ঢাকা, মঙ্গলবার,১৬ জানুয়ারি ২০১৮

টেলিভিশন

গণমানুষের ইত্যাদি কক্সবাজারে

আলমগীর কবির

২৫ ডিসেম্বর ২০১৭,সোমবার, ১৪:৫৯


প্রিন্ট

ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা, সংস্কৃতি, প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শণ এবং পর্যটন সমৃদ্ধ আকর্ষণীয় স্থানগুলোতে গিয়ে ইত্যাদি ধারণের ধারাবাহিকতায় এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে প্রকৃতির অনন্য সৃষ্টি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। গত ১৩ ডিসেম্বর কক্সবাজারের হিমছড়ি যাবার পথে মেরিন ড্রাইভের পাশে দরিয়া নগরে-সামনে পাহাড় এবং পেছনে সমুদ্র রেখে মাঝখানের সৈকতে ধারণ করা হয় এবারের ইত্যাদি। শুধু অনুষ্ঠানেই নয়-ইত্যাদির ধারণস্থান নির্বাচনেও থাকে বৈচিত্র্য। ঐতিহ্য, সম্পদ এবং সৌন্দর্যের বিপুল আধার পর্যটন জেলা কক্সবাজার কেবল বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বুকেও এক অসামান্য স্থান দখল করে আছে।

বাংলাদেশের যখন যে স্থানে ইত্যাদি ধারণ করা হয় সেই স্থানটির বৈশিষ্ট্যকে কেন্দ্র করেই সেটি নির্মাণ করা হয়। ফলে দর্শকরা যেমন ঐ স্থানটি সম্পর্কে জানতে পারেন, তেমনি নিত্য-নতুন লোকেশনের কারণে প্রতিবারই সেট নির্মাণেও আসে বৈচিত্র্য। এবারের ইত্যাদির বির্ভিন্ন পর্ব করা হয়েছে সাগরকে ঘিরে। টেলিভিশন অনুষ্ঠানকে স্টুডিওর চারদেয়ালের ভিতর থেকে বাইরে এনে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে অনুষ্ঠান করার ইত্যাদির এই ধারণাটি এখন অনেকেই গ্রহণ করেছেন। ফলে টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণেও বৈচিত্র্য এসেছে। কক্সবাজারের ঐতিহ্যের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে নির্মাণ করা আলোকিত মঞ্চের সামনে হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে এবার ধারণ করা হয় গণমানুষের অনুষ্ঠান ইত্যাদি। দিনে-রাতে অনুষ্ঠান ধারণের যে প্রচলন ইত্যাদি শুরু করেছিল তার ধারাবাহিকতা দেখা যাবে এবারের পর্বেও। সব সময় রাতের আলোকিত মঞ্চে ইত্যাদি ধারণ করা হলেও কক্সবাজারের এই প্রাকৃতিক রূপ, সাগরের ফেনিল জলের ঢেউ রাতের বেলায় দেখানো সম্ভব নয় বলে সুন্দরবন ও রাঙ্গামাটির মত এখানেও গোধূলি লগ্নে ইত্যাদির ধারণ শুরু হয়। আশেপাশে তেমন কোন জনবসতি না থাকলেও অনুষ্ঠান শুরুর আগেই অনুষ্ঠানস্থল কানায় কানায় ভরে যায়।

আমন্ত্রিত দর্শক ছাড়াও হাজার হাজার মানুষ আশেপাশের পাহাড়, গাছ ও রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মন্ত্রমুগ্ধের মত উপভোগ করেছেন ইত্যাদির নান্দনিক সব পর্ব। অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন একটি অনুষ্ঠান তৈরী করতে কতটা শ্রম দিতে হয়। আর এ জন্যেই ইত্যাদি আজ দেশ সেরা অনুষ্ঠান, সব শ্রেণী পেশার মানুষের অন্তরের অনুষ্ঠান। শিকড় সন্ধানী ইত্যাদিতে সবসময়ই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রচার বিমুখ, জনকল্যাণে নিয়োজিত মানুষদের খুঁজে এনে তাদের বিভিন্ন কর্মকান্ড তুলে ধরা হয়। যাতে তাদের কাজ দেখে অন্যেরাও অনুপ্রাণিত হতে পারেন। এবারের ইত্যাদিতে মুল গান রয়েছে দু’টি। যেহেতু ইত্যাদি এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে ধারণ করা হয় এবং সেই অঞ্চলের শিল্পীদের দিয়েই গান করানো হয়, সেই ধারাবাহিকতায় এবারের ইত্যাদিতে গান গেয়েছেন কক্সবাজারের সৈকত শিল্পী জাহিদ এবং তার সঙ্গে গেয়েছেন চট্টগ্রামেরই সন্তান জনপ্রিয় শিল্পী রবি চৌধুরী। দর্শক পর্বের নিয়ম অনুযায়ী যেই স্থানে ইত্যাদি ধারণ করা হয় সেই স্থানকে ঘিরে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয় এবং সঠিক উত্তর দাতাদের নিয়ে করা হয় ২য় পর্ব। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কক্সবাজারকে ঘিরে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে হাজার হাজার দর্শকের মাঝখান থেকে ৬ জন দর্শক নির্বাচন করা হয়। ২য় পর্বে সাগর নিয়ে তিনটি খন্ড নাট্যাংশে তারা অভিনয় করেন। যা ছিল বেশ উপভোগ্য। নিয়মিত পর্বসহ এবারও রয়েছে বিভিন্ন সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে বেশ কিছু সরস অথচ তীক্ষè নাট্যাংশ। রীতি মেনে ভীতি, কর্মফলের মর্মকথা, রাশিফলে বাসি কথা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব, চোর কথন, শপথ ভঙ্গের শপথসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর রয়েছে বেশ কয়েকটি নাট্যাংশ। বরাবরের মত এবারও ইত্যাদির শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন ইত্যাদির নিয়মিত শিল্প নির্দেশক মুকিমুল আনোয়ার মুকিম।

এবারের ইত্যাদিতে উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা হলেন-এসএম মহসিন, সোলায়মান খোকা, মহিউদ্দিন বাহার, ডাঃ এজাজুল ইসলাম, জিয়াউল হাসান কিসলু, আব্দুল আজিজ, কাজী আসাদ, সুভাশিষ ভৌমিক, আব্দুল কাদের, আফজাল শরীফ, শবনম পারভীন, জিল্লুর রহমান, কামাল বায়েজিদ, বিলু বড়–য়া, নিপু, রতন খান, আমিন আজাদ, আনোয়ার শাহী, তারেক স্বপন, জামিল, সজল, নিসা, জাহিদ চৌধুরী, সাজ্জাদ সাজু, ইমিলা, হাশিম মাসুদ, নজরুল ইসলাম, মনজুর আলমসহ আরো অনেকে।

পরিচালকের সহকারী হিসাবে ছিলেন যথারীতি রানা ও মামুন। গণমানুষের প্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদির আগামী পর্ব একযোগে বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে-এ প্রচারিত হবে ২৯ ডিসেম্বর, শুক্রবার রাত ৮ টার বাংলা সংবাদের পর। ইত্যাদির রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মান করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। ইত্যাদি স্পন্সর করেছে যথারীতি কেয়া কস্মেটিকস্ লিমিটেড।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫