নখের অসুখ প্যারোনাইকিয়া
নখের অসুখ প্যারোনাইকিয়া

নখের অসুখ প্যারোনাইকিয়া

ডা: তাজুল ফারুক

আমাদের অনেকেরই হাত বা পায়ের আঙুলের নখ পচতে দেখা যায়। ওটা কালচে বর্ণ বা পাশে সাদা বা লালচে। ক্ষত চামড়ায়ও সৃষ্টি হয়। কখনো পুঁজও হয়। ভীষণ যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হন অনেকে। দীর্ঘ চিকিৎসা ও ঘন ঘন বিভিন্ন চিকিৎসার দ্বারস্থ হয়েও পুনঃসংক্রমণের শিকার হন। জানুন নখের এই ছত্রাক সংক্রমণ ‘প্যারোনাইকিয়া’ সম্পর্কে।

নখ ভেজা থাকলে বেশিক্ষণ বা কাদা পানিতে কাজ করলে বা নখ না কাটায় তার ফাঁকে ছত্রাক সংক্রমণ হয়। এ জন্য পা বা হাতের নখ আক্রান্ত হলে প্যারোনাইকিয়ার প্রথম কাজই হবে নখ ‘শুকনা’ রাখা। (অজু বা গোসল বা ধোয়ার কাজ সেরেই আঙুল শুকিয়ে নিন। বেশিক্ষণ পানি থাকতে দেবেন না। সম্ভব হলে একই অজুতে দু-তিন ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। পানি লাগানো বন্ধ করুন যতটা সম্ভব।

কাদাপানি, ধুলোবালিতে হাঁটবেন না বা কাজ করবেন না। সাবান বা ডিটারজেন্ট লাগাবেন না।

ড্রাইয়িং এজেন্ট হিসেবে সার্জিক্যাল স্পিরিট, বিটাডিন, ফুসিডিক এসিড বা মাইকোনাজল টিংচার দিন।

মুখে ডাক্তারি পরামর্শে খান কিটোকোনাজল বা ফ্লুকোনাজল (দীর্ঘ দিন খেতে হবে)।
নখ ভেতরে ডেবে গেলে বা ঘন ঘন ইফেকশন হলে অপারেশন করুন। এ ক্ষেত্রে পুরো নখ তুলে ফেলাই উত্তম।

দীর্ঘ সময় মোজা বা জুতো পরে থাকবেন না (ঘামের দুর্গন্ধে, আবদ্ধতায় ছত্রাক ক্ষত আরো বেড়ে যাবে)।

গরম পানিতে স্যাভলন দিয়ে বা বরফ শীতল পানি ঢেলে ব্যথা কমানোর প্রয়াসটি ভুল। পানি কোনো উপায়ে লাগানো যাবে না। পানি বা আর্দ্রতা রোগ নিরাময়ে প্রধান শত্রু ।

বেশি ক্ষত বা পুঁজ থাকলে ডাক্তারি পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করুন। ব্যথা থাকলে ব্যথানাশক ওষুধ ও চুলকানি বা জ্বালাপোড়া থাকলে অ্যান্টি হিস্টামিন খাওয়া যেতে পারে। তবে মূল চিকিৎসা হচ্ছে ‘অ্যান্টি ফাঙ্গাল’। ওষুধ নখে লাগানো ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল খাবার ওষুধ দীর্ঘ দিন খাওয়া। আর আক্রান্ত স্থান শুকনো রাখা।

জিহ্বা থেকে রক্তপাত

ডা: মো: ফারুক হোসেন

জিহ্বা থেকে বিভিন্ন কারণে রক্তপাত হতে পারে। রোগীর সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে জিহ্বা থেকে রক্তপাতের কারণ নির্ণয় করতে হবে। সর্বপ্রথম দেখতে হবে রোগীর মুখের অভ্যন্তরে কোনো ধারালো দাঁত আছে কি না। ধারালো দাঁত থাকলে সেটির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জিহ্বার উপরিভাগের আবরণের কাছাকাছি কোনো ক্ষুদ্র রক্তনালী যদি থাকে তাহলে সেখানে যখন চাপ প্রয়োগ হয়, তখন সে স্থান থেকে রক্ত বের হতে পারে। তবে এটি খুব কম ক্ষেত্রেই হতে পারে। রোগী হিসেবে জিহ্বার ওপর রক্ত দেখলেই এমন কথা বলা ঠিক হবে না যে, জিহ্বা থেকে রক্ত বের হয়েছে। মাড়ি রোগের ক্ষেত্রে লালার সাথে রক্ত মাঝে মধ্যে দেখা যেতে পারে।

এন্টি কোয়াগুলেন্ট (যেসব ওষুধ রক্ত জমাট হতে বাধা প্রদান করে) জাতীয় ওষুধ দীর্ঘ দিন সেবন করলেও জিহ্বা থেকে রক্তপাত হতে পারে। অনেকের রক্ত জমাট বাঁধার রোগ থাকে। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ না করলে জিহ্বা থেকে রক্ত বের হতে পারে। জিহ্বা থেকে রক্ত বের হলে দেখতে হবে রোগীর দাঁত কামড়ানোর অভ্যাস আছে কি না। অনেক সময় দেখা যায় কারো কারো ধাতব পিন বা এ জাতীয় কোনো কিছু চোষা বা কামড়ানোর অভ্যাস রয়েছে, সে ক্ষেত্রে জিহ্বা থেকে রক্তপাত হতে পারে।

জিহ্বার ক্রমাগত আলসার থেকে ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। যথাযথ চিকিৎসার অভাবে এ ক্ষেত্রে জিহ্বা থেকে রক্ত বের হতে পারে। আমাদের দেশে জিহ্বায় ছত্রাক সংক্রমণ একটি অতি পরিচিত সমস্যা। জিহ্বায় ছত্রাক বা ফাংগাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে জিহ্বা থেকে রক্ত বের হতে পারে। জিহ্বায় ছত্রাক সংক্রমণের চিকিৎসা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যথার্থ হয় না বিধায় সংক্রমণ বারবার দেখা যায়। এ ছাড়া অনেক সময় মুখস্থ একই মলম বারবার জিহ্বায় প্রয়োগ করার কারণে সহজে রোগ ভালো হয় না। বরং নানাবিধ জটিলতার সৃষ্টি হতে থাকে। অনেকের জিহ্বা বা মুখে মিশ্র সংক্রমণ থাকার কারণে রোগটি জটিল আকার ধারণ করে। তাই এসব রোগের ক্ষেত্রে যথাসময়ে সুচিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে জিহ্বায় রক্তপাত থেকে শুরু করে যেকোনো ধরনের জটিল পরিস্থির উদ্ভব হতে পারে।

লেখক : মুখ ও দন্তরোগবিশেষজ্ঞ
ফোন : ০১৮১৭-৫২১৮৯৭

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.