নগরজুড়ে মশার উৎপাত থামাতে পারছে না চসিক

অতিষ্ঠ নগরবাসী
নূরুল মোস্তফা কাজী চট্টগ্রাম ব্যুরো

শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথেই যেন বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বাড়ছে মশার উৎপাত। সিটি করপোরেশনের প থেকে পর্যাপ্ত এবং নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর দাবি করা হলেও মশার উৎপাত থেকে নাগরিকদের স্বস্তি দিতে ব্যর্থ হচ্ছে করপোরেশন। ফলে একদিকে মশার কামড়ে অতিষ্ঠ, অন্যদিকে মশাবাহিত নানা রোগের শঙ্কায় পড়ছে নগরবাসী।
সংশ্লিষ্টতের মতে, এমনিতেই নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত মশার প্রজনন বৃদ্ধি পায়। এর উপর শীতকালে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নালা-নর্দমায় পানির স্থিরতা বেড়ে যায়। ফলে মশার প্রজনন হারও অন্য সময়ের তুলনায় বাড়ে। চিকিৎসকদের মতে শীতকালে স্বাভাবিক কারণেই মশার উপদ্রব বাড়ে এবং এ সময় ম্যালেরিয়া ও চর্ম রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। বিশেষ করে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ও চর্ম রোগের প্রকোপ অত্যধিক হয়।
শীতের তীব্রতা যখন একটু একটু করে বাড়ছে, মশার উৎপাত এর চেয়ে কয়েক গুণ বাড়ছে। সন্ধ্যা নামলেই বাসাবাড়িতে স্থির থাকা যেমনি কঠিন হয়ে পড়েছে, তেমনি দিনের বেলায়ও মশার উৎপাত থেকে রেহাই মিলছে না নগরবাসীর। ুব্ধ নাগরিকরা করপোরেশন কর্তৃক ছিটানো ওষুধের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের বক্তব্য হলো করপোরেশন যদি নিয়মিতই ওষুধ ছিটিয়ে থাকে তাহলে মশার প্রজনন ঠেকানো যাচ্ছে না কেন?
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, সারা দেশে চিকনগুনিয়া জ্বরের বিস্তারের পরিপ্রেেিত গত জুলাই মাসে মশক নিধনে দুই মাসের ক্রাস প্রোগ্রাম শুরু করেছিল চসিক। ওই কর্মসূচির পুরো সময়জুড়েই চট্টগ্রাম নগরীতে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়। ফলে পানি প্রবহমান থাকায় সে সময় মশার প্রজনন তেমন হয়নি। কিন্তু বৃষ্টির মওসুম শেষ হওয়ার পর সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে মশার উৎপাত বেড়ে গেছে। এ দিকে নগরীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, চিকিৎসকের চেম্বারে মশাবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বাড়ছে। মশার উৎপাত থেকে বাঁচতে বাজারে থাকা বিভিন্ন কয়েল ও স্প্রে ব্যবহারেও নিস্তার মিলছে না উল্লেখ করে নাগরিকরা জানান, করপোরেশনের প থেকে মশক নিধনে কার্যকর উদ্যোগ না নেয়ায় স্বাস্থ্য ঝুঁকির পাশাপাশি আর্থিক ব্যয়ও বেড়েছে।
চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগে মশক নিয়ন্ত্রণে বর্ষা মওসুম ছাড়া বছরের অন্য দিনগুলোতে নালা-নর্দমায় ‘লাইট ডিজেল এবং লিমব্যাক’ (লাল তেল নামে পরিচিত) নামক মশার ডিম ধ্বংসকারী একটি তেল ছিটানোর ক্রাশ প্রোগ্রাম নগরজুড়ে দৃশ্যমান ছিল। কিন্তু এই কার্যক্রম এখন দৃশ্যমান নয় বলে নাগরিকদের অভিযোগ।
তবে সিটি করপোরেশনের অপর একটি সূত্র ওষুধ ছিটানোর চেয়ে মশার প্রজননত্রে খাল ও নালা পরিচ্ছন্ন রাখাকে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলছে। কিন্তু সে েেত্রও যথাযথভাবে নালা-নর্দমা, ডোবা ও খাল পরিষ্কার না হওয়ায় কাক্সিত ফলাফল মিলছে না বলে সূত্র জানায়। সিটি করপোরেশনের প থেকে মশক নিধন কার্যক্রম চালু থাকার কথা বলা হলেও নগরজুড়ে মশার উৎপাত অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। পর্যাপ্ত মেশিন এবং লার্ভিসাইড (মশার ডিম ধ্বংসকারী ওষুধ) এবং এডালটিসাইড (পূর্ণবয়স্ক মশা ধ্বংসকারী ওষুধ) থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী বর্ষা মওসুম পর্যন্ত ওষুধ ছিটানোর কাজ চালিয়ে যাবে সিটি করপোরেশন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.