কুয়াশার চাদরে

জীবনের বাঁকে বাঁকে
কাজী সুলতানুল আরেফিন

শীতের মাস পৌষ চলছে। শীতকে প্রথমে দুর্বল মনে হলেও এখন সে তার শক্তি জানান দিচ্ছে। শীতের তীব্রতা বেড়েছে। সেই সাথে কুয়াশারা চার দিকে জেঁকে বসেছে। শীত নিজের ঝুড়িতে করে আমাদের জন্য এক ঝাঁক কুয়াশা নিয়ে এসেছে। সারা দেশ তীব্র কুয়াশাচ্ছন্ন। দূর্বাঘাস আর সবুজ লতাপাতা কুয়াশায় স্নান করে যেন অপরূপ সাজে সজ্জিত হয়। এ কুয়াশা দেখতে যতই মুক্তোর দানার মতো হোক না কেন, অসুবিধা করতেও এরা ছাড়ে না। গ্রামের পথঘাট কুয়াশায় সিক্ত থাকে। ঘন কুয়াশায় সামনের দিকে বেশি দূর পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যায় না। তাই চলাচলে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। বিশেষ করে যানচালকদের সতর্কতার সাথে তাদের যান চালনা করা উচিত। এ দিনে কুয়াশারা ধোঁয়ার মতো কুণ্ডলি করে ঘুরে বেড়ায়। কুয়াশায় অনেকের তীব্র অ্যালার্জি দেখা দেয়। সাধারণত তিকর নয়, এমন সব বস্তুর প্রতি শরীরের এ অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াকে অ্যালার্জি বলা হয়। অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী বহিরাগত বস্তুগুলোকে অ্যালার্জি উৎপাদক বা অ্যালার্জেন বলা হয়। কুয়াশায় এমন অ্যালার্জি দেখা দেয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ অ্যালার্জির আক্রমণ থেকে বাঁচতে মুখে মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। সমন্বিতভাবে অ্যালার্জির চিকিৎসা হলো অ্যালার্জেন পরিহার করে চলা। অর্থাৎ যখন এলার্জির সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায়, তখন তা পরিহার করে চললেই সহজ উপায়ে অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। শিশু আর বৃদ্ধদের কুয়াশা থেকে দূরে রাখতে হবে। কবি জীবনানন্দ দাশ লিখেছেন,
‘একদিন কুয়াশার এই মাঠে আমারে পাবে না কেউ খুঁজে আর, জানি; হৃদয়ের পথ-চলা শেষ হলো সেই দিনÑ গিয়েছে যে শান্ত হিম ঘরে’ আসলে কবি জীবনের শেষবিদায়ে আলো-আঁধারির রূপ হিসেবে কুয়াশার কথা প্রকাশ করেছেন। কুয়াশা আমাদের কাছে অনেক কিছু প্রকাশ করে যায়।
কুয়াশা আমাদের শীতের বার্তা দিয়ে যায়। কুয়াশা প্রকৃতিকে মুক্তোর রূপে সাজিয়ে যায়। কুয়াশা লেখক হৃদয়ে হাতছানি দিয়ে যায়। কুয়াশাভেজা ভোর জীবনে এক শিণীয় রচনা হয়ে দাঁড়ায়। কুয়াশা যেন কোনো মায়ামমতার বন্ধনে গেথে দিয়ে যায় আমাদের। আসুন কুয়াশা আর শীতে আক্রান্ত দুস্থদের পাশে থেকে সেই মমতা আরো দৃঢ় করি।
পূর্ব শিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.