ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৮ জানুয়ারি ২০১৮

সাতরঙ

ফিরে দেখা রঙের ঝলক

এ কে রাসেল

২৬ ডিসেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

ফ্যাশন হাউজগুলোতেও বছরজুড়েই চলে ফ্যাশন নিয়ে নানা আয়োজন। প্রতিনিয়তই বাজারে আসে নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক। বছরজুড়েই থাকে কেনাকাটর ধুম। আর বিশেষ কিছু দিনকে কেন্দ্র করে আয়োজন হয় মহাধুমধামে। ২০১৭ সালের ফ্যাশনের নানাদিক নিয়ে কথা বলেছেন খ্যাতনামা ফ্যাশন ডিজাইনারগণ।
দেশের স্বনামধন্য ফ্যাশন হাউজ ‘অঞ্জন’স-এর কর্ণধর শাহীন আহম্মেদ বলেন, মানুষ এখন অনেক বেশি ফ্যাশন সচেতন।
এ কারণে আমাদের প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ডিজাইনের ফ্যাশন নিয়ে ভাবতে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ক্রেতাদের পছন্দ-অপছন্দকেই বেশি প্রাধান্য দিতে হয়েছে। আর নতুন ডিজাইনের দিক থেকে যারা এগিয়ে, তারাই মূলত ব্যবসাসফল হয়েছেন। মেয়েদের ঝুল কামিজের চলটা বেশি হলেও বৈচিত্র্য ছিল কামিজের হাতা ও ঝুলে, সালোয়াার ও পালাজ্জোর ডিজাইনে। রাউন্ড কাট, ফিশ কাট, এক্সট্রা লার্জ, অ্যারো ও সিঙ্গেল অ্যারো এরূপ বিভিন্ন প্যাটার্ন দেখা গেছে সিঙ্গেল কামিজে। কামিজের লেন্থ ছিল অবশ্য আগের বছরের মতোই লং ও এক্সট্রা লং।
এ ছাড়া প্রিন্টেড কাপড়ের চেয়ে সিঙ্গেল কালারের ব্যবহার বেশি দেখা গেছে পোশাকে। কামিজের সাথে সালোয়ার ও চুড়িদারের ব্যবহার এ বছর বেশ কম ছিল। এর বদলে পালাজ্জো, ডিভাইডার বেশি চলেছে। এখানেও প্যাটার্নে বৈচিত্র্য দেখা গেছে। শাড়ির ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য এসেছে। ভ্যালু অ্যাডিশনের ব্যবহার ছিল কম। এবার মিক্স উইভিংয়ে করা শাড়ি বেশ চলেছে। যেমন মসলিনের সাথে এন্ডি মিশিয়ে শাড়ি তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া কাতানের চাহিদা ছিল ব্যাপক। টিনএজ মেয়েদের স্কার্ফ ব্যবহার করতে দেখা গেছে। ইস্টার্ন-ওয়েস্টার্ন সব ধরনের পোশাকেই স্কার্ফের ব্যবহার ছিল টিনএজদের ফ্যাশনের অংশ।
এ বছর পোশাকের ম্যাটেরিয়াল হিসেবে জর্জেট ও লিলেন কাপড়ের ব্যবহার ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি ছিল সুতি কাপড়।
২০১৭ সালের ফ্যাশন ট্রেন্ড কেমন ছিল এ বিষয়ে ফ্যাশন হাউজ কাপড় ই বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুরসালিন বিথুন বলেন, ২০১৭ সালের ফ্যাশন ছিল মূলত কাটিং প্যাটার্ন এবং ভ্যালু অ্যাডিশনের সমন্বয় নির্ভর। গত বছর যেমন কাটিং-নির্ভর ছিল। এ বছর তা নয়। পাশাপাশি হালকা রঙের বা দু’টি রঙের কম্বিনেশনের পোশাক চলেছে বেশি। ডিজাইনের ক্ষেত্রেও হালকা ডিজাইনের পোশাক এ বছর বেশি চলছিল। এ ছাড়া ভ্যালু অ্যাডিশন অর্থাৎ এমব্রয়ডারি, কারচুপি, ব্লক, বাটিক, জারদৌসি অর্থাৎ মিডিয়াম-নির্ভর ফ্যাশন ট্রেন্ড দেখা গেছে এ বছর। আবার কাটিং প্যাটার্ন-নির্ভর বিভিন্ন ধরনের প্যাটার্ন ব্যবহার করা হয়েছে। পালাজ্জো, ডিভাইডার বেশি চলেছে। এখানেও প্যাটার্নে বৈচিত্র্য দেখা গেছে। শাড়ির ক্ষেত্রে ও বৈচিত্র্য এসেছে। ভ্যালু অ্যাডিশনের ব্যবহার ছিল কম। এবার মিক্স উইভিংয়ে করা শাড়ি বেশ চলেছে। যেমন মসলিনের সাথে এন্ডি মিশিয়ে শাড়ি তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া কাতানের চাহিদা ছিল ব্যাপক। টিনএজ মেয়েদের স্কার্ফ ব্যবহার করতে দেখা গেছে। ইস্টার্ন-ওয়েস্টার্ন সব ধরনের পোশাকেই স্কার্ফের ব্যবহার ছিল টিনএজদের ফ্যাশনের অংশ। এ বছর পোশাকের ম্যাটেরিয়াল হিসেবে জর্জেট ও লিলেন কাপড়ের ব্যবহার ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি ছিল সুতি কাপড়।
ছেলেদের পাঞ্জাবির বেলায় বছরজুড়েই ছিল লং পাঞ্জাবির প্রাধান্য। শর্ট পাঞ্জাবি তেমন দেখা যায়নি। প্রিন্ট ও লিলেন কাপড়ের পাঞ্জাবি ছিল এ বছরের পাঞ্জাবির মূল ট্রেন্ড। ভ্যালু অ্যাডিশনের পাঞ্জাবিগুলোতে মূলত প্লেট ও বেনে কারুকাজ দেখা গেছে।
ফ্যাশনবাজার এ বছর খুব একটা ভালো যায়নি। এর দু’টি কারণ রয়েছে। প্রথমত, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভারতীয় পোশাকের ছড়াছড়ি। দ্বিতীয়ত, অনলাইনে বিকিকিনি। এ দুটোর ক্ষেত্রেই নিয়মনীতি থাকা খুবই জরুরি। সাধারণ বিক্রেতারাও ভারত থেকে পোশাক আমদানি করে বিক্রি করেছেন এ বছর, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ফ্যাশন বাজারে। ফলে বছরটা খুব একটা ব্যবসাসফল ছিল না।
মেয়েদের সিঙ্গেল পোশাকের মূল্য ছিল সর্বনি¤œ ৯০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত। থ্রিপিসের মূল্য ছিল এক হাজার ৩০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত। শাড়ির ক্ষেত্রেও প্রায় একই রকম, তবে ১০ হাজার বা তার থেকেও দামি শাড়ি বিক্রি হয়েছে। ছেলেদের পোশাকের মূল্য কিছুটা কম ছিল। ছেলেদের পাঞ্জাবি ৮৫০ থেকে দুই হাজার টাকা। ৯০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের শার্ট এবং ৯৫০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের প্যান্ট বিক্রি হয়েছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫