ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৮ জানুয়ারি ২০১৮

আমার ঢাকা

ঢাকার বায়ুদূষণ কমাতে সুপারিশ

২৬ ডিসেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

রাজধানীর বায়ুদূষণ কমাতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর। সম্প্রতি এক সভায় বিভিন্ন সংস্থার জন্য ১১ দফা করণীয় সুপারিশ করা হয়। করণীয়গুলো হলো ইটভাটার দূষণ নিয়ন্ত্রণে সনাতন পদ্ধতি বাদ দিয়ে প্রযুক্তনির্ভর ইটভাটা করা। যানবাহনের কার্বন নিঃসরণমাত্রা পরীক্ষা করে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ করা। দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকলে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ রাখা। শিল্পকারখানায় মনিটরিং জোরদার করা। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালু, সিমেন্ট, ইট ইত্যাদি পরিবহন ও মজুদের সময় ঢেকে রাখা। সরকারি ও বেসরকারিপর্যায়ে ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের (গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও টেলিফোন লাইন উন্নয়ন ও মেরামত) সময় ধূলিদূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে পানি ছিটানো। সড়ক নির্মাণ ও মেরামত এবং সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয় সাধন করা। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির সময় ওই স্থান যতটুকু সম্ভব ঢেকে রাখা ও দিনে একাধিকবার পানি ছিটানো। নিয়মিত রাস্তা পরিচ্ছন্ন ও ধুলা নিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা। উন্মুক্ত স্থানে সবুজায়ন করা এবং আবর্জনা না পোড়ানো। সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা এবং ইট প্রস্তুতকারক সমিতি, বেসরকারি আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব, পরিবহন মালিক সমিতিকে এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। শুষ্ক মওসুমে (নভেম্বর থেকে মার্চ) রাজধানীতে বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। এ সময় বাতাসে ২ দশমিক ৫ মাইক্রোমিটার আকারের বস্তুকণার উপস্থিতি বাড়ে। এই বস্তুকণা নিঃশ্বাসের সাথে রক্তে মিশে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে, যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। রাজধানীতে এই বস্তুকণাজনিত দূষণের ৫৮ ভাগ দায় ইটভাটার, ১৮ ভাগ রাস্তা ও মাটি থেকে তৈরি ধুলা, ১০ ভাগ যানবাহন ও ১৪ ভাগ দায় অন্যান্য উৎসের।
পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক রইছউল আলম মণ্ডল বলেন, সবার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া শুধু পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষে এই দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।
মেট্রোরেল প্রকল্পের উপমহাব্যবস্থাপক কৃষ্ণকান্ত বিশ্বাস বলেন, মেট্রোরেল নির্মাণকাজের সময় পরিবেশ যাতে দূষিত না হয়, সে জন্য সম্ভাব্য সব করা হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় প্রতিদিন তিনবার পানি ছিটানো হয়। যেখানে কাজ চলছে, সেই এলাকা ঢেকে রাখা হয়। পরিবেশদূষণ রোধের বিষয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বুয়েট নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে। এই প্রকল্পের কারণে রাস্তার যে পরিমাণ গাছ কাটা হবে প্রকল্প শেষে তার তিন গুণ গাছ লাগিয়ে দেয়া হবে। তা ছাড়া মেট্রোরেল চালু হলে কার্বন নিঃসরণ যে হারে কমবে তাতে ঢাকার বায়ুমান অনেক বাড়বে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক সানাউল হক বলেন, আগে সাদাচোখে দেখে যানবাহনের ফিটনেস নবায়ন করা হতো, ২০১৬ সালের জুন থেকে মেশিনের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ, ব্রেক, হেডলাইটসহ ছয়টি বিষয় পরীক্ষা করে ফিটনেস নবায়ন করা হয়। এখন একটি মাত্র কেন্দ্রে এই পরীক্ষা করা হয়। ভবিষ্যতে কেন্দ্রে আরো বাড়ানো হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসিসি) প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত ১ নভেম্বর থেকে ডিএসসিসির উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কে পানি ছিটানো হচ্ছে। এক সড়কে যাতে একাধিকবার খোঁড়াখুঁড়ি না করা হয়, সে জন্য ১২ নভেম্বর ডিএসসিসির মেয়র সেবাদানকারী বিভিন্ন সংস্থার সাথে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ছয় মাসের অগ্রিম পরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রতি ওয়ার্ডে এসটিএস নির্মাণ করা হচ্ছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫