ভারতের তামিলনাড়ুতে গর্তে পড়া হাতির বাচ্চা উদ্ধার করলেন বনরক্ষী
ভারতের তামিলনাড়ুতে গর্তে পড়া হাতির বাচ্চা উদ্ধার করলেন বনরক্ষী

সন্তানকে বাঁচাতে এমন আচরণ করছিল মা হাতি...

নয়া দিগন্ত অনলাইন

দক্ষিণ ভারতের এক বনরক্ষী জঙ্গলের মধ্যে গর্তে পড়ে যাওয়া একটি হাতির শাবককে উদ্ধার করার পর তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

তামিল নাড়ু রাজ্যের মেট্টুপালায়মের কাছে এক জঙ্গলে এ ঘটনা ঘটে গত ১২ ডিসেম্বর।

পালানিসামি শরৎকুমার নামে ২৮ বছরের এই বনরক্ষী রাতের ডিউটি সেরে বাড়ি যাবার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন। তখন তিনি একটা টেলিফোন পান যে বাণভদ্র কালিয়াম্মান মন্দিরের কাছে একটি মাদী হাতি রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে আছে।

পটকা ফাটিয়ে হাতিটিকে তাড়িয়ে জঙ্গলে ভেতর নিয়ে যাওয়ার সময় পালানিসামি এবং তার সঙ্গীদের নজরে পড়ে যে একটি গর্তের মধ্যে একটি শাবক হাতি পড়ে আছে।

তখন তারা বুঝতে পারেন যে শাবকটি আসলে রাস্তা-আটকানো হাতিটিরই সন্তান এবং সে খাদে পড়ে যাওয়াতেই মা-হাতিটি এমন আচরণ করছিল।

"হাতি শাবকটি ছিল ক্লান্ত এবং বিভ্রান্ত। কয়েকটা বড় পাথর সরিয়ে আমরা চারজনে মিলে সেটাকে বের করে আনলাম" - বলছিলেন শরৎকুমার।

"প্রথমে আমরা চারজন মিলে হাতিটিকে বহন করছিলাম - আমাদের লক্ষ্য ছিল শাবকটিকে রাস্তার ওপারে মা-হাতির কাছে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু মা-হাতিটি আমাদের আক্রমণ করতে পারে এমন আশঙ্কায় আমরা ঠিক করলাম চারজনের পরিবর্তে ঝুঁকি নেবে আমাদের মধ্যে একজন। সিদ্ধান্ত নিলাম, আমিই হাতি শাবকটিকে রাস্তার ওপারে নিয়ে যাবো।"

শরৎকুমার এর পর ১০০ কেজিরও বেশি ওজনের বাচ্চা হাতিটিকে একাই প্রায় ৫০ মিটার দূর পর্যন্ত বহন করে নিয়ে গেলেন, এবং রাস্তার ওপারে একটি ছোট ডোবার কাছে সেটিকে ছেড়ে দিলেন।

অবশ্য কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তারা মা-হাতিটিকে দেখতে পাননি। সম্ভবত লোকজন দেখে হাতিটি আসছিল না। তখন তারা চলে গেলেন।

পরদিন সকালে তারা দেখলেন, হাতি শাবকটি সেখানে নেই, তবে সেখানে বড় আকারের হাতির পায়ের ছাপ রয়েছে। সম্ভবত পরে কোনো একসময় মা-হাতিটি এসে সন্তানকে নিয়ে গেছে।

বন কর্মকর্তার বলছেন, শরৎকুমার উদ্ধার না করলে বাচ্চা হাতিটি বাঁচতো না।

তার হাতি-উদ্ধারের ভিডিও টিভিসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বেরুনোর পর বহু লোক তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে তার প্রশংসা করেছেন অসংখ্য লোক।

তিনি ১০০ কেজি ওজনের হাতিটি তুললেন কি করে? শরৎকুমারকে তার গ্রামের অনেকেই এ প্রশ্ন করেছেন।

শরৎকুমার নিজে ৬ ফুট লম্বা এবং তার ওজন ৮০ কেজি। কিন্তু তিনি বলছিলেন, "হাতিটি বাচ্চা হলেও ভীষণ ভারী ছিল, আমার সবসময়ই ভয় হচ্ছিল এই বুঝি ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গেলাম। আমার সঙ্গীরা অবশ্য পাশেই থেকে সহায়তা করেছে।"

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.