ঢাকা, মঙ্গলবার,২৪ এপ্রিল ২০১৮

প্রবাসের খবর

নিউইয়র্কে ইমাম ও আলেমদের সন্ত্রাসবাদবিরোধী সমাবেশ

নিউ ইয়র্ক থেকে সংবাদদাতা

২৬ ডিসেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১০:৩৯


প্রিন্ট

সম্প্রতি নিউইয়র্কে কয়েকটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটে যাওয়ার প্রেক্ষিতে নিউইয়র্কের ইমাম ও আলেমদের সংগঠন ‘ইউনাইটেড ইমাম অ্যান্ড উলামা কাউন্সিল ইউএসএ’ একটি সার্বজনীন আলোচনা সভার আয়োজন করে। গত ১৯শে ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাত আটটায় জ্যাকসন হাইটসের হাটবাজার পার্টি হলে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মাওলানা রফিক আহমদ রেফায়ীর সভাপতিত্বে ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধে মসজিদের ইমাম ও আলেমদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি মাওলানা শাব্বীর আহমদ ও জয়েন্ট সেক্রেটারি মুফতি মুহাম্মদ ইসমাঈল নূরী।

হাফেজ মাওলানা আবদুল কাইয়ুমের কুরআন তেলাওয়াতে সূচিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাওলানা আজির উদ্দীন। লিখিত আকারে মূল বক্তব্য পাঠ করেন যথাক্রমে সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট, ইমাম মাওলানা আহমদ আবু সুফিয়ান (ইংলিশ), কোষাধ্যক্ষ ইমাম মাওলানা আবুল কাশেম ইয়াহইয়া (বাংলা)।

মেহমান হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেয়র অ্যাডভাইজর ড. সারা সায়ীদ, অ্যাটর্নী মঈন চৌধুরী, আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদার, সদ্য সমাপ্ত নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলম্যান প্রার্থী হেলাল আবু শেখ, মি. এন্থনী ডনোভিউ, বাংলাদেশ সোসাইটির সেক্রেটারি : রুহুল আমিন সিদ্দিক, সাউথ এশিয়ান সলিডারিটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ইমরান আনসারী, স্টেট চ্যাপলেইন ইমাম মুফতি আবদুল্লাহ, মুসলিম এনওয়াইপিডি ক্যাপটেন আদিল রানা প্রমুখ।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাওলানা আবদুর রহমান খান, মাওলানা এম কে রহমান মাহমুদ, ইয়র্ক বাংলা সম্পাদক মাওলানা রশীদ আহমদ, মসজিদ আল আমানের সভাপতি কবীর চৌধুরী, আল আমিন মসজিদ অ্যাস্টোরিয়ার সভাপতি জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।

আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন এনওয়াইপিডির মুসলিম কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স অফিসার মোহাম্মদ আমীন, নিউইয়র্কের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বদরুল হক,আসসাফা ইসলামিক সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইকবাল আহমদ মাহবুব, মদিনা মসজিদের সভাপতি আবু নাসের, বায়তুল মা'মুর মসজিদ অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারের প্রেসিডেন্ট জনাব আহমদ আবু উবায়দা, আবু হুরায়রা মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা মুহাম্মদ ফায়েক উদ্দীন, উডসাইড মাদানী মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা মাহমুদুল ইসলাম, ম্যানহাটন ৯৬ মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা আবদুর রহমান, অ্যাস্টোরিয়া আল আমিন মসজাদ ইমাম ও খতীব মাওলানা মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান চৌধুরী, মসজিদের সেক্রেটারী কয়েস আহমদ, মসজিদ আল আমানের খতীব মাওলানা শোয়াইব আহমদ,অধ্যাপক মাওলানা এটিএম ফখরুদ্দীন, হাফেজ জুলকিফুল চৌধুরী, মাওলানা তোহামীন, বায়তুল গাফফার মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা মাসুক আহমদ, বিআইসির ইমাম জুনাইদ হোসাইন, ফুলতলি জামে মসজিদ ওজনপার্কের ইমাম ও খতীব সুন্নাতুর রহমান, মাওলানা জুবাইর আর-রশীদ,মাওলানা মোস্তফা হোসাইন, মাওলানা মুহাম্মদ আনাস উদ্দীন, মাওলানা মুরাদ হোসেন প্রমুখ। এছাড়াও বেশ ক'টি ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, মসজিদ হচ্ছে সর্বোত্তম পবিত্র স্থান। সেখান থেকে কেবল আল্লাহর হুকুম নামাজ আদায় করেন। কুরআনের শিক্ষা শান্তির আলো ছড়িয়ে দেন ইমামরা। যারা যে কোন বিষয়ে মসজিদ ও মসজিদের সম্মানিত ইমামদেরকে দোষারোপ করেন, তারা নিতান্তই ভুল করে বসেন, যা মোটেও কাম্য না।

বক্তারা আরো বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম সহমর্মিতার ধর্ম। সন্ত্রাসবাদের সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নাই। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যবাদের মোকাবেলায় ইসলাম কঠোর নির্দেশনা দিয়ে রেখেছে।

মসজিদ কমিটি ও মসজিদের সম্মানিত ইমামদের আরো সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং ইমামদের সাধারণ মানুষের আরো কাছাকাছি যাওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করতে হবে। জুমআর দিনে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যবাদের মোকাবিলায় কুরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিকোণ থেকে শক্ত ভাবে বয়ান পেশ করতে। যারা শান্তির ধর্ম ইসলামের মূল কনসেপ্টটি জানে না, তাদেরকে অবশ্যই জানাতে হবে।

সম্প্রতি আমেরিকায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাগুলোর নিন্দা জানানো হয় এবং যে বা যারা এই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরকে অসুস্থ মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

আগামী দিনে ইমাম-উলামা সমাজ মসজিদ মাদরাসায় খিদমতের পাশাপাশি মূলধারা, সিভিল সোসাইটি, স্কিল ডেভলপমেন্টসহ নানাবিধ কল্যাণমূলক কাজে এবং মূলধারার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত হতে হবে।

বক্তারা জোর দাবি করে বলেন, আসুন সবাই সকল প্রকার হিংসা বিদ্বেষ এবং একে অপরকে দোষারোপ না করে, অযথা কারো চরিত্র হনন না করে সকল মুসলমান ভাই ভাই হয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করি। তাহলে কখনো কেউ কোনো খারাপ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার সাহস পাবে না। আল্লাহকে সবাই ভয় করি। নিজ নিজ অবস্থান থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করি। শান্তির ধর্ম ইসলামের শেখানো পথে চলি, প্রতিবেশীর সাথে ভালো সুসম্পর্ক গড়ে তুলি। তখন মানুষ তার মনুষ্যত্ব বৃদ্ধি পাবে, নৈতিক পরিবর্তন আসবে। তখনই সমাজ ও পুরো কমিউনিটিতে শান্তি বিরাজ করবে।

সভা শেষে দেশ, জাতি ও পুরো বিশ্বের মানবতার কল্যাণের জন্য এবং সিলেটের সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেমে দ্বীন মাওলানা আবদুল বাসিত বরকতপুরীর (র.) রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন মুফতী মুহাম্মদ আবদুল্লাহ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫