বাংলাদেশের ডিজিটাল ম্যাপে মুক্তিযুদ্ধ

আহমেদ ইফতেখার

দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের লাখো ইতিহাস ও ঘটনাকে এক সুতোয় গাঁথতে মুক্তিযুদ্ধের ওপর সর্ববৃহৎ ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির উদ্যোগের নাম মুক্তি পিন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে আগ্রহী যে কেউ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে মুক্তি পিন ম্যাপের মাধ্যমে প্রকাশ করে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এই ডিজিটাল আর্কাইভে অংশ হতে পারবেন।

ডিসেম্বরজুড়ে দেশের ৬৪ জেলায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে ও প্রিয় ডটকমের সরাসরি তত্ত্বাবধানে মুক্তিযুদ্ধের ছোটবড় ঘটনাগুলোকে শনাক্ত করে অজানা ও ক্ষয়িষ্ণু প্রায় ইতিহাসকে দীপ্তিময় করে তোলা হবে। এসব ঘটনা ও ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা হবে বাংলাদেশের ডিজিটাল মানচিত্রের ওপর। এ ডিজিটাল আর্কাইভ ইতিহাসকে পৌঁছে দেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে, যাতে প্রজন্মান্তরে আমাদের অমূল্য মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রামের ঘটনা হারিয়ে না যায়।

এ ব্যাপারে প্রিয় লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাকারিয়া স্বপন বলেন, সর্বস্তরের বাংলাদেশী নাগরিককে এই উদ্যোগে সংযুক্ত করতে ডিসেম্বর থেকে প্রিয় মুক্তি পিন সফটওয়্যারটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে রাখা হবে। উন্মুক্ত করা হবে মোবাইল অ্যাপ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে আগ্রহী যে কেউ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে মুক্তি পিন ম্যাপের মাধ্যমে প্রকাশ করে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এই ডিজিটাল আর্কাইভের অংশ হতে পারবেন। নিজস্ব বিচারক প্যানেল পিনদাতাদের দেয়া প্রতিটি পিনের সত্যতা নিশ্চিত করবে। সাধারণ মানুষের দেয়া পিনগুলোর সত্যতা ও যথার্থতা যাচাই করার জন্য প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান, প্রফেসর ড. কায়কোবাদ, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, ড. গওহর রিজভীর মতো আরো বিশেষ কিছু ব্যক্তিত্বদের নিয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছে প্রিয় লিমিটেড। যারা সঠিক পিন দেবেন তাদের পিনগুলোকে ম্যাপেই ভ্যারিফাই করে দেয়া হবে।

গত ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ প্রকল্পটি চলবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। মার্চে সর্বোচ্চ সংখ্যক সঠিক মুক্তি পিনদাতাদের মধ্য থেকে প্রথম ১০০ জনের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে পুরস্কার ও অন্যান্য সৌজন্য সামগ্রী উপহার দেয়া হবে। পিন করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলা হয়েছে, আপনার স্মার্টফোনটিতে প্রিয় অ্যাপটি ডাউনলোড করুন অথবা ব্রাউজার থেকে priyo.com/muktipin ওয়েব পেজটি ভিজিট করুন। ওয়েব পেজ বা অ্যাপটি লোড হওয়ার পর আপনার সামনে উন্মুক্ত হওয়া স্ক্রিনটিতে পিন করুন নামক বাটনটি ক্লিক করুন। একটি উইন্ডো প্রদর্শিত হবে, সেখানে আপনার প্রাথমিক সব তথ্য (নাম, ফোন নম্বর এবং ইমেইল) দেয়ার পর আপনার পিন সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য দিন। মুক্তি পিনের টাইটেল, ওই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ছবি, ঘটনার বিবরণ, সময়কাল লিখে সঠিক স্থানটি ম্যাপে সংযুক্ত করে পোস্ট বাটনে ক্লিক করুন। ঘটনা সংশ্লিষ্ট সঠিক জায়গাটি ম্যাপে পিন করার সুবিধার্থে ম্যাপের সাথে সংযুক্ত সার্চ অপশনে জায়গাটির নাম লিখে এন্টার ক্লিক করুন। এরপর সঠিক জায়গাটি ম্যাপের মধ্য থেকে খুঁজে বের করে পিন করুন। পোস্ট করার পর আপনার পিনটি প্রাথমিকভাবে ম্যাপে সংরক্ষিত হবে। কিছু সময় পর যাচাই-বাছাই (ভেরিফিকেশন) প্রক্রিয়া শেষে আপনার পিনটি আমাদের মুক্তি পিন ম্যাপে স্থায়ীভাবে প্রকাশ করা হবে। পিন প্রদানের জন্য আপনার দেয়া তথ্যগুলো অবশ্যই বাংলায় হতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইউনিকোড কিংবা অভ্র, অঙ্কুর ইত্যাদি ফন্ট ব্যবহার করা যাবে।

ঐতিহাসিক জায়গাটির যুদ্ধের সময়কার তৎকালীন ছবি দেয়া বাধ্যতামূলক নয়। বর্তমানে ওই স্থানটি যেমন অবস্থায় আছে, সেই ছবিটিও প্রদান করা যাবে। মুক্তিযুদ্ধের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কোনো অবান্তর ঘটনা পিন করা হলে কিংবা পিনকৃত ঘটনাটির সত্যতা না পাওয়া গেলে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাপ থেকে মুছে ফেলা হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.