ব্যাচেলরের রুটিন

তারেকুর রহমান

দুপুর ১২টা : প্রেমিকার ফোন পেয়ে ঘুম থেকে ওঠা। চিৎকার-চ্যাঁচামেচি শোনার পর কিছুটা আড়মোড়া ভেঙে চুপ করে বসে থাকা। বিছানা থেকে উঠতে আরো আধা ঘণ্টা দেরি। এরপর আস্তে আস্তে উঠে ফ্রেশ হয়ে নেয়া। কপালে যে দুঃখ আছে তার একটা ট্রেলার ঘুম থেকে ওঠার পরই দেখে নেয়া হয়ে গেছে।

বেলা ১টা : সকালের খাবার খাবে নাকি দুপুরের খাবার খাবে তা নিয়ে এক টেনশনে ভোগে ব্যাচেলর। এরপর একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে খাওয়া শুরু করে। আলুর গোল্লাগুলো তাকিয়ে থাকে তারপরও কিছু করার নাই। কারণ পকেটের দুঃসময় চলছে। তা ছাড়া বিকেলেই প্রেমিকার কাছে গিয়ে সর্বস্ব হারাতে হবে। এ কথা ভাবতেই গলায় ভাত আটকে যায়।

বেলা ২টা : একটু ফেসবুকে চোখ বুলিয়েই চ্যাটিংয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়া। দ্রুত প্রেমিকাদের আপডেট জেনে নেয়া। কার কী অবস্থা কখন বের হতে হবে তা ঠিক করে নেয়া। এরপর আরেক দফা ঘুমে আচ্ছন্ন হয় ব্যাচেলর।

বিকেল ৪টা : ঘুম থেকে উঠে শিডিউল দেখে নেয় আজ কখন কার সাথে ডেটিং আছে। এরপর সন্ধ্যা পর্যন্ত তার ডেটিং চলে। পকেটের অবস্থা কাহিল করা পর্যন্ত ডেটিং চলবে।

সন্ধ্যা ৬টা: ডেটিং শেষ করে মন খারাপ করে এসে বন্ধুদের সাথে এক আড্ডা শুরু হয়। দুনিয়ার যত আলাপ আছে তা সেরে নিতে হয়। বন্ধুদের টিটকারিগুলো মাথা পেতে মেনে নিতে হয়।

রাত ১০টা : আস্তে আস্তে বাসায় ফেরে ব্যাচেলর। হঠাৎ তার মনে হয় সে কাস করেনি। সামনে পরীা এখন তাকে শিট কালেক্ট করতে হবে। এরপর সবাইকে ফোন দিতে থাকে। এদিক-সে দিক করে শিট কালেকশন করে সুন্দর করে টেবিলের ড্রয়ারে রেখে দেয়। পড়ার এত সময় কই?

রাত ১২টা : রাতের খাবার খাওয়ার দারুণ সময় হলো এখন। খেতে গিয়ে দেখে তরকারির বাটি খালি। ভাতের পাতিলের অবস্থাও ভালো না। কী আর করার। যা আছে তাই দ্রুত খাওয়ার পর বাকি কাজ করতে হয় ব্যাচেলরের।

রাত সাড়ে ১২টা : এই সময় থেকেই চ্যাট, ভিডিও কলিং ইত্যাদি শুরু হয়। প্রেমিকাদের সন্তুষ্ট রাখার দারুণ সময় হলো মধ্যরাত। এই চ্যাটিং একদম ভোর পর্যন্ত চলে।

ভোর ৬টা : ৬টা বাজলেই ব্যাচেলরের আস্তে আস্তে ঘুম আসতে শুরু করে। এই সময় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লাগলেও তার ঘুম ভাঙবে না। সে হারিয়ে যায় ঘুমের অতল গহ্বরে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.