সমর্থকদের সাথে রংপুর সিটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির বিজয়ী প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা : শফিউদ্দিন বিটু
সমর্থকদের সাথে রংপুর সিটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির বিজয়ী প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা : শফিউদ্দিন বিটু

রংপুরে জাপার বিজয়

আমার কাছে সব দলের সব মতের মানুষ নিরাপদ থাকবে : নবনির্বাচিত মেয়র মোস্তফা
সরকার মাজহারুল মান্নানরংপুর অফিস

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। বেসরকারিভাবে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা লাঙ্গল প্রতীকে ১,৪২,৩২৪ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু ৪৬,৫৩৯ ভোট পেয়েছেন। বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা ২৯,৩৩৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। লাঙ্গলের বিজয়ে নগরীজুড়ে লাঙ্গলভক্তদের মধ্যে বইছে আনন্দের ঢেউ।
বিজয়ী হওয়ায় আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গাসহ জাতীয় পার্টি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং রংপুরের সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ নগরবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা নয়া দিগন্তকে বলেন, আমার কাছে আজ থেকে নগরীর সব মতের সব পথের মানুষ হবে নিরাপদ আশ্রয়স্থল। যেকোনো ন্যায়সঙ্গত বিষয়ে আমি তাদের পাশে থাকব। আমার দরজায় কখনো উঁচু-নিচুর পর্দা থাকবে না।
তিনি বলেন, এখন আমার প্রথম কাজ হবে নগরীর রাস্তাঘাট ঠিক করা। বর্তমানে এসব রাস্তাঘাট দিয়ে চলাচল করা যায় না। মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। নগরবাসীকে দূর্বিষহ এ অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে প্রথমেই রাস্তাঘাট সংস্কার, মেরামত ও নির্মাণ করতে চাই।
মোস্তফা আরো বলেন, আমার দ্বিতীয় কাজ হবে শ্যামাসুন্দরী খাল দখলমুক্ত করে তাতে পানির ধারা প্রবাহিত করা। শ্যামাসুন্দরীকে আমি ঘাঘট টু ঘাঘটে নিয়ে যেতে চাই। ময়লা আবর্জনা শ্যামাসুন্দরীর স্রোত দিয়ে বয়ে দিয়ে আমি পরিচ্ছন্ন নগরী উপহার দিতে চাই।
মোস্তফা বলেন, আমার তৃতীয় কাজ হবে যানজট নিরসন করা। আগামী ২০০ বছরের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে মাথায় রেখে মাস্টার পরিকল্পনার মাধ্যমে অটো এবং রিকশার জন্য আলাদা লেন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে প্রয়োজনে রাস্তা সংস্কার ও বড় করে যানজট মুক্ত একটি নগরী বানাতে চাই আমি। তিনি বলেন, আমার চতুর্থ কাজ হবে সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে কাউন্সিলর অফিস প্রতিষ্ঠা করা। যাতে নগর ভবনে না গিয়েই নাগরিকেরা কম সময়ের মধ্যে তাদের যাবতীয় সনদ এবং সেবা ওই সব কাউন্সিলর অফিস থেকে গ্রহণ করতে পারেন।
তিনি বলেন, আমার পঞ্চম কাজ হবে পবিত্র ঈদুল আজহা, ঈদুল ফিতর এবং শারদীয় দুর্গাপূজার সময় নগরীর অসহায়, বিধবা, এতিম ও বৃদ্ধদের এক হাজার ৩৫০ টাকা করে উৎসবভাতা প্রদান করা। এ জন্য ব্যয় হবে এক কোটি ৭২ লাখ টাকা। তিনি বলেন, জনগণ সিটি করপোরেশনকে ট্যাক্স দেন। সেই টাকা থেকেই আমি অসহায় মানুষের মুখে উৎসবের দিনগুলোতে হাসি ফোটাব। এটা মূলত জনগণের টাকা। আমি শুধু ব্যবস্থাপনার করে দেবো।
আমার ষষ্ঠ কাজ হবে রংপুর সিটি করপোরেশনে ট্যাক্সের হার কমিয়ে সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আসা। অগ্রাধিকার দিয়ে বর্ধিত এলাকায় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের গড় ট্যাক্স ২১ ভাগ এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের ট্যাক্সের গড় হার ২২ ভাগ। অথচ ঢাকায় গড় ট্যাক্সের হার ৯ ভাগ। ঢাকায় যারা সর্বোচ্চ নাগরিক সুবিধা নিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন তাদের ট্যাক্স যদি কম হয় তাহলে যাদের ঘামের গন্ধের রোজগার দিয়ে বড় সিটি করপোরেশন চলে তাদের ট্যাক্স বেশি হবে কেন?
তিনি বলেন, আমি চাই রংপুরে পাইপলাইনে গ্যাস আনার ব্যাপারে নগরবাসীকে নিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তা বাস্তবায়ন করে কলকারখানা স্থাপন এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরি ও একটি প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করতে।
আমার সপ্তম কাজ হবে সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে কম বেতন কিন্তু মানসম্পন্ন একটি প্লে থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করা। কারণ নগরীর বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বেতন এতটাই বেশি যে সাধারণ ঘরের মেধাবী সন্তানরা চান্স পেলেও অর্থের অভাবে পড়তে পারে না। এক সময় এটিকে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করার স্বপ্ন দেখি। তিনি বলেন, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উত্তরাঞ্চলের আট জেলার মানুষ আসেন। সে কারণে সব সময় আসনের থেকে দ্বিগুণ তিন গুণ রোগী ভর্তি হন। আমার অষ্টম কাজ হবে সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে একটি আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন নগরবাসী।
তিনি বলেন, আমি পরিষদকে মিনি পার্লামেন্টে রূপান্তরিত করব। ৪৪ জন কাউন্সিলর এবং আমি মিলে প্রতিদিন মতামত নিয়ে নগরীর প্রত্যেকটি ক্ষেত্র উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করব। সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থাকাকালীন আমার দরজায় কোনো পর্দা ছিল না। কোনো বাধা ছিল না কারো প্রবেশে। মেয়র হলেও একইভাবে আমার দরজায় কোনো পর্দা থাকবে না, প্রবেশে বাধা থাকবে না।
তিনি বলেন, নগরবাসী আমাকে ভোট দিয়েছেন। আমি তাদের সেবা নিশ্চিত করে আমার জীবনকে ধন্য করতে চাই। এ নগরীর উন্নয়নে অন্যতম বাধা দুর্নীতি ও লুটপাট। এখানে শত শত কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট করা হয়েছে। আমি চেয়ারে বসামাত্রই দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের জন্য হবো জমদূত। তাদের জন্য হবো প্রধান হুমকি। দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আমি জিরো টলারেন্সের নীতি গ্রহণ করব। আমি কখনো দুর্নীতির সাথে আপস করব না। কারণ এ সিটি করপোরেশন কারো বাপের তালুক নয়। এটা নগরবাসীর। এখান থেকে কেউ দুর্নীতি লুটপাট করে নিয়ে টাকার কুমির হবে। তা আমি বরদাশত করব না।
প্রসঙ্গত ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশনে দলীয় প্রতীকবিহীন প্রথম নির্বাচন হয়েছিল। এতে সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু মোটরসাইকেল প্রতীকে এক লাখ ছয় হাজার ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি এবার নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সমর্থন ছাড়াই হাঁস প্রতীক নিয়ে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা পেয়েছিলেন ৭৭ হাজার ৮০৫ ভোট। ওই নির্বাচনে কাওছার জামান বাবলা আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও কারচুপির অভিযোগ এনে আগের দিনই নির্বাচন বয়কট করেছিলেন। তবুও ভোট পেয়েছিলেন ২৪ হাজারের বেশি। এবার তিনি ছিলেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.