ঢাকা, সোমবার,২২ জানুয়ারি ২০১৮

মতামত

অবরুদ্ধ জেরুসালেম

তোফাজ্জল হোসাইন

২৮ ডিসেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৭:১৯


প্রিন্ট
অবরুদ্ধ জেরুসালেম

অবরুদ্ধ জেরুসালেম

আল-কুদস তথা জেরুসালেম আজ ইহুদিদের কবলে, মুসলিম বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন। মুসলমানদের প্রথম কিবলা আজ দখলদার ইহুদিদের আগ্রাসনের শিকার। মুসলিম বিশ্বের চোখের সামনে কাঁদছে জেরুসালেম, কিন্তু দিশেহারা মুসলমান অসহায়ের মতো বসে আছে। জেরুসালেম ফিলিস্তিনের একখণ্ড ভূমি, এটি সর্বোৎকৃষ্ট পুণ্যময় বরকতের পাদপীঠ। জেরুসালেম নিয়ে মুসলমানদের সব মাজহাব একমত। আজ সেই জেরুসালেম নিয়ে মুসলিম বিশ্ব নিন্দা প্রতিবাদে উত্তাল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পূর্ণ অন্যায়, অবৈধ ও আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে পবিত্র জেরুসালেম নগরীকে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের রাজধানী রূপে ঘোষণা করেছেন। এতে করে ১৫০ কোটি মুসলমানের যেন কলিজায় আগুন দিয়েছেন। জেরুসালেম মুসলমানদের প্রথম কিবলা, যার দিকে মুখ করে রাসূল সা: ও তার সাহাবিরা নবুওয়াতের প্রথম দশম বছর মক্কায় নামাজ ফরজ হওয়া থেকে শুরু করে মদিনায় হিজরত করার পর ১৬ মাস নামাজ আদায় করেছেন।

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ফারুক রা:-এর সময় উদ্ধারকৃত এই আল-কুদস খ্রিষ্টজগতের ক্রুসেডের আক্রমণের শিকার হয়ে প্রায় দেড় শ’ বছর পদানত ছিল তাদের। গাজী সালাহউদ্দিন আইয়ুবী পুনরায় ক্রুসেডার দখলদারদের হাত থেকে দখলদার পবিত্র আল-আকসাকে মুক্ত করে ছিলেন। আজ আবার ইহুদিচক্র, তথা ইসরাইলের দখলে ইসলামি ঐতিহ্যবাহী জেরুসালেম। বিশ্বের খ্যাতিমান চিন্তাবিদ ড. ইউসুফ কারজাভি বলেছেন, আল-কুদস অথবা জেরুসালেম ফিলিস্তিনিদের একার নয়, যদিও তারা এর সবচেয়ে বেশি হকদার। এটি আরবদের একার নয়, যদিও তারা এর হিফাজতের প্রথম লোক। এটি হচ্ছে সব মুসলমানের।’ দুনিয়ায় একেবারে পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণে সে মুসলিম শাসক হোক বা প্রজা, শিক্ষিত বা অশিক্ষিত, ধনী কিংবা দরিদ্র, পুরুষ অথবা মহিলা জেরুসালেম সবার। প্রত্যেক মুসলমানের যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। জেরুসালেমে অবস্থিত মসজিদে আকসায় গিয়ে সব নবী-রাসূলের সাথে মিলিত হয়ে নামাজের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব রাসূল সা:।

ইসলামের দৃষ্টিতে জেরুসালেম তৃতীয় সম্মানজনক শহর। প্রথম শহর মক্কা, হেরেম শরিফের কারণে, দ্বিতীয় শহর মদিনা মসজিদে নববীর কারণে। জেরুসালেম মসজিদে আকসার কারণে মর্যাদাপূর্ণ। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল নামে বিষফোঁড়ার জন্ম দিয়ে অশান্তির দাবানল জ্বালিয়ে দেয় আরববিশ্বে। ১৯৬৭ সালে মাত্র ছয় দিনের যুদ্ধে ফিলিস্তিনের অনেক এলাকা দখল করে ইহুদিরা। ১৯৯৭ সালে এর ৩০ বছর পূর্তি পালন করে। হাজার হাজার ফিলিস্তিনি যুবক ইট-পাটকেল দিয়ে ইসরাইলের কামানবাহী সৈন্যের জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছে। এতে করে শহীদ হচ্ছে ফিলিস্তিনি যুবকেরা। নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করে মুসলমানদের আবার বিক্ষুব্ধ করে দিয়েছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিশেষত, ইহুদি শরণার্থীদের আশ্রয় হয়ে ওঠে জর্দানসংলগ্ন অঞ্চল। ১৯৪৮ সালে ইহুদিরা নিজেদের স্বাধীন দাবি করে সন্ত্রাসের মাধ্যমে দখল করতে শুরু করে আশপাশের এলাকা। ধর্মীয় ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর জেরুসালেম মুসলমানদের কাছ থেকে ওরা দখল করে নেয়। জেরুসালেম নগরী ইসরাইল-ফিলিস্তিন সঙ্কটের কেন্দ্রবিন্দু। দশকের পর দশক ধরে এই অঞ্চলে চলছে সহিংসতা।

ইহুদিদের হামলায় রক্তে রঞ্জিত পবিত্র ভূমি জেরুসালেম। পৃথিবীর ৫৭টি মুসলিম দেশ তবুও ঐক্যবদ্ধভাবে কোনো ভূমিকা না রাখার কারণে আজ এই অবস্থা। তাই ট্রাম্প জেরুসালেম সংক্রান্ত অযৌক্তিক দায়িত্বজ্ঞানহীন ঘোষণা দিতে কোনো দ্বিধা করতে হয়নি। হিটলারের উত্থান বিশ্বকে পাল্টে দিয়েছিল। আজ আবার বিশ্বকে অশান্ত করতে নব্য হিটলারের জন্ম। তারা ভালো করেই জানে মুসলমানদের প্রতিবাদ না পারবে তাদের টলাতে, না পারবে তাদের পদক্ষেপকে বাধাগ্রস্ত করতে। মুসলমানদের এমন আজ শক্তিশালী নেতা নেই যিনি আমেরিকার মুখের ওপর হক কথা বলবেন এবং জালেমের জুলুমকে ভয় পাবেন না।

আজ জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন নেই, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে না আছে কোনো জোরালো কণ্ঠস্বর, বিশ্বের ৬০০ কোটি মানবের ওপর দানবের মতো দাবার ঘুঁটি চালছে আমেরিকা। বিশ্ব মোড়লদের কালো থাবা যাকে ইচ্ছা মারছে। মুসলমানরা যদি একজোট হয়ে সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে, তাহলে ইহুদিবাদী ইসরাইলের হৃদয়ে কম্পন শুরু হবে; মুক্ত হবে মুসলিমদের প্রথম কিবলা পবিত্র জেরুসালেম।

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫