ঢাকা, মঙ্গলবার,১৬ জানুয়ারি ২০১৮

প্রিয়জন

প্রি য় জ ন পঙ্ ক্তি মা লা

২৩ ডিসেম্বর ২০১৭,শনিবার, ০০:০০ | আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ২৩:৪৯


প্রিন্ট

সুমন ইসলাম

এই বিজয়টা
একাত্তরে শত্রু ছিল কেবল বাহির পাক সেনারা
ডিসেম্বরের ষোলো তারিখ করছি তাদের এ দেশ ছাড়া।
আমরা এখন বিজয়ী দল লাল-সবুজের পতাকাতে
বহিঃশত্রু শেষ করেছি ঐক্যবদ্ধ বজ্র হাতে।
সময় গড়ায় বাড়তে থাকে দেশটা নিয়ে টালবাহানা
দেশীয় সব শত্রুরা আজ এক হয়ে রোজ দিচ্ছে হানা।
আমরা কি আর দমে যাবো, বসে র’বো ঘর কোনাতে?
বীর বাঙালির রক্ত দেহে সামলাবো সব ঐক্য হাতে।
তোমরা যতই নকশা আঁক, কিংবা করো ছলচাতুরী
আমরা তৈরি আমাদেরও এই বিজয়টা খুব জরুরি।

 

শাহ্ আলম শেখ শান্ত
ঋতুটাও এলোমেলো
শীতকালেও বৃষ্টি পড়ে
বর্ষাকালের মতো
দু-এক ফোঁটা নয়রে বাপু
ঝরছে অবিরত !
রেইনকোট পড়ে যাচ্ছি কাজে
নিজের কাছেই হাসি পায়
অবাস্তব নেই যে এখন
প্রযুক্তিরও হার মানায়-
ওয়ারড্রবে ঘুমাচ্ছে লেপ
আমরা ঘুমাই ফ্যান ছেড়ে
শাকসবজি আমদানি খুব
তবু যাচ্ছে দাম বেড়ে !
ডিম বলো আর ডাব বলো
সব কিছুতে পাই ভেজাল
মানুষ দেখে চেনা কঠিন
কে যে খাঁটি কে যে জাল !
অবাক হয়ে বলে দাদু
কেমন যুগ এসে গেল!
চোখ মেললেই ভেজাল দেখি
ঋতুটাও এলোমেলো


নার্গিস আখতার
বিজয় উল্লাস
লাল-সবুজের পতাকা ওই উড়ছে আকাশে
আয়রে তোরা সাজি আজ বিজয় উল্লাসে।
ভয় কাতুরে ছিল যারা
সাহসী আজ হলো তারা,
ওরা শহীদ, ওরাই মহান, ওরা মোদের ভাই
ওদের আত্মত্যাগের তাই তুলনা তো নাই।
মোমের আলো দাও নিভিয়ে সূর্য উঠেছে
শ্বেত কপোত দেখো তাই ডানা মেলেছে।
লাল-সবুজের পতাকা ওই উড়ছে আকাশে
আয়রে তোরা সাজি আজ বিজয় উল্লাসে।

 

চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু
বিজয় পেয়েছি

বিজয় এসেছে বিজয় পেয়েছি
বিজয় আনল কারা,
লাল টকটকে অগ্নি সূর্য
রক্ত পলাশ যারা।
বিজয় এসেছে বাংলার ঘরে
বিজয় এনেছে কে ?
বাংলা মায়ের বীর সন্তান
মুক্তিসেনা যে।
বিজয় এসেছে যে নেতার ডাকে
সে নেতা অম্লান,
সেই নেতাটি বাঙালির প্রাণ
মুজিবুর রহমান।
বিজয় এসেছে লাল-সবুজের
ওই যে পতাকায়,
সোনার বাংলা গানের তালে
আমার এই বাংলায়।
বিজয় এসেছে তারার আলোয়
ফুটফুটে তারা জ্বলে,
তুমি আমি কে, এক পরিচয়
রক্তে কথা বলে।


মিসির হাছনাইন
আসন্ন শীতের সন্ধ্যায়
হেমন্তের শিশিরভেজা ঘাসে ঘুমিয়ে
থাকা চোখ, জীবনের গল্প বলে দেয়।
সূর্যের আলো নিভে গেলে পরে,
ঠাণ্ডা শরীর তোমার উষ্ণতা খুঁজে ফেরে;
সর্দিকাশিতে উড়ে যায়...সাদা রঙের ধোঁয়া
দেখতে থাকি জীবনের রঙ, কত সুন্দর!
আসন্ন শীতের সন্ধ্যায় এই ঠাণ্ডা শরীর,
উষ্ণ ছোঁয়া খুঁজে ফেরে তোমার চোখে।
স্থির গাছের চুপচাপ পাতায় জন্ম নেয় প্রেম;
তাকিয়ে থাকা নিথর আকাশের মেঘ ফেটে,
হঠাৎ করে নেমে আসা নীলরঙের মেয়ে
হেসে থাকে, সন্ধ্যা জ্যোৎস্নায়-শিউলি ফুলে...
যেথায় লেগে আছে উষ্ণ ছোঁয়ার স্বাদ।
চোখ বন্ধ করে উপভোগ করি যে শীত
শিশিরভেজা ঘাসে নীল চোখের জল
কথা বলেÑ তোমার চলে যাওয়া পায়ে;
চোখ আসন্ন শীতের উষ্ণতা খুঁজে ফেরে।


আবদুল কাদের আরাফাত
তবুও চলতে হয়

একটা স্বপ্ন যদি ভেঙে যায় মাঝপথে
একটা স্বপ্ন হয় ফিকে,
সময়ের উত্তাপে হাজারো রুদ্র চাপে
আঁধার নামে চার দিকে।
অচেনা গতি পথে, শ্লথ জীবনের রথে
বিষাদের মেঘমালা তৈরি,
তবুও চলতে হয় মাড়িয়ে সংশয়
আবহাওয়া হোক যত বৈরী।
প্রিয়জন -১৬৫২


শাহারিয়ার ইমরান
তুমি

তুমি আমার অন্তঃপুরের
ঊর্মি-হিল্লোল।
আমি তটিনী, আমি কুলবতী,
আমি তোমাকে বহন করি।
অন্তঃপুরের সকল অজর ব্যস্ত!
শুধু তোমার বন্দনায়
তুমি আমার শরতের শিশির,
তাই তোমাই যতেœ পুষি হিয়া মাঝে।
তুমি জলধর হয়ে বিচরণ কর,
আমার চাতক তলে।
তুমি আমার শশী, তুমি আমার সুধাকর!
তাই তোমাতে আমি মুগ্ধ
তুমি আমার বনস্পতি, তুমি আমার কুসুমকানন
তাই তোমাতে অম্ল-শুদ্ধি।
ওগো তনয়া, আজো তুমি জ্ঞাত না
তুমি যে আমার অবনী, আমার অদিতি,
তুমি যে আমার রতœবতী।

 


শশধর চন্দ্র রায়
একটি বিজয়

একটি বিজয় একাত্তরের
পূরণ করে আশা,
সেই বিজয় ছিনিয়ে আনে
কামার-কুমার-চাষা।
ল শহীদ জীবন যে দেয়
স্বাধীন দেশের তরে,
লাল-সবুজের পতাকা পাই
বিজয় এলে ঘরে।
একটি বিজয় বীর বাঙালির
ইতিহাসের পাতা,
সেই পাতাতে লেখা আছে
যুদ্ধবিজয়-গাথা।
মুক্তিযুদ্ধের সেই বিজয়ে
ভাসাই স্বপ্ন-তরী,
হেসে হেসে মুক্ত দেশে
সুখী জীবন গড়ি।
লালমনিরহাট

 

নূর মোহাম্মদ দীন
ছন্দপতন

ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেবো নিজেকে
জীবনের ছন্দ-মাত্রার ফ্রেম থেকে -
নিঃশেষ হবো চিরতরে।
শুধু সাী থেকো ছন্দমালা
তুমি নিরাশ করোনি আমায় -
বরং আমি নিজেই হয়েছি নিরাশ!
কবিতায় চাল-চুলো জ্বলে না
তুমি সহ্য করো না এমন হাদিস;
উত্তর দিয়ো,আনন্দ দিয়ো
ছন্দে ছন্দে।
তবু সহ্য করো না ছন্দপতন।

 

সাদিয়া আফরোজ নাবিলা
হেমন্ত

হেমন্ত মানে
আকাশের বুকে টুকরো মেঘের সারি,
হেমন্ত মানে
রাতের আকাশে তারাদের লুকোচুরি।
হেমন্ত মানে
ব্যস্ত কৃষক,আমন কাটার ধুম,
হেমন্ত মানে
কৃষাণীর চোখে নেই তখনো ঘুম।
হেমন্ত মানে
প্রতিটি ঘরেই নতুন চালের ঘ্রাণ,
ঋতুর মাঝে হেমন্তটা রয়ে যাবে অম্লান।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫