ঢাকা, শনিবার,২০ জানুয়ারি ২০১৮

অবকাশ

প্রাণের মানুষ

চারাগল্প

নূর জান্নাত

২৪ ডিসেম্বর ২০১৭,রবিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

জাহিদ আরেকবার আয়নার সামনে দাঁড়ায়। হলুদ-সাদা চেক শার্টের বুকপকেটের বোতামটি নেই। এটা আগে খেয়াল করেনি সে। বিশেষ দিনে পোশাক বিড়ম্বনা যেন বীজগণিতের সূত্রের মতো তার জীবনে সর্বজনীন সূত্রে পরিণত হয়েছে। অবশ্য জাহিদের প্রতিটি বিশেষ দিনের একটাই অর্থÑ মা আর দুলাভাইয়ের সাথে মেয়ে দেখতে যাওয়া। ঠিক মেয়ে দেখতে নয়, নিজেকে দেখাতে যাওয়া।
নিরীহ গোছের ভদ্রলোক জাহিদ স্কুলে শিকতা করে। মায়ের জেদের কারণেই টানাপড়েনের সংসারে তৃতীয় মানুষের খোঁজ। এই তৃতীয় মানুষের খোঁজাখুঁজির মাধ্যমেই জাহিদ মুখোমুখি হয় স্বার্থের পৃথিবীর, যেখানে বুকের ভেতর ধারণ করা আকাশের কোনো মূল্য নেই, মূল্য আছে আকাশটাকে মুঠোয় রাখা শক্ত হাতের। জাহিদের হাত শক্ত নয়। উচ্চশিা, বড় চাকরি, বাপের সম্পদ কোনোটাই নেই ওর। তার ওপর গায়ের রঙ কুচকুচে কালো। হয়তো এ জন্যই কালো বুকের সাদা হৃদয়ের খোঁজ কেউ করেনি।
জাহিদ জানে আজো সে রকমই হবে যেমনটা সবসময় হয়। লম্বা হাসি দিয়ে কনেপ অভ্যর্থনা জানাবে তাদের, এটা ওটা প্রশ্ন হবে। জাহিদের উত্তর শুনে সেই হাসিটা আস্তে আস্তে ছোট হয়ে একসময় পুরোপুরি বিলীন হয়ে থুঁতনি ঝুলে যাবে। তারপর কনের বড়ভাই, মামা বা চাচা ইনিয়েবিনিয়ে, হাত কচলে, প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে দাঁড়ি-কমা জুড়ে দিয়ে, মুছে দিয়ে যা বলবে, সেটা সোজা বাংলায় বলা যায়Ñ কালা ফকিরচানকে নিয়ে তোমরা বিদায় হও।
আয়নার সামনে জাহিদের পাশে উদয় হলেন দুলাভাই। আলতোভাবে জাহিদের কাঁধে হাত রেখে বলেন, ওরা ফোন করে জানিয়েছে, কী একটা সমস্যার জন্য আজ কনে দেখানোর প্রস্তুতি নিতে পারেনি।
হাসে জাহিদ। ভালোই হলো, এই না কথাটা ও-বাড়িতে গিয়ে শুনতে হলো না। সে তো প্রাণহীন কালো পাথর নয়, সে সজীব প্রাণের কালো মানুষ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫