ফেদেরার-নাদালের কীর্তিতেই উজ্জ্বল ছিল ২০১৭ সালের বিশ্ব টেনিস

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে দীর্ঘদিনের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, বিশ্ব টেনিসের অন্যতম দুই শীর্ষ তারকা রজার ফেদেরার ও রাফায়েল নাদালকে নিয়েই ২০১৭ সালের পুরো বছরের বিশ্ব টেনিস ভরপুর ছিল।

চিরসবুজ ফেদেরার ২০১৮ সালের ৩৭ বছরে পা রাখতে যাচ্ছেন। বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা পঞ্চমবারের মত জয় করে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের রেকর্ড ১৯-এ নিয়ে গেছেন। স্প্যানিশ সুপারস্টার নাদালের বিপক্ষে পাঁচ সেটের লড়াই শেষেই তিনি শিরোপা নিশ্চিত করেন। এছাড়া মারিন সিলিচকে পরাজিত করে নিজের অন্যতম ফেবারিট গ্র্যান্ড স্ল্যাম উইম্বলডনের শিরোপা জিতেন রেকর্ড অষ্টমবারের মতো।
অন্যদিকে আগামী বছর জুনে ৩২ বছর পা রাখতে যাওয়া নাদাল জয় করেছেন ক্যারিয়ারের ১০ম ফ্রেঞ্চ ওপেন ও তৃতীয় ইউএস ওপেন শিরোপা। একইসাথে বছর শেষের র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটা ছিল বাড়তি প্রাপ্তি।
ফেদেরার বিশ্বের দুই নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে বছর শেষ করেছেন, অথচ শুরু করেছিলেন ১৬ নম্বরে থেকে। পুরো ক্লে-কোর্ট মৌসুমে বিশ্রামে থেকে দু’টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ছাড়াও ইন্ডিয়ান ওয়েলস, মিয়ামি ও সাংহাইয়ে তিনটি মাস্টার্স শিরোপাসহ জিতেছেন সর্বমোট সাতটি শিরোপা। ২০১৬ সালের শেষ ছয় মাস ইনজুরির কারণে কোর্টের বাইরে থাকা ফেদেরার বলেছেন, ‘এটা আমার জন্য অসাধারণ একটি বছর ছিল।’
রোলা গ্যাঁরো ও ফ্ল্যাশিং মিডোতে দু’টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ছাড়াও মন্টে কার্লো ও মাদ্রিদে দু’টি মাস্টার্স শিরোপা জয় করা নাদাল বছর শেষ করেছেন ৬টি শিরোপা নিয়ে। ১৬বারের স্ল্যাম বিজয়ী নাদাল চতুর্থ বারের মত র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকে নতুন বছরে পা রাখতে যাচ্ছেন। তারকা এই স্প্যানিয়ার্ড বলেছেন, ‘আবারো মৌসুমের শেষে শীর্ষস্থানে থাকতে পারাটা আমি চিন্তাই করিনি। মৌসুমের শুরুতে এই লক্ষ্য আমার মোটেই ছিল না। ক্যারিয়ারে দারুণ একটি কঠিন সময় কাটানোর পরে ও ইনজুরির সাথে লড়াই করতে করতে আমি এই আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম।’
নতুন মৌসুমে নাদাল তার ছোটবেলার কোচ টনিকে ছাড়াই কোর্টে নামতে যাচ্ছেন। কিন্তু ক্যারিয়ারের জন্য হুমকি সেই হাঁটুর ইনজুরি এখনো তার পিছু ছাড়েনি। বছরের শেষ টুর্ণামেন্ট ওয়ার্ল্ড ট্যুর ফাইনালে প্রথম রাউন্ডের পরেই এই ইনজুরির কারনে নাদাল নাম প্রত্যাহার করে নেন। আবার ২৮-৩০ ডিসেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিতব্য প্রীতি টুর্ণামেন্টেও তার খেলা হচ্ছেনা। আগামী সপ্তাহে ব্রিসবেন টুর্ণামেন্টের মাধ্যমে নতুন বছর শুরু করাই এখন নাদালের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। ১৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের আগে ব্রিসবেনের প্রস্তুতিটাকে সব খেলোয়াড়রাই বেশ গুরত্বের সাথে বিবেচনা করে থাকেন। তবে ইনজুরি নাদালকে শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে যায় সেটাই এখন বড় দু:শ্চিন্তার বিষয়।
যদিও এই ইনজুরি শঙ্কায় শুধুমাত্র নাদালই নয়, রয়েছেন বিশ্বের সাবেক শীর্ষ তারকা এন্ডি মারে, তিনবারের বিজয়ী স্ট্যান ওয়ারিঙ্কা। উইম্বলডনের পর থেকে সুইস তারকা ওয়ারিঙ্কা কোর্টের বাইরে রয়েছেন। তার হাঁটুতে দুইবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। অন্যদিকে কোমরের ইনজুরিতে ভুগছেন মারে। অস্ট্রেলিয়া সফরে তাই মারের যাওয়া এখনো অনিশ্চিত। নাদালের মতই ওয়ারিঙ্কাও আরব আমিরাতের টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
তবে স্বস্তির বিষয় হচ্ছে কব্জির ইনজুরি কাটিয়ে উইম্বলডনের পরে দীর্ঘদিন বিশ্রামে থাকা বিশ্বের সাবেক এক নম্বর তারকা নোভাক জকোভিচ আবু ধাবীতে খেলছেন। বর্তমানে জকোভিচ র‌্যাঙ্কিংয়ের ১২তম স্থানে রয়েছেন, মারে ১৬তম ও ওয়ারিঙ্কা রয়েছেন নবম স্থানে।
তারকাদের পাশাপাশি নতুন কিছু প্রতিভা নিয়েও ২০১৮ সালে ভাবতে হচ্ছে টেনিস বিশ্বকে। এর মধ্যে অন্যতম ২০১৭ সালে পাঁচটি শিরোপা জয় করা আলেক্সান্দার জেভরেভ। যদিও জার্মান এই তারকার পুরো বছরে স্ল্যাম রেকর্ড ততটা আশাতীত ছিলনা। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে প্রথম রাউন্ডে বিদায়ের পরে উইম্বলডনে খেলছেন শেষ ১৬ পর্যন্ত, এরপর প্যারিসে নাদালের কাছে তৃতীয় রাউন্ডে বিদায়ের পরে নিউ ইয়র্কে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই ছিটকে গেছেন।
এদিকে নারীদের বিভাগে দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির পরে মেলবোর্নে আবারো স্বমহিমায় ফিরে আসছেন ২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের গর্বিত মালিক সেরেনা উইলিয়ামস। সেপ্টেম্বরে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়া সেরেনা অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পরে আর কোন টুর্ণামেন্টে অংশ নেননি। সেরেনার অনুপস্থিতিতে নারীদের টেনিসে বিশাল একটি শুন্যতার সৃষ্টি হয়। সেই সুযোগে স্ল্যামগুলোতে জেলেনা ওস্টাপেনকো ও স্লোয়নে স্টিফেন্সদের মত উঠতি তারকারা শিরোপা জেতার কৃতিত্ব দেখায়। রোলা গ্যাঁরোতে শিরোপা জেতার মাধ্যমে লাটভিয়ার প্রথম কোন খেলোয়াড় হিসেবে ওস্টাপেনকো দারুণভাবে সফল ছিলেন। অন্যদিকে ফ্ল্যাশিং মিডোতে র‌্যাঙ্কিংয়ের ৯৫৭তম খেলোয়াড় হিসেবে শিরোপা জিতেন স্টিফেন্স। এর মাঝে গারবিন মুগুরুজা দ্বিতীয়বারের মত উইম্বলডনের শিরোপা জয় করেন।
২০১৭ সালে ক্যারিয়ারের শীর্ষে থেকে বছর শেষ করেন সিমোনা হালেপ। কিন্তু জনপ্রিয় এই রোমানিয়ানের এখনো বড় কোন শিরোপা জেতা হয়নি। আগামী বছর মারিয়া শারাপোভা ও ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কার বিপরীতে শীর্ষস্থানে টিকে থাকাটাই এখন মুগুরুজার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
পাঁচবারের স্ল্যাম জয়ী শারাপোভা এপ্রিলে ১৫ মাসের ডোপিং নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কোর্টে ফিরে র‌্যাঙ্কিংয়ের ৫৯ নম্বরে থেকে বছর শেষ করেছেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.