ঢাকা, শুক্রবার,১৯ জানুয়ারি ২০১৮

আলোচনা

শিল্পের আনন্দ

ড. আবদুস সাত্তার

২১ ডিসেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৫:২৪


প্রিন্ট

যে জাতি যত শিক্ষিত সে জাতি তত উন্নত। তত সমৃদ্ধ। এ জন্য শিক্ষিত আর অশিক্ষিত জাতির মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য। একজন অশিক্ষিত মানুষের সামনে জ্ঞানের ভাণ্ডার গ্রন্থরাজি থাকা সত্ত্বেও তিনি তা থেকে জ্ঞানার্জন করতে পারেন না। কারণ তিনি নিরক্ষর। নিরক্ষর হওয়ার কারণে তিনি পড়তে পারেন না। আর পড়তে পারেন না বলেই ন্যায়-অন্যায়, পাপ-পুণ্য, ভালোমন্দ কিংবা মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সৃষ্টি এবং সৃষ্টিরহস্য সম্পর্কেও কিছু জানতে কিংবা বুঝতে পারেন না। এরূপ নিরক্ষর মানুষ এ জন্যই সঠিক পথের সন্ধানও পান না। পক্ষান্তরে একজন অক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষিত মানুষ গ্রন্থের সাহায্যে সব কিছু জানতে ও বুঝতে পারেন। শুধু তাই নয়, একজন শিক্ষিত মানুষ পরকালের বিশাল অজানা জগত সম্পর্কেও জানতে পারেন। ইহকাল এবং পরকালের পার্থক্য অনুধাবন করতে সক্ষম হন। পবিত্র-অপবিত্র, সুন্দর-অসুন্দরের বিষয়গুলো তার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, প্রত্যেক মানুষই সুন্দরকে পছন্দ এবং অসুন্দরকে অপছন্দ করেন। কুৎসিত কিংবা মন্দ কোনো কিছুই কেউ পছন্দ করেন না।

যে সুন্দরের প্রতি মানুষের দুর্বার আকর্ষণ সেই সুন্দর কী? সুন্দরের ব্যাখ্যাইবা কী? কাকে বলা হবে সুন্দর। সুন্দরের স্বরূপটাইবা কী? সুন্দরকে নিয়ে এই যে প্রশ্ন, এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া সহজ নয়। যদিও সুন্দর বা সৌন্দর্য বিষয়ে মানুষ খুব বেশি মাতামাতি করে। শরীরী এবং অশরীরী এই দ্বিবিধ সুন্দরের কথা অনেকেই জানেন। শরীর হচ্ছে শরীর বিষয়ক। যেমন জীবজন্তু, পাখি এবং মানুষ। আর এর বিপরীতটাই হচ্ছে অশরীরী। এই দ্বিবিধ বিষয়ে সম্পর্কিত সুন্দর বা সৌন্দর্য সম্পর্কে বিভিন্ন পণ্ডিত বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন। তাত্ত্বিক ফিসিঁনো বলেছেন- আলো, দৃষ্টিশক্তি এবং শব্দই হচ্ছে সৌন্দর্যের বিষয়। যেমন সঙ্গীতের সুমধুর সুরলহরী। তাত্ত্বিক লিও বাতিস্তা আল বের্তির মতে, যা আমাদের সামনে উদ্ভাসিত হয়, যার সাথে কোনো কিছু যোগ বা বিয়োগ করার প্রয়োজন হয় না। তাই সুন্দর। তিনি মনে করেন, নৌন্দর্য হচ্ছে একটি বিশেষ গুণ, যা জন্মগত এবং শরীর বা দেহের সর্বত্র পরিব্যাপ্তি লাভ করে। আলব্রেক্ট ডুরার বলেন, প্রকৃত সৌন্দর্য বিষয়বস্তুর ঐক্যের ওপর নির্ভরশীল। রাস্কিন বলেন, আধ্যাত্মিকতা ও ঐশ্বরিকতার অভিব্যঞ্জনাই সৌন্দর্যের কারণ। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘চকিত আলোকে কখনো দেখা দেয় সুন্দর, দেয় না তবু ধরা’। তিনি আরো বলেছেন, ‘যে আলোয় দোলে অন্ধকারে দোলে, কথায় দোলে সুরে দোলে, ফুলে দোলে ফলে দোলে, বাতাসে দোলে, পাতায় দোলে, সে শুকনোই হোক, তাজাই হোক, সুন্দর হোক, অসুন্দর হোকÑ সে যদি মন দোলালো তো সুন্দর হলো।’ আরো অসংখ্য তাত্ত্বিক এবং দার্শনিক আছেন যারা সুন্দর বা সৌন্দর্য বিষয়ে তাদের অভিমত প্রকাশ করেছেন। তবে তারা যা বলেছেন সেসব তথ্য এবং এখানে আলোচ্য অভিমতগুলো এটা প্রমাণ করে, সুন্দর বা সৌন্দর্যের বিষয়গুলো মূলত শিল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ যা সুন্দর তাই শিল্প। শিল্পের এই সরল ব্যাখ্যা প্রমাণ করে শিল্প মানবজীবনের সাথে গভীরভাবে জড়িত। প্রকৃতিতে আমরা যে ফুল দেখি সেই ফুল সুন্দর হলেও শিল্প নয়। কিন্তু একজন দক্ষ শিল্পী যখন সেই ফুলকে রঙে রসে ক্যানভাসে বা কাপড়ে ফুটিয়ে তোলেন তখনই তা শিল্পে পরিণত হয়। এ শিল্প কোনো প্রয়োজন না মেটালেও মানুষের আত্মিক চাহিদাকে, ভালো লাগার চাহিদাকে মিটিয়ে থাকে। ফুল স্ন্দুর, ফুলের সুগন্ধি হৃদয় মনকে ভরিয়ে দেয়। ফুল দিয়ে মানুষ ঘর সাজায়। ফুলদানিতে রাখা ফুল সুগন্ধী ছড়ায়। মানুষ ফুলের সৌন্দর্য মন ভরে উপভোগ করে। এ জনই সম্ভবত আমাদের প্রিয়নবী খাদ্যের পরেই ফুলকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ফুল যে সৃষ্টিকর্তার অপূর্ব সৃষ্টি এ বিষয়টি শিল্পী তার অঙ্কিত ফুলের মাধ্যমে স্পষ্ট করে তোলেন। বাস্তব ফুল একসময় বিনষ্ট হয়। কিন্তু শিল্পী অঙ্কিত ফুল সহজে বিনষ্ট হয় না। যুগ যুগ ধরেই সে ফুল মানুষের মনের ক্ষুধা মেটায়। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিরহস্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। একইভাবে শিল্পী সৃষ্ট অন্য বিষয়গুলোও সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সৃষ্টিরহস্যের বিষয়গুলো অজ্ঞ মানুষকে জানতে বুঝতে সহায়তা করে।
পৃথিবী সৃষ্টির পর মানুষ ভাষাজ্ঞান লাভের বহু আগে ছবি আঁকা শিখেছে। মনের ভাব প্রকাশে ছবি ব্যবহার করেছে। যখন ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে শেখেনি, তখন পাহাড়ের গুহায় বসবাস করতে গিয়ে মানুষ অসংখ্য জীবজন্তুও শিকারী মানুষের ছবি এঁকেছে পাহাড়ের গায়ে। সেই থেকে শিল্পের যাত্রা শুরু। ক্রমান্বয়ে সেই শিল্পধারা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষণীয় বিষয়ে পরিণত হওয়ায় অধিকতর সমৃদ্ধ হয়েছে। শিল্প নির্মাণের হিসাব-নিকাশ এবং অনুপাতের বিষয় উৎকৃষ্টতর হওয়ায় শিল্পরূপ যথার্থ এবং অতি মনোরম হয়েছে। আকাশ ছোঁয়া বহুতল ভবন কিভাবে প্রচণ্ড গতিসম্পন্ন ঝড়ঝাপ্টা সহ্য করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, কিভাবে ইমারতের অভ্যন্তর ভাগের ক্ষেত্রগুলোকে দর্শনীয় এবং ব্যবহার উপযোগী করা যায়, ইমারতের বাহ্যিক রূপকে গর্বিত শিল্পের রূপ দেয়া যায় ইত্যাকার বিষয় নিয়ে একজন শিল্পী দিনরাত গবেষণা করেন, নকশা করেন এবং সেই কল্পনার নকশাকে বাস্তবে রূপ দেন। নকশা বিষয়ে শিক্ষিত একজন দক্ষ শিল্পী ছাড়া এ কাজ করা সম্ভব হয় না। মানুষ দৈনন্দিন জীবনে যেসব কাপড়-চোপড়, পোশাক-আশাক ব্যবহার করেন সেই কাপড়ের রঙ, নকশার কাজের সাথেও জড়িত থাকেন শিল্পী। মানুষ যখন ক্রয় করতে হাটবাজারে যান, তখন দোকানের পর দোকান ঘুরে বেড়ান তার পছন্দমতো রঙ-নকশায় সমৃদ্ধ কাপড় কিংবা পোশাকের জন্য। সুন্দর নকশাসমৃদ্ধ শাড়ি, ব্লাউজ, সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি, শেরোয়ানি, টুপি, জায়নামাজ কার্পেট, সব কিছুর পেছনে রয়েছে শিল্পীর অবদান। শিল্পী যত শিক্ষিত এবং দক্ষ হবেন এসব সামগ্রী হবে তত সুন্দর ও আকর্ষণীয়। যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশ থেকে অর্থ উপার্জনে সক্ষম হয়ে থাকে।
তাজমহল বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়কর সুন্দর স্থাপত্য শিল্প। এ শিল্পের পরিকল্পনা, নকশা এবং অলঙ্করণের পেছনে রয়েছে শিল্পীর অবদান। শিল্পীই পবিত্র আরবি অক্ষর বিন্যাসের মাধ্যমে ক্যালিগ্রাফি শিল্পের সমন্বয়ে তাজমহলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছেন। ক্যালিগ্রাফি ফুল ও লতাপাতা সমন্বয়ে করেছেন আকর্ষণীয়। শিল্পীর হাতের ছোঁয়া ছাড়া তাজমহলকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করা সম্ভব ছিল না। বিশ্বব্যাপী ধর্মীয় উপাসনালয় মসজিদ অলঙ্করণের দায়িত্বও পালন করেছেন শিল্পী। লতাপাতা ফুল এবং আরবি লিপি সমন্বয়ে যে নকশার সৃষ্টি করেছেন তা অপূর্ব দর্শনীয় রূপ লাভ করেছে। আল্লাহ পবিত্রতা ও সুন্দরকে পছন্দ করেন। কারণ তাঁর সৃষ্টি বেহেশত এবং বেহেশতের যাবতীয় জিনিস সুন্দর। তাঁর সৃষ্ট পৃথিবী এবং গ্রহ নক্ষত্র ও আকাশ সুন্দর। সবত্রই সুন্দরের সমারোহ। আর শিল্পী প্রকৃত অর্থে এই স্ন্দুরের চর্চা করতে গিয়ে মূলত সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকেই স্মরণ করে থাকেন। শিল্পী তার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার বিষয়ও স্মরণ করেন যখন আল্লাহসৃষ্ট সব বিষয়কে যথাযথভাবে প্রকাশ করতে ব্যর্থ হন। শিল্পী-সৃষ্ট ক্যালিগ্রাফি ইসলামী বা ধর্মীয় শিল্পকর্মের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলা যায়, ইসলামী শিল্পের বিস্ময়কর অধ্যায়। যে শিল্পের সাথে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ, তাঁর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআন এবং মহামানব হজরত মুহাম্মাদ সা.-এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এ জন্য পবিত্র শিল্প ক্যালিগ্রাফির গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে যিনি যত সার্থকভাবে এ বিদ্যা শিক্ষা লাভ করতে পারেন তিনি তত বেশি সুন্দরভাবে, সার্থকভাবে শিল্প সৃষ্টি করতে পারেন।
বিশ্বের সর্বত্র বিভিন্ন জাতি তার ধর্ম ও সংস্কৃতির আদর্শ অনুসরণে শিল্পকর্ম চর্চা করেন। ফলে শিল্পের সাথে ধর্ম-বর্ণ ও সংস্কৃতির সম্পর্ক থাকে। এ জন্য হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের শিল্পকর্মের চরিত্র বৈশিষ্ট্য ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। এ ছাড়া স্থান কাল ভেদেও শিল্পের চরিত্র ভিন্ন ভিন্ন হয়। যেমন এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা এবং ইউরোপের শিল্পকর্ম এক হয়। ভিন্ন ভিন্ন। যদিও প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়নের কারণে আন্তর্জাতিকতা নামে এক ধরনের বিভ্রান্তিকর শিল্পের জন্ম নিয়েছে বিশ্বব্যাপী। এ শিল্পে বিশেষ কোনো দেশ বা জাতিসত্তার পরিচয় পাওয়া যায় না। যেমন ব্রিটিশদের আগমনের ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের শিল্পকর্মে পরিবর্তন আসায় ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। যাকে আন্তর্জাতিক বা পশ্চিমা রূপ বলা হয়। এই আন্তর্জাতিক বা পশ্চিমা রূপের প্রবল ধাক্কা বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনকেও অস্থির করে ফেলেছে। ফলে পশ্চিমা প্রভাব প্রাধান্য বিস্তার করে রেখেছে। পশ্চিমা প্রভাবের এসব শিল্পকর্মের একটি বড় অংশ নির্বস্তুক, অর্থাৎ বিমূর্ত এবং আধাবিমূর্ত। বাদবাকি বাস্তবধর্মী।
শিল্পকর্মের মধ্যে আরেক ধরনের শিল্প পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই বিশাল ভূমিকা পালন করে চলেছে। এ শিল্পের ব্যবহারিক দিক রয়েছে বলে এগুলোকে মাইনর বা অপ্রধান শিল্প বলা হয়। যেগুলোকে আমরা কমার্শিয়াল আর্ট বলে জানি সেগুলো এবং কারুশিল্প এর অন্তর্ভুক্ত। শিক্ষার উপকরণ এবং বই শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই শিক্ষার প্রয়োজনে ব্যবহার করতে হয়। পেন্সিল, কলম, জ্যামিতি বক্স, খাতা প্রভৃতি ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী পড়ালেখার কাজ সম্পন্ন করতে পারে না। এ সব উপকরণের ওপর নানা ধরনের চিত্র অঙ্কিত থাকে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে। বইয়ের থাকে নানা ধরনের আকর্ষণীয় চিত্র সংবলিত কভার বা প্রচ্ছদ। বইয়ের ভেতরেও থাকে নানা ধরনের চিত্র। দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত থালাবাসন, কাপ-পিরিচ বা অন্যান্য পাত্রেও থাকে নানা ধরনের ফুল ও লতাপাতার সুন্দর চিত্রকর্ম। বিছানার চাদর, বালিশের কভার, দরজা জানালার পর্দা, কাঠের আসবাবপত্র, খাট পালঙ্ক, চেয়ার টেবিলসহ এমন কোনো কিছুই খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে ছবি কিংবা অলঙ্কার নেই। মহিলারা যেসব গহনা ব্যবহার করেন সেসব গহনাতেও থাকে নকশা। পবিত্র ধর্মগ্রন্থাদির কভার এবং অভ্যন্তরেও ক্যালিগ্রাফি নকশা ব্যবহার করা হয় দৃষ্টিনন্দন করার জন্য। অর্থাৎ সব শ্রেণীর মানুষের জীবনের সাথে শিল্পকলা এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে, এগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার কথা ভাবাই যায় না। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছেÑ বাংলাদেশ সরকার শিল্পকলাকে গুরুত্বহীন বিবেচনা করছে। বিষয়টিকে নিরুৎসাহিত করতে বিদ্যালয় পর্যায় থেকে শিল্পকলা বাদ দেয়া হচ্ছে বলে শিল্পীদের পক্ষ থেকে জানা যাচ্ছে। তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নানাভাবে প্রতিবাদ করছেন। পত্রপত্রিকা ফেসবুকে খবর প্রকাশিত হচ্ছে!
বর্তমান সমাজব্যবস্থায় এবং জীবনধারায় এটা প্রমাণিত আর্ট বা শিল্প মানুষের জন্য, সমাজের জন্য এবং সভ্যতার জন্য অপরিহার্য। কিন্তু আর্ট বা শিল্প ছাড়া কি মানুষ চলতে পারে না? এমন প্রশ্নও করেন আমাদের সমাজের অনেকেই। এ ধরনের প্রশ্ন যারা করেন তাদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন মানুষের উৎপত্তি ও বিকাশবিষয়ক বিজ্ঞানী বা নৃতত্ত্ববিদ হোয়েবেল। তিনি বলেছেন, মানুষ শিল্প ছাড়াও চলতে পারে। তবে এভাবে চলতে হলে মানুষকে বানর বা গরিলা যুগে ফিরে যেতে হবে (প্রিপারেশন ফর আর্ট, ক্যালিফোর্নিয়া, পৃ. ১৯)। অর্থাৎ সেই প্রথম যুগে। যখন মানুষের বিকাশ ঘটছে। যখন না ছিল শিক্ষাব্যবস্থা, না ছিল শিল্প সংস্কৃতির ধারণা। অন্ধকার গুহায় যাদের বাস তাদের এসব নিয়ে ভাবনারও অবকাশ ছিল না। এমন একটি যুগে ফিরে গেলে মানুষের শিল্প তো দূরের কথা সভ্যতা ভব্যতারও প্রয়োজন হবে না। অথচ এভাবে মানুষ দিব্বি বসবাস করতে পারবে। হোয়েবেলের বক্তব্য সে কথাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন সুন্দর পোশাক পরা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র হয়ে থাকা, মানুষের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলা, সুন্দর আচরণ করা, সুন্দরভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ করা, স্ন্দুর সৎ জীবনযাপন করা- এসবই তো শিল্পেরই অংশ। সুতরাং শিল্পকে বাদ দেয়ার কোনো উপায় নেই। শিল্পকে বাদ দেয়ার অর্থ স্ন্দুরকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করা। যা নবী সা:-এর আদর্শেরও পরিপন্থী। সুন্দর সমাজ, সুন্দর ঘরবাড়ি, সুন্দর পরিবেশ, সুন্দর মানুষ, মানুষের সুন্দর মন ও আচরণ কে না চাইবে। সুন্দরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার যে কোনো সুযোগ নেই এই বোধ সবার মাঝে জাগ্রত হোক এটাই আমাদের কাম্য।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫