ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৮ জানুয়ারি ২০১৮

বিবিধ

দেশের ইটভাটার ৫০ ভাগই অবৈধ : পবা

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ ডিসেম্বর ২০১৭,শনিবার, ১৮:৪১


প্রিন্ট

সারাদেশে ভাটাগুলোতে চলছে ইট তৈরির কার্যক্রম। ইট তৈরির ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের লাইসেন্সের বাধ্যবাধকতা থাকলেও অধিকাংশ ইটভাটারই সেগুলো নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য এবং পবার মাঠ পর্যায়ের তথ্য মতে ড্রাম চিমনির ভাটাসহ দেশে বর্তমানে ইটভাটার সংখ্যা প্রায় ৯৭০০টি যার প্রায় ৫০ ভাগই অবৈধ। এসব ইটভাটায় আধুনিক প্রযুক্তির পরিবর্তে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণভাবে অবৈধ ড্রাম চিমনি ও ১২০ ফুট উচ্চতার স্থায়ী চিমনির ভাটায় ইট পোড়ানো হচ্ছে। বেশির ভাগ ইটাভাটাই নিয়মবহির্ভূতভাবে স্থাপন করা হয়েছে লোকালয় তথা মানুষের বসতবাড়ি, গ্রাম-গঞ্জ, শহর বন্দরের অতিসন্নিকটে, কৃষি জমিতে, নদীর তীরে, পাহাড়ের পাদদেশে। ইটভাটাগুলো থেকে নির্গত হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে কালো ধোঁয়া। যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

এসব তথ্য উঠে এসেছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের উদ্যোগে এক জরিপে।

পবা’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পবা’র সাধারণ সম্পাদক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান।

উপস্থিত ছিলেন মডার্ন ক্লাবের সভাপতি আবুল হাসানাত, পবা’র সম্পাদক সৈয়দ মাহাবুবুল আলম তাহিন, সহ-সম্পাদক স্থপতি শাহীন আজীজ, সদস্য ইঞ্জিনিয়ার তোফায়েল আহমদ, দিনা খাদিজা, ক্যামেলিয়া চৌধুরী, মো. মাসুম, মো. ইব্রাহিম হোসেন, কানিজ ফাতেমা, মোস্তারি বেগম, বিসিএইচআরডি’র নির্বাহী পরিচালক মাহাবুব হক, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান, সচেতন নগরবাসীর সভাপতি জি এম রোস্তম খান, ডিডাব্লিউএসের সদস্য মারজানা আহমেদ প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, শিল্পকারখানা স্থাপন, আবাসিক ভবন নির্মাণ, নদী ভাঙনের ফলে প্রতি বছর গড়ে দেশের কৃষি জমির এক শতাংশ হ্রাস পাচ্ছে। যা ভবিষ্যতে আরো তীব্রতর হবে। যা কৃষি নির্ভর দেশের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। এতে হুমকির মুখে পড়বে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা।

এছাড়া ইটভাটায় জ্বালানী কাঠ ব্যবহার আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হলেও ড্রাম চিমনিবিশিষ্ট ভাটায় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্যান্য ভাটায় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে জ্বালানি কাঠ। এতে উজাড় হচ্ছে গাছপালা। ঘটছে পরিবেশ বিপর্যয় ও কমে যাচ্ছে বনাঞ্চল। ফলে, পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে এবং অনেক মূল্যবান বিরল প্রজাতির উদ্ভিদও পরিবেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ইট ভাটা সৃষ্ট দূষণ এবং কৃষি উর্বর মাটির অবক্ষয় থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে এ সেক্টরে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনয়ন অত্যন্ত জরুরি।

এতে আরো বলা হয়, ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং ২০১৩ সনের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী ইটভাটার দূষণরোধের মূল দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের উপর ন্যস্ত। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরকে আইন দুটি এনফোর্স করতে দেখা যাচ্ছে না। অধিদপ্তর শুধুমাত্র সচেতনতামূলক কার্যক্রম (মিটিং, সেমিনার, ওর্য়াকশপ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রোনিক মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন প্রচার) করে যাচ্ছে। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হিসাবে আইন দুটি প্রয়োগ না করে শুধুমাত্র সচেতনামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ইটভাটার দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ইটভাটার দূষণরোধে পরিবেশ অধিদপ্তর আইন দুটি যথাযথবাবে এনফোর্স করবে এটাই জনগণের প্রত্যাশা।

ইটভাটা সৃষ্ট দূষণ পরিশে বিপর্যয়, জনস্বাস্থ্য ও কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করছে। দেশে গাছ লাগনো আজ একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আমরা তার কাঙ্খিত সুফল পাচ্ছি না। এর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে ইটভাটায় নির্বিচারে কাঠ পোড়ানো। আধুনিক, পরিবেশ বান্ধব ও জ্বালানী সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার, নির্ধারিত মাত্রার সালফারযুক্ত কয়লা ব্যবহার, জ্বালানী হিসাবে কাঠ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং সংশ্লিষ্ট আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে ইটভাটা সৃষ্ট দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫