ঢাকা, বুধবার,১৭ জানুয়ারি ২০১৮

উপসম্পাদকীয়

রসিক নির্বাচনের নতুন বার্তা

সালাহউদ্দিন বাবর

৩০ ডিসেম্বর ২০১৭,শনিবার, ১৭:৫৮


সালাহউদ্দিন বাবর

সালাহউদ্দিন বাবর

প্রিন্ট

এবার রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচন সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। রংপুর মহানগরীর অধিবাসীরা তাদের পছন্দমতো মেয়র বেছে নিতে পেরেছেন। এর আগে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়েছিল। সে নির্বাচনও অবাধ নিরপেক্ষভাবে হওয়ায় কুমিল্লা মহানগরীর মানুষ পেয়েছিলেন পছন্দের মেয়র। নির্বাচন ভালো হলে জনগণ ও গণতন্ত্র বিজয়ী হয় যদিও হেরে যায় কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা দল। এটাই গণতন্ত্রের সুবাস ও সৌন্দর্য। এই দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে প্রশাসন থেকে কোনো কলকাঠি নাড়া হয়নি বলে নির্বাচন নিয়ে কোনো অভিযোগ ওঠেনি। যদি বাংলাদেশের সব নির্বাচন এমন হতো, তবে এ দেশের নির্বাচনে গণতান্ত্রিক সব বৈশিষ্ট্য পরিস্ফুট হয়ে উঠত। এখন নির্বাচন নিয়ে যে হতাশা, তা আর থাকত না। অতীতে এমন স্বস্তির নির্বাচন হতে দেখা যায়নি। ক্ষমতাসীনেরা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করায় তাতে ভোট হয়েছে বটে, কিন্তু জনগণের স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগটা হারিয়ে গেছে। বিশেষ একটা দল জিতেছে, কিন্তু গণতন্ত্র হেরে গেছে। 

রসিক নির্বাচন নিয়ে সারা দেশেই ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ করা গিয়েছিল। মিডিয়া বেশ আগে থেকেই নির্বাচন নিয়ে সেখানকার পরিস্থিতি তুলে ধরেছে। সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় নানা খবরাখবর প্রকাশ পেয়েছে। রংপুর মহানগরের অধিবাসীরা মেতে উঠেছিলেন এই নির্বাচন নিয়ে। নির্বাচনপর্যবেক্ষকেরা আগ্রহ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছিলেন ভোটের গতিপ্রবাহ। তবে নগরবাসী যে কাকে ভোট দেবেন, এটা ভোটের আগে বোঝা যায়নি। ফলাফল দেখে মনে হয়, রংপুরের অধিবাসীরা ভোটের ব্যাপারে কোনো সাড়া শব্দ না করলেও তারা স্থির সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন, কাকে ভোট দেবেন। আর কোনো বাধাবিপত্তি ছিল না বলে ভোট হয়েছে অবাধ। সবাই যদি নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে, জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে, তবে এ দেশে ভালো নির্বাচন হতে পারে। রসিক নির্বাচন এর উদাহরণ। এই নির্বাচন থেকে নিশ্চয়ই অনেক কিছু বোঝার আছে। আশা করা যায়, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি উপলব্ধি করেছে। বিশেষ করে প্রশাসন তথা সরকারের ভূমিকা যদি নেতিবাচক না হয়, তাহলে ভালো নির্বাচন করা সম্ভব। এখন নির্বাচন কমিশনকে বিবেচনায় নিতে হবে, কীভাবে এটা করা যায়। বিরোধীদলগুলো এমন ভালো নির্বাচন করার স্বার্থেই নির্বাচন সহায়ক সরকারের কথা বলে আসছে জোর দিয়ে। এ বিষয়ে সুরাহার উদ্যোগ নেয়ার জন্য কমিশনের সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই এটা ঠিক। কিন্তু সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হওয়ার জন্য সরকারি হস্তক্ষেপ পরিহার করা উচিত। এই বিষয়টি নিয়ে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া খুবই দরকার। নির্বাচন কমিশন যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারার অর্থ, ভালো ভোট হওয়া। মন্দ নির্বাচনের জন্য এই কমিশন গঠন হয়নি। এ কথা কিন্তু কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হচ্ছে না।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এটা শুধুই সংবিধান ও অন্যান্য আইনের অধীন। সরকার ইসির প্রধান নির্বাচনী কমিশনার ও অন্য কমিশনারকে নিয়োগ দেয় বটে, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির তদারকিও দেখভাল করার এখতিয়ার সরকারের নয়। নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে কমিশনকে সংবিধান পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। কমিশনের যে নেতৃত্ব রয়েছে তাদের নিজ বিচার বিবেচনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে তারা ভালো মানের নির্বাচন করার তথা কারচুপি, টাকার খেলা, পেশিশক্তি প্রভৃতি ব্যবহার বিরত রাখার পুরো ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় জনবল ইসির চাহিদা মতো সরবরাহ করতে সরকার বাধ্য। রাষ্ট্র ইসিকে সব দিয়ে দেয়ার পর বিনিময়ে চাইবে জনগণের পছন্দের মতো নির্বাচন করে নিজেদের দায়িত্ব তারা পালন করবেন। কিন্তু নিকট অতীতে যারা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে ছিলেন, তারা সে দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিলেন। সুষ্ঠু ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সব কিছু থাকার পর এবারের কমিশন নেতারা যাতে আগামী সাধারণ নির্বাচন প্রশ্নমুক্ত করতে পারেন সেই সদিচ্ছা ও উদ্যোগ দেখতে দেশ প্রত্যাশী।

রসিক নির্বাচন সবদিকে শীতল স্রোত প্রবাহিত করলেও গোটা দেশের রাজনীতিতে কিন্তু উষ্ণ স্রোত বইয়ে দিয়েছে। সেখানে নীরব ভোটের যে চেহারা প্রকাশিত হয়েছে তা শুধু তাৎপর্যপূর্ণই নয়, তা বহু হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে। আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে রসিক নির্বাচনে ভোটের যে চেহারা, তাতে অনেক কিছু এখন নতুন করে ভাবতে হবে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর যে নীরবতা লক্ষ করা গিয়েছিল, এখন তাতে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে এ নির্বাচন যে ভাবনায় ফেলেছে, তাতে তাদের সব কিছু নতুন করে বিন্যাস করতে হবে বলে পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন। এখন দেখার বিষয়, আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনের পর কোন স্বার্থকে সমুন্নত করে। জাতির বা দেশবাসীর স্বার্থকে বিবেচনায় নেয়, না দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। রসিক নির্বাচন ভবিষ্যতে তাদের ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য উৎসাহিত করবে, নাকি দলীয় স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠবে। বোধ করি আওয়ামী লীগ মনে করেছিল, রসিক নির্বাচনে তাদের ‘উন্নয়ন’-এর কার্ড কাজ করবে। কিন্তু রংপুর নগরবাসীর মন হাসেনি সেই উন্নয়নের কার্ডে।

রসিক নির্বাচন জাতীয় পার্টি ও তাদের নেতা এরশাদের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। এই দল ও তাদের নেতার অবস্থান যে রংপুরে এখনও অটুট রয়েছে তার প্রমাণ পাওয়া গেল। আওয়ামী লীগের সহযোগী হয়েও জাতীয় পার্টি তাদের গুরুত্বটা সবার কাছে বৃদ্ধি করতে পেরেছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পুনরায় জাতীয় পার্টির সাথে আঁতাত অটুট রাখার ব্যাপারে এখন গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে। বিশেষ করে রংপুর বিভাগে জাতীয় পার্টির সাথে নির্বাচনী জোট গঠনের বিষয়টিকে আওয়ামী লীগ গুরুত্ব দেবে। জোট গঠনে দরকষাকষিতে জাতীয় পার্টি এখন ভালো অবস্থানে থাকবে। রংপুর বিভাগে জোট হলে জাতীয় পার্টির আর যেসব ছোটখাটো পকেট রয়েছে, সেখানে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে তারা সুবিধা আদায় করবে। স্মরণ করা যেতে পারে, বিগত বিতর্কিত নির্বাচনের সময় জাতীয় পার্টি তাদের মিত্র আওয়ামী লীগের সাথেই ছিল। অন্যদিকে, রংপুর বিভাগ ভিন্ন সারা দেশে জাতীয় পার্টির তেমন কোনো তৎপরতা নেই। সংসদে জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের আসনে বসেছে বটে, কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে তারা আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভায়ও রয়েছে। তাই এই দলের স্বরূপটি পরিষ্কার নয়।

আওয়ামী লীগ রসিক নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে খানিকটা হকচকিত হয়েছে। তাদের ধারণা ছিল, তাদের মেয়র প্রার্থী দ্বিতীয় দফা নির্বাচন করছেন, তার পেছনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রয়েছে! আর তা ছাড়া, উন্নয়নের মোহনীয় চিত্র তারা বারবার তুলে ধরছেন। এতে মানুষের মন ভরবে বলে। কিন্তু তা হয়নি বিধায় তারা হোঁচট খেয়েছেন। তাই আগামী জাতীয় সাধারণ নির্বাচন নিয়ে পূর্বের কৌশল পরিবর্তন করা হতে পারে। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত সেই কথিত নির্বাচনে আওয়ামী ও জাতীয় পার্টি ঐক্য করেছিল। সম্প্রতি দুই দলের কথাবার্তায় তারা ২০১৮ সালের নির্বাচনে মিত্রতা বজায় রাখবে কিনা তা বোঝা যাচ্ছিল না। এখন আওয়ামী লীগ অবশ্যই বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় নেবে। এর আগে সরকারি দল লক্ষ করেছে, খুলনা, কুমিল্লা, বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত হয়েছিল। তার ফল হয়েছিল যে, সবক’টি সিটি করপোরেশনে বিএনপি বিজয়ী হয়েছিল, শেষে রংপুরেও ক্ষমতাসীনদের প্রার্থী প্রায় এক লাখ ভোটে হেরে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে আগামী জাতীয় নির্বাচনে তারা কোন পথ ধরে, তা গণতন্ত্র তথা অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য হবে কিনা, একটি বড় প্রশ্ন বটে। আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বারবার এটা বলে চলেছেন, তারা আগামীতে ক্ষমতায় আসবেনই, রাজনীতি কোনো দাতব্য বিষয় নয় যে, রাজনীতিকেরা কোনো কিছু আশা না করেই দল করবেন। নির্বাচনের আগে তারা অবশ্যই ক্ষমতায় যাওয়ার অভিলাষ ব্যক্ত করতে পারেন। কিন্তু সেই অভিলাষ প্রকাশের সাথে ছোট্ট একটা ‘যদি’ যোগ দেয়া আবশ্যক। বলতে হবে, ‘যদি’ জনগণ আমাকে নির্বাচিত করে। তা না হলে এতে একটা জবরদস্তির গন্ধ থাকবে, যা ভয়ের কারণ।

প্রধান বিরোধী দল বিএনপিরও রসিক নির্বাচন থেকে অনেক কিছু বোঝার রয়েছে। প্রথমত, তারা যে সরকারি প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের দাবি করে, এই দাবি যথার্থ। সরকারি প্রভাবমুক্ত থাকার কারণে বিগত অনেক সিটি করপোরেশনের অবাধ নিরপেক্ষ হয়েছে এবং ফলাফল সরকারি দলের প্রতিকূলে গেছে।
এখন বিএনপি তাদের সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জোরদার করা, ‘নির্বাচন সহায়ক’ সরকারের অধীনে তা অনুষ্ঠানের বিষয়টি জনপ্রিয় করার জন্য কাজ করা দরকার। ক্ষমতাসীন দল এ দাবি সহজে মেনে নেবে না। তাই এতে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, তা মোকাবেলার জন্য কৌশল আঁটতে হবে। দ্বিতীয়ত, রসিক নির্বাচন প্রমাণ করেছে রংপুরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে বিএনপির ব্যাপক সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে। রংপুর শহরে এবং এ বিভাগের জনগণ বিএনপির প্রতি যে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে, তা পরিষ্কার। এই শহর ও বিভাগে দলটির নেতারা যে দীর্ঘ দিন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নির্লিপ্ত, তা তারা ঢেকে রাখতে পারবেন না। বিএনপির মেয়র প্রার্থী বিরাট ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। তা বিএনপির ভাবমর্যাদায় আঘাত করেছে। স্থানীয় নেতাদের এই পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে এর প্রতিবিধান করা উচিত অবিলম্বে। বিগত দিনে এই বিভাগে বিএনপির অবস্থা এতটা নাজুক ছিল না।

প্রধানত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপ-নির্বাচনও এসে যাচ্ছে। রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ইসির জন্য একটি বড় পরীক্ষার বিষয় ছিল। তেমনি ঢাকার উপ-নির্বাচনের গুরুত্ব অনেক। এখানে যাতে ভালো নির্বাচন হয়, সেদিকে ইসিকে দৃষ্টি দিতে হবে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তাদের প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করে ফেলেছে। রাজধানীর এই ভোটযুদ্ধের দিকে ঢাকার বিশাল জনগোষ্ঠী তাকিয়ে আছে। এখানে বিজয়ী হওয়ার জন্য সবাই সর্বশক্তি নিয়োগ করবে। প্রার্থী ও তাদের সমর্থক শুভাকাক্সক্ষীরা বিজয়ী হওয়ার জন্য যারপরনাই মরিয়া হয়ে উঠবেন। এতে নির্বাচনী বিধিবিধান ভঙ্গের আশঙ্কা অনেক। এটা রুখতে তাই ইসিকে কঠোর হতে হবে। রংপুরের মতো ঢাকাতেও যাতে ইসির মুখ উজ্জ্বল হয়, সেদিকে তাদের মনোযোগ রাখতে হবে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে দেশের মানুষের পাশাপাশি, বিদেশীরা তীক্ষè নজর রাখবেন। এই নির্বাচনের প্রভাব সাধারণ নির্বাচনেও পড়বে। সরকারি দল রংপুরে যেমন ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে ঢাকাতে তারা সেই ভূমিকাই রাখবেন বলে আশা করা যায়।

নির্বাচন হতে যাচ্ছে, নগরবাসী ভোট দেবে। মেয়র বিজয়ী হয়ে ক্ষমতার চর্চা করবেন। কিন্তু জনগণ তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি মতো সেবা পাচ্ছে কিনা, নাকি যে দুর্ভোগ রয়েছে তা বহাল থাকবেÑ এ সবের তত্ত তালাশ হয় না। ঢাকা পৃথিবীর বড় শহরগুলোর একটি। ঢাকাবাসী যাতে সেবা পায় এবং তাদের খোঁজখবর নেয়ার জন্য, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দু’ ভাগ করে দেয়া হয়েছে। এখন দু’জন মেয়র ঢাকার দেখা শোনা করেন। এই ভাগ করার পর কি দেখভাল পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে? মেয়রদের অফিস কী বলবে, জানি না। কিন্তু নগরবাসীর অভিযোগ ক্রমশ এই শহর বাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

রাস্তাঘাটগুলোর অবস্থা অনেকটা আগের মতোই। ঢাকা বিস্তৃত হচ্ছে প্রতিদিন। অপরিকল্পিত এই প্রসার হাজারও সমস্যার সৃষ্টি করছে। যানবাহন চলাচলের যন্ত্রণা, খাবার পানির অপ্রতুলতা, বিপর্যস্ত পরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা ও বিনোদনের অপ্রতুলতা, কিছুরই সুরাহা নেই।

যাক, আমরা ফিরে যাই রসিক নির্বাচন প্রসঙ্গে। একটি ভালোমানের নির্বাচন করানোর জন্য ইসি ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। এ জন্য তারা পরিশ্রম করেছেন, তার ফলও পাওয়া গেছে। রসিক নির্বাচনে কমিশন অনেকটা স্বেচ্ছায় ইভিএম পদ্ধতি পরীক্ষা করার চেষ্টা করেছে। বহু আগে থেকে বলা হচ্ছিল, কারিগরি জটিলতার কারণে এটা আপাতত চালু সম্ভব নয়। সম্ভবত কিছুটা গোঁ ছিল কমিশনের, তাই তারা ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আগের বলা কথামতো, যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ায় সে ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল। রসিক নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী ও তার দলকে অভিনন্দন। রংপুর মহানগরীর অধিবাসীদের মন তারা জয় করেছেন। এই শুভেচ্ছার কথা স্মরণে রেখে যাতে তারা শহরের মানুষের উপযুক্ত সেবা যত্ন করতে পারেন, সেটা কামনা করছি। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইসির ভূমিকা খাটো করে দেখা যায় না, সেইসাথে ক্ষমতাসীন সরকারের ভূমিকার কথাও স্মরণ করা উচিত। সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার ক্ষেত্রে তারা কোনো বাধার সৃষ্টি করেননি। সে জন্য তাদেরও ধন্যবাদ। ঢাকা সিটি করপোরেশনের উপ-নির্বাচনও রংপুরের অনুরূপ সুষ্ঠু হবে, এই ভরসা করা যায় এখন। নির্বাচন নিয়ে যে হতাশা মানুষের ছিল আর যাতে তা আর না থাকে, সেটাই কামনা করছি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫