মোবাশ্বার হাসান
মোবাশ্বার হাসান

কেন নিখোঁজ ছিলেন নর্থ সাউথ শিক্ষক মোবাশ্বার?

নয়া দিগন্ত অনলাইন

এবার ঘরে ফিরেছেন ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোবাশ্বার হাসান।

নিখোঁজ হওয়ার দেড় মাস পর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে ঢাকার বনশ্রী এলাকায় তাদের বাসায় ফেরেন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মি. হাসানের বোন তামান্না তাসমিন বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, তার ভাই বিশ্রামে আছেন। তিনি ক্লান্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।

তিনি আরো বলেন, ভাইয়ের সাথে কথা বলে তিনি এমন ধারণা পেয়েছেন যে তাকে টাকার জন্য অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে।

মি. হাসান তার পরিচিতজনদের কাছে সিজার নামে পরিচিত।

গত এক বছর যাবত বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিটিকাল সায়েন্স অ্যান্ড সোশিওলজি বিভাগে শিক্ষকতা করছিলেন মি. হাসান।

তিনি পিএইচডি গবেষণার বিষয় ছিল বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামের প্রভাব।

তার ফেরার ঠিক দুদিন আগে আরেক নিখোঁজ সাংবাদিক উৎপল দাস বাড়িতে ফেরেন।

তিনিও দুমাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন।

এই দুটি নিখোঁজের ঘটনাই দেশে ব্যাপকভাবে আলোচিত ছিল।

দুজনের ফেরার দাবিতেই বিভিন্ন পক্ষ থেকে বিক্ষোভ প্রতিবাদ হয়েছে।

মোবাশ্বার হাসান কিভাবে বাসায় ফিরেছেন তার একটা বর্ণনা এসেছে তার বোন তামান্না তাসমিনের কাছ থেকে।

তিনি বলেন, তার ভাইকে একটি মাইক্রোবাসে করে বিমানবন্দর সড়কে এনে ছেড়ে দেয়া হয়। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রাত ১টার দিকে বনশ্রীর বাসার নিচে এসে পৌঁছান তার ভাই।

বাসার সামনে এসে সিএনজিচালকের মোবাইল ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের ফোন করেন মি. হাসান এবং বলেন সিএনজি ভাড়া বাবদ ৫শ’ টাকা নিয়ে আসতে।

খিলগাঁও থানা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গির কবির খান জানিয়েছেন, রাত একটার দিকে মি. হাসানের বাবা থানায় ফোন করে তার ফেরার কথা জানিয়েছেন। তবে অসুস্থ থাকার কারণে পুলিশ মি. হাসানের সাথে এখনই কোনো কথা বলছে না। প্রয়োজন হলে তার সাথে কথা বলা হবে।

মিজ তাসমিন তার ফেসবুক একাউন্ট থেকে আজই (শুক্রবার) সকালে বাংলা ও ইংরেজিতে একটি স্ট্যাটাসেও মি. হাসানের ফিরে আসার খবরটি দেন।

তিনি লেখেন, ‘আল্লাহতালার অশেষ রহমতে গতকাল দিবাগত রাত ১টায় আমার ভাইয়া সুস্থ অবস্থায় বাসায় ফিরেছে!’

গত ৭ই নভেম্বর থেকে মি. হাসানকে পাওয়া যাচ্ছিল না।

এ বিষয়ে খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

সূত্র: বিবিসি

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.