আসাদ সুবর্ণা ৩৩ বছর পর...
আসাদ সুবর্ণা ৩৩ বছর পর...

আসাদ সুবর্ণা ৩৩ বছর পর...

অভি মঈনুদ্দীন

রাইসুল ইসলাম আসাদ এবং সুবর্ণা মুস্তাফার বন্ধুত্ব নাট্যদল ‘ঢাকা থিয়েটার’-এ একসঙ্গে কাজ করার শুরু থেকেই। সেই হিসেবে রাইসুল ইসলাম আসাদ এবং সুবর্ণা মুস্তাফার মধ্যে বন্ধুত্ব পেরিয়ে গেছে চার দশকেরও বেশি। একই দলের হয়ে তারা দু’জন যেমন মঞ্চ মাতিয়েছেন ঠিক তেমনি টিভি নাটকেও তারা দু’জন একসঙ্গে অনেক নাটকে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি তারা দু’জন জুটিবদ্ধ হয়ে চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। ১৯৮০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আসাদ এবং সুবর্ণা মুস্তাফা প্রথম জুটিবদ্ধ হয়ে সৈয়দ সালাহ উদ্দীন জাকী পরিচালিত ‘ঘুড্ডি’ চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করেন। এতে দু’জনের অনবদ্য অভিনয় সেই সময়ে বেশ প্রশংসিত হয়। এরপর তারা দু’জন একসঙ্গে অভিনয় করেন সৈয়দ হাসান ইমামের ‘লাল সবুজের পালা’, কাজী জহিরের ‘নতুন বউ’ এবং ১৯৮৪ সালে কাজল আরেফিনের ‘সুরুজ মিঞা’ ও বেলাল আহমেদ’র ‘নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রে। এরপর তাদের দু’জনকে আর একসঙ্গে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়নি।

দীর্ঘ ৩৩ বছর অর্থাৎ তিন দশকেরও বেশি সময় পর রাইসুল ইসলাম আসাদ এবং সুবর্ণা মুস্তাফাকে আবারো একই চলচ্চিত্রে দেখবেন দর্শক। বদরুল আনাম সৌদ’র কাহিনী, সংলাপ, চিত্রনাট্য ও নির্দেশনায় ‘গহীন বালুচর’ চলচ্চিত্রে তারা দু’জন আবারো একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রেটিতে দুই পরিবারের প্রধান দু’জনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আসাদ এবং সুবর্ণা। আসাদ অভিনয় করেছেন লতিফ চরিত্রে এবং সুবর্ণা মুস্তাফা অভিনয় করেছেন আসমা চরিত্রে। বহুবছর পর প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে চলচ্চিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে বহুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত রাইসুল ইসলাম আসাদ বলেন,‘ মুক্তিযুদ্ধের তিন/চার বছর পর থেকেই আমাদের একসঙ্গে পথচলা। মনে হয় যেন সেই ছোটবেলা থেকেই আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। তাই সবসময়ই মনে হয় আমি আর সুবর্ণা একই পরিবারের। দীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে কাজ করতে করতে আমাদের মধ্যে সম্পর্কটা যেমন দৃঢ় ঠিক তেমনি আমাদের মধ্যে কাজের বোঝপড়াটাও বেশ ভালো। কখনো ভেবে দেখিনি যে এতো বছর আমরা চলচ্চিত্রে কাজ করিনি। সৌদ’র নির্মাণ কাজের প্রতি সবসময়ই আমার আস্থা আছে। গহীন বালুচর নিয়ে অনেক বেশি আশাবাদী আমি।’

সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন,‘ আমাদের মধ্যে এতো চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক যে সবসময়ই আমাদের একসঙ্গে কাজ করাটা অনেক আনন্দের হয়, হয় অনেক ভালোলাগার। গহীন বালুচর এই দেশের চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রে মাটির গন্ধ আছে, পানির ছোঁয়া আছে, ভালো অভিনয় আছে, আছে সুন্দর গানও। সর্বোপরি চমৎকার একটি গল্প আছে এই চলচ্চিত্রে। তাই আমি খুব আশাবাদী চলচ্চিত্রটি নিয়ে।’ আগামী ২৯ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে ‘গহীন বালুচর’ চলচ্চিত্রটি।
ছবি : মোহসীন আহমেদ কাওছার

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.