদন করা যেত।
এদিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকদের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলমান দ্বন্দ্বের এ পর্যায়ে সভপতির পদ থেকে সরে যেতে হচ্ছে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. নাসিমা জামানকে। পদত্যাগের বিষয়ে অধ্যাপক নাসিমাকে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান অনুরোধ জানাবেন বলে সিদ্ধান্ত হয় একই সিন্ডিকেটে বলে নিশ্চিত করেন সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক কে বি এম মাহবুবুর রহমান।

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫