ঢাকা, মঙ্গলবার,১৬ জানুয়ারি ২০১৮

দেশ মহাদেশ

২০১৭ : সংঘাত ও অস্থিরতার বছর

মীযানুল করীম

২৮ ডিসেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

প্রতি বছরই শুধু নয়, প্রত্যেক মাসে ও সপ্তাহেÑ এমনকি প্রতিটি দিনেই বিশ্বের সর্বত্র নানান ঘটনা ঘটছে। তবে সব ঘটনার খবর যেমন প্রকাশ পায় না, তেমনি বহু ঘটনাই আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বহীন কিংবা সামান্য গুরুত্ববাহী। অন্যান্য বছরের মতো ২০১৭ সালেও দুনিয়ার নানা দেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক, কূটনৈতিক প্রভৃতি দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এগুলোর সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য রয়েছে জাতীয়, এমনকি বহু ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। ২০১৭ সালের আলোচিত ৫ ঘটনা তুলে ধরেছেন মীযানুল করীম

রোহিঙ্গা নির্মূল ও শরণার্থীর স্রোত
শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের জন্যই ২০১৭ সালের রোহিঙ্গা গণহত্যা-নির্যাতন-উচ্ছেদ মিলে মিয়ানমারের জাতিনিধন অভিযানের বেনজির তা ব একটি খুব বড় ঘটনা। প্রধানত ধর্ম, এবং সেই সাথে নৃতাত্ত্বিক, তথা ভাষা ও বর্ণের কারণে সে দেশের রাখাইন প্রদেশের লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান যুগ যুগ ধরে চরম বঞ্চনা, লাঞ্ছনা, নিপীড়ন এবং শোষণ-বৈষম্যের অসহায় শিকার। এটা মারাত্মক হয়ে উঠেছে বিশেষ করে গত অর্ধশতাব্দীতে। ১৯৭৮, ১৯৯১-৯২ ও ২০১২ সালের পর ২০১৬ সালে রোহিঙ্গা নিধনের ‘মহোৎসবে’ উন্মত্ত হয়ে ওঠে সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইন বা মগ জনগোষ্ঠী এবং পুলিশ-প্রশাসন ও সেনাবাহিনীসহ মিয়ানমার সরকার। এই জাতিগত নির্মূলাভিযানের ধারাবাহিকতায় গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হত্যা-হামলা, ধর্ষণ-নির্যাতন, বসতি ধ্বংস, এমনকি দেশ থেকে বিতাড়নের ভয়াবহ অধ্যায় সূচিত হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং এর প্রভাবে মিয়ানমার সরকারের কিছু আশ্বাস সত্ত্বেও এই বর্বরতা অব্যাহত আছে। এ ক্ষেত্রে, সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলোÑ নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়িনী এবং কথিত ‘গণতন্ত্রকন্যা’ অং সান সু চির দল এনএলডি এখন দেশটির ক্ষমতায় এবং তিনিই এর প্রধান নেত্রী। তার আমলে ‘অহিংসার পূজারী’দের ভয়াবহ সহিংসতায় কয়েক হাজার রোহিঙ্গার প্রাণহানির সাথে যোগ হয়েছে অসংখ্য মুসলিম নারীর ধর্ষণের ঘটনা। রোহিঙ্গাদের গ্রামের পর গ্রাম এবং বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে আগে থেকেই দুই লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে।
গত কয়েক মাসে শরণার্থী স্রোতের এ দেশে প্রবেশের পর বর্তমানে লাখ দশেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার আশ্রয়শিবিরে, পাহাড়ে-জঙ্গলে কোনোমতে মাথা গুঁজে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ, মিয়ানমারের পশ্চিম প্রান্তে, বঙ্গোপসাগর উপকূলের সাবেক আরাকান ও বর্তমান রাখাইন রাজ্যের আয়তন প্রায় ৩৬ হাজার বর্গকিলোমিটার। সেখানে রোহিঙ্গাদের মোট সংখ্যা ২৭ লাখ ছিল। তাদের মধ্যে ১৬ লাখই অমুসলিম বর্মিদের অত্যাচারে দেশছাড়া উদ্বাস্তু। সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা রাখাইন প্রদেশে তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিকদের চেয়েও শোচনীয় অবস্থায় দিন অতিবাহিত করতে বাধ্য হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে কিছু হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছাড়া সবাই ইসলাম ধর্মের অনুসারী।


জেরুসালেমের মর্যাদা ও ট্রাম্পের ঘোষণা
ফিলিস্তিন সমস্যা যেমন পুরনো, তেমনি প্রতি বছর আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ঘটনাবলিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে রাখে। এবার ফিলিস্তিনের প্রাণকেন্দ্র এবং পবিত্র মসজিদুল আকসার পাদপীঠ, তথা মুসলিম ইতিহাসে প্রথম কেবলা বায়তুল মুকাদ্দাসের শহর জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানীরূপে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে। বিতর্কিত এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেখানে আমেরিকা দূতাবাস স্থানান্তরের ঘোষণা দিয়ে বিশ্ব মুসলিমের বুকে প্রতিবাদ ও ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্ববহ এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের মুরব্বি এবং বিশ্বের সর্বাধিক শক্তিশালী দেশ হিসেবে গণ্য। পাল্টা ঘোষণায় মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম ফোরাম ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) পূর্ব জেরুসালেমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে। তুরস্কের মতো কোনো কোনো প্রভাবশালী রাষ্ট্র ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, সেখানে তারা দূতাবাস খুলবেন। উল্লেখ্য, পোপ পর্যন্ত জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে না নিতে বলেছেন। ট্রাম্পের উপরিউক্ত ঘোষণা ইহুদি লবিকে খুশি করলেও বিশ্বের শান্তিকামী মানুষদের করেছে মর্মাহত। স্মর্তব্য, জাতিসঙ্ঘ জেরুসালেমে রাজধানী স্থাপন বা অন্য কোনোভাবে এই নগরীর ঐতিহাসিক ধর্মীয় বিশেষ মর্যাদা ুণœ না করতে ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আগেই। ইহুদিবাদী রাষ্ট্রটি ১৯৮০ সালে ঘোষণা দিয়ে এবং তাদের আধিপত্যবাদী নীলনকশার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তেলআবিব থেকে সরিয়ে জেরুসালেমে নিয়ে গেছে রাজধানী। কিন্তু এ যাবৎ বিশ্বের প্রধান রাষ্ট্রগুলো সেখানে নিজেদের দূতাবাস সরিয়ে নিয়ে যায়নি। এবার গোঁড়া জাতীয়তাবাদী ট্রাম্পের সময়ে মার্কিন প্রশাসন এর ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্ব মুসলিমসহ প্রকৃত গণতন্ত্রমনা ও বিবেকবান সবাইকে বিুব্ধ করেছে।

‘স্বাধীনতা’র ব্যর্থ প্রয়াস কুর্দিস্তান ও কাতালোনিয়া
২০১৭ সালে স্পেনের কাতালোনিয়া অঞ্চলে এবং ইরাকের কুর্দি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে অনুষ্ঠিত গণভোটে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জনণের বেশির ভাগ স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিয়েছে। ইরাকে প্রায় একচেটিয়া ভোট পড়েছে স্বাধীন কুর্দিস্তানের পক্ষে। স্পেনে প্রদত্ত ভোটের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ স্বাধীন কাতালোনিয়ার পক্ষে হলেও ভোটারদের অর্ধেকের কম ভোট দিতে যান। কুর্দিরা তাদের এক দশকের স্বায়ত্তশাসনকে একেবারে স্বাধীনতায় উত্তরণ ঘটাতে গিয়ে শুধু ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকার নয়, পাশের দেশ ইরান এবং তুরস্কের ক্ষোভ ও উষ্মার কারণ হয়েছে। এই দু’দেশেই বিপুলসংখ্যক কুর্দির আবাস থাকায় দেশ দু’টির সরকার আশঙ্কা করছে, ইরাকি কুর্দিরা আলাদা হয়ে গেলে এর প্রভাবে ইরান-তুরস্কে কুর্দিদের বিচ্ছিন্নতার দাবি প্রবল হয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করবে। তুরস্কের ওপর ইরাকি কুর্দিস্তানের অর্থনীতি অনেকটা নির্ভরশীল। এ দিকে, ইসরাইল এই কুর্দিদের বিচ্ছিন্নতার ব্যাপারে খোলাখুলি সমর্থন দিয়েছে। কুর্দিস্তানের রাজধানী ইরবিলে ইসরাইলের এফ-৪৭ যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি এবং গণভোটের রায়ে উল্লসিত, কুর্দিদের মিছিলে ইসরাইলি পতাকা প্রদর্শনের ঘটনায় মুসলিম বিশ্ব স্বভাবতই বিুব্ধ। সব মিলিয়ে প্রবল প্রতিকূলতার মুখে ইরাকি কুর্দিদের স্বাধীনতার উদ্যোগ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেছে।
অপর দিকে, কাতালোনিয়া অঞ্চলের সরকার এবং জনগণের বিরাট অংশ (অধিকাংশ বলেই প্রতীয়মান) স্পেন থেকে পৃথক হওয়ার পক্ষে থাকলেও কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর প্রতিক্রিয়ার ফলে অঞ্চলটি এ যাবৎ ভোগ করা স্বায়ত্তশাসনও হারিয়েছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের নেতা কার্লোস পুয়েজমন পালিয়ে বেলজিয়ামে আশ্রয় নিয়েছেন। এ দিকে, কাতালোনিয়ার রাজধানী বার্সেলোনায় স্পেনের সাথে থাকার পক্ষে বিশাল সমাবেশের পাশাপাশি মাদ্রিদ সরকারের প্রত্যক্ষ শাসন কায়েমের ত্বরিত পদক্ষেপ স্বাধীনতার সংগ্রামকে আপাতত স্থবির করে দিয়েছে।
স্পেন থেকে বিচ্ছিন্নতাকামী জনগণের আনুষ্ঠানিক সমর্থন পেয়েও পুয়েজমন কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা না দিয়ে বরং এই গণরায়কে দাবি আদায়ে চাপ দেয়ার কৌশলরূপে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এই গণভোটকে সংবিধানবিরোধী বলে আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে সাথে সাথেই।
তদুপরি, পুয়েজমনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহ, বিশ্বাসঘাতকতা এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগে। স্পেন সরকার কাতালোনিয়ায় নতুন করে আঞ্চলিক নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে যাতে সেখানে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ আর স্পেনের শাসন জোরালোভাবে কায়েম হতে পারে।

কাতার অবরোধ ও সৌদি রাজপরিবারে পরিবর্তন

গত ৫ জুন হঠাৎ করেই গ্যাস সমৃদ্ধ ছোট্ট দেশ কাতারের সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন। তাদের সাথে যোগ দেয় মিসরসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশ। ইরানের সাথে সম্পর্ক, মুসলিম ব্রাদারহুড ও হামাসকে সমর্থনের কারণে দেশটির বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসে সহযোগিতার’ অভিযোগ আনে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলো। পাশাপাশি আলজাজিরা চ্যানেল বন্ধ করারও দাবি জানায় তারা। কঠোর অবরোধ আরোপ করা হয় ছোট্ট দেশটির ওপর। কিন্তু কাতারের আমির শেখ তামিম সৌদি বশ্যতা স্বীকার না করে দৃঢ়তার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন। তাকে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছে তুরস্ক ও ইরান। এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী সৌদি আরবে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। যার হাত ধরেই এ বছর সৌদি রাজপরিবারে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। ২০১৫ সালে সালমান বিন আবদুল আজিজ বাদশা হওয়ার পর থেকেই মোহাম্মদ বিন সালমান ব্যাপক ক্ষমতা লাভ করেন। বছরের মাঝামাঝিতে তৎকালীন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফকে সরিয়ে বিন সালমানকে ক্রাউন প্রিন্স করেন বাদশাহ। এর পর থেকেই সৌদি আরবে বড় রকমের পরিবর্তন আসে। নিজেই হয়ে ওঠেন সৌদি আরবের প্রধান নীতিনির্ধারক। নভেম্বরের শুরুতে আচমকাই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে ১১ প্রিন্সসহ কয়েক ডজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। বিন সালমান আধিপত্য জোরদার করতেই ক্ষমতার সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমন করছেন বলে ভাবা হচ্ছে।


গণভোটে এরদোগানের পক্ষে রায়

২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো, তুরস্কে গণভোটের মাধ্যমে আবার ক্ষমতাসীন একেপি দলের নেতৃত্বের প্রতি জনসমর্থন পুনর্ব্যক্ত এবং রাষ্ট্রপ্রধান এরদোগানের হাত আরো শক্তিশালী হলো। তিনি এখন শুধু দলটির প্রতীক নন, বিশ্বে তার দেশের ও জাতির প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
বিশেষত আগের বছরের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থান এবং এর জের ধরে বছরব্যাপী কঠোর দমন অভিযান, কুর্দি বিদ্রোহীদের সহিংস তৎপরতা, উগ্রবাদী এবং আইএস-এর বিরুদ্ধে সিরিয়ায় তুর্কিদের লড়াই, পাশ্চাত্যে এরদোগানবিরোধী অব্যাহত প্রচারণা, ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ‘হোতা’ ফতেহ উল্লাহ গুলেনের প্রতি মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ, প্রভৃতির পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত গণভোট এরদোগানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং আংকারা সরকারের জন্য অতীব গুরুত্ববহ।
কারো কারো ধারণা ছিল, এরদোগানের প্রতি জন-আস্থা কিছুটা হলেও কমছে। কিন্তু ১৬ এপ্রিলের গণভোটে তিনি অল্প ব্যবধানে হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পেয়েছেন। বোঝা যাচ্ছে, বিগত জাতীয় নির্বাচনের পর তার এবং তার দলের প্রতি জনগণের সমর্থন কমেনি। অপর দিকে বিরোধী দলের শক্তি ও অবস্থান প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫