ঢাকা, মঙ্গলবার,১৬ জানুয়ারি ২০১৮

অবকাশ

গল্পটি শীতের

চারাগল্প

ইব্রাহীম রাসেল

৩১ ডিসেম্বর ২০১৭,রবিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

রাফিদের ফোন আসে সকাল সকাল। রীতা বিছানায় আধকম্বল মুড়ি দিয়ে কবিতা পড়ছিল। মহাদেব সাহার কবিতা। কালো মেঘের ওপারে পূর্ণিমা বইটি রাফিদেরই দেয়া। ফোন রিসিভ করে রীতা। রাফিদ বলেÑ একটু বের হতে পারবে এখন? রীতা বলল, কেন নয়। কারণটা কি বলা যাবে রাজামশাই। রীতা ভালোবেসে কখনো কখনো রাফিদকে ‘রাজামশাই’ বলে ডাকে। রাফিদও ডাকে ‘মহারানী’। রাফিদ বললÑ মহারানী বের হও তবে। কিছু শীতের কাপড় কিনতে হবে। দু’জনে একত্রে নিউ মার্কেটে যাই। রীতা আজ নীল শাড়ি পরেছে। নীল রঙ রাফিদের পছন্দ। রীতাকে দেখে মনে হচ্ছে, একখানি নীল আকাশ বাহু মেলে দাঁড়িয়ে আছে। রাফিদ সে আকাশের মুগ্ধতায় বিহ্বল। দু’জনে ঘুরে ঘুরে রীতার পছন্দমতো একটি চাদর, একটি সোয়েটার আর একটি হুডি কিনল। কেনা শেষে রাফিদ বললÑ চলো এবার একটা জায়গায় যাওয়া যাক।
রাফিদদের সিএনজি এসে ওদের বাসার সামনে থামে। রীতা কিছুটা অবাক হয়ে বলেÑ আমাকে বললেই তো পারতে বাসায় আসবে। রাফিদ বলেÑ সিএনজি থেকে নামো, দেখোই না কোথায় যাই। রীতাকে নিয়ে রাফিদ ওদের বিল্ডিংয়ের পাশের রাস্তা দিয়ে পেছনের দিকে একটি বস্তির সামনে এসে দাঁড়ায়। পারুল নাম ধরে ডাকে। পনেরো-ষোলো বছরের একটি মেয়ে বেরিয়ে আসে। পরনে ছেঁড়া জামা। পায়ে ছেঁড়া স্যান্ডেল। গায়ের রঙ তামাটে। রীতার হাত থেকে শীতের পোশাকগুলো নিয়ে পারুলের হাতে দেয় রাফিদ। পারুল পোশাকগুলো পেয়ে এক দৌড়ে মাকে ডেকে নিয়ে আসে বস্তির ভেতর থেকে। দু’জনের চোখেমুখের আনন্দ দেখে নেচে ওঠে বস্তির আকাশ।
রীতার দিকে তাকিয়ে রাফিদ বলেÑ প্রতিদিন বারান্দা থেকে দেখতাম এক টুকরো মোটা কাপড়ের অভাবে মেয়েটির শীতের কষ্ট। মেয়েদের পোশাক কেনার অভ্যাস আমার নেই। কেমন তাদের পছন্দ জানি না। এ জন্যই তোমাকে নিয়ে এলাম।
রাফিদের বড় মনের কথা ভেবে আনন্দ অশ্রুতে রীতার চোখ দুটো চিকচিক করে ওঠে।
তাজমহল রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫