প্রাণ ছিনতাই
প্রাণ ছিনতাই

প্রাণ ছিনতাই

জসিম উদ্দিন

পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জ সড়কে ভিন্ন ধরনের এক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটল। কয়েক হাজার টাকার সাথে ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা মোবাইলটি খোয়া গেলে এটা একটা স্বাভাবিক ছিনতাইয়ের ঘটনাই হতো। ঢাকার অলিগলিতে প্রতিদিন যেমন ঘটে চলেছে। সে ধরনের কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা এটি ছিল না। এই ছিনতাইয়ের ঘটনাটি নির্মম ও নিষ্ঠুর অরেকটি ট্র্যাজেডির জন্ম দিয়েছে। শরীয়তপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন এক কৃষক দম্পতি। তাদের দুই শিশুসন্তান। বড় সন্তানটির কঠিন রোগ। তাকে চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় আসা। এই কৃষক ঢাকা শহরকে বেশ ভয়ও পান। তিনি আগে থেকে জানেন এখানে চোর, ডাকাত ও বিভিন্ন শ্রেণীর নির্দয় মানুষ রয়েছে। তার ধারণায় ওই মানুষ অর্থকড়ি কেড়ে নেয়, মারধর করে এ পর্যন্ত। কিন্তু একেবারে এই সূত্রে তার শিশুপুত্রের প্রাণ কেড়ে নেবে এতটা ভাবেননি। 

লঞ্চ থেকে তাই একটু দেরি করে নেমেছেন তিনি। দিনের আলো চার দিকে তখন উদ্ভাসিত হয়ে গেছে। ছিনতাইকারীরা দারুণ প্রশিক্ষিত, তাদের টার্গেট সঠিক। এই ভ্যানিটি ব্যাগে গ্রাম থেকে আসা দম্পতির মূল্যবান অর্থকড়ি আছে, তারা নিশ্চিত বুঝতে পেরেছিল। তারা যখন ওই নারীর কাছ থেকে ভ্যানিটি ব্যাগটি ছিনিয়ে নিচ্ছিল, তখন কোলে থাকা ছয় মাসের শিশুটির কী হবে সেটা তাদের জন্য কোনো ভাবনার বিষয় ছিল না। চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে গাড়ির চাকার নিচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে; সম্ভাবনা থাকে নর্দমায় পড়ে যাওয়ার। হেঁচকা টানে ভ্যানিটি ব্যাগ তারা পেয়ে গেছে। চলন্ত রিকশা থেকে শিশুটিও ছিটকে পড়েছে রাস্তায়। আঘাত পেয়ে শিশুটি প্রাণ হারিয়েছে।
গত দুই মাসে এই ছোঁ পার্টির হাতে প্রাণ হারিয়েছেন দু’জন। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের এক চিকিৎসক কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে তাদের শিকার হন। ছিনতাইকারীরা তার ব্যাগ ধরে হেঁচকা টান দিলে তিনি রাস্তায় পড়ে গিয়ে আহত হন। পরে মারা যান। অন্যজন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তিনি এক নারীকে ছিনতাইকারীদের কবল থেকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন। ছিনতাইকারীরা তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে খুন করে। ছিনতাইকারীদের টার্গেট একটাই। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য কারো প্রাণ গেলে তাদের কিছু যায় আসে না।

শরীয়তপুরের এই কৃষক পরিবারটি রোগাক্রান্ত অন্য শিশুটির চিকিৎসা করাতে পারেননি। এর মধ্যে সুস্থ শিশুটিকে হারিয়েছেন। ছিনতাইকারীদের এ ধরনের শত শত ছিনতাই সংশ্লিষ্ট মর্মান্তিক ঘটনা ঢাকায় অহরহ ঘটছে। অর্থকড়ি ও মূল্যবান সম্পদ হারিয়ে এটাকে নিয়তি হিসেবে মেনে নিয়েছে ঢাকার অধিবাসী। সম্ভবত ঢাকার মানুষেরা নাগরিক জীবনের একটি অনুষঙ্গ হিসেবে এটিকে আত্মস্থ করেছেন। তাই তারা হয়তো আরো অনেক বঞ্চনার সাথে এটিকে একটি সাধারণ বঞ্চনা মনে করেন। কোলের সন্তান এভাবে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে প্রাণ হারালে গ্রামের একজন কৃষক কিভাবে নেবেন বিষয়টি? তিনি তো নিয়তি হিসেবে একে মেনে নেয়া ঢাকা শহরের বাসিন্দা নন।

সিরিয়াস সব অপরাধ বাংলাদেশে কেবল খবরের উপাদান হয়ে থাকছে। যেমন পত্রিকা এই পরিপ্রেক্ষিতে খবর দিয়েছে, ‘টানা পার্টির দৌরাত্ম্য’ শিরোনামে। এরা হচ্ছে সেই পার্টি, যারা ছোঁ মেরে ব্যাগ-ল্যাপটপসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। তারা খবর দিয়েছে, ১৪১ স্পটে ছিনতাইকারী চক্র রয়েছে। ছিনতাইকারীদের নিয়ে সংবাদমাধ্যমে সব সময় খবর থাকে। গ্রামের এ শিশুটি প্রাণ হারানোর পরও ছিনতাইয়ের একটি দীর্ঘ ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়েছে। এভাবে এক একটি বড় অপরাধ হলে তার পরিসংখ্যান বরাবর তুলে ধরা হচ্ছে। পরদিন অন্য আরেকটি অপরাধ বড় হয়ে দেখা দেয়। তখন আগের দিনের অপরাধটি হয়ে যায় নস্যি। সেটা নিয়ে মুহূর্তও ভাবার সময় থাকে না আর কারো।
আমরা কেবল সাধারণ মানুষের ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার খবর জানতে পারি। তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ পাই। এতে করে অপরাধী ও তাদের অপরাধ সংগঠন এলাকা বিবরণ পাওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এসব এলাকা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

অপরাধীরা আটক হয়েছে, বিচারের মুখোমুখি হয়েছে, এমনটি খুব কম জানা যায়। এমন খবর কখনো শোনা যায়নি ছিনতাইকারী একটি চক্র পুলিশের কাউন্সিলিংয়ের পর ছিনতাই ছেড়ে দিয়েছে। তারা এখন সারা দেশের ছিনতাইকারীদের সঠিক পথে ফেরার জন্য কাজ করে যাচ্ছে পুলিশের সাথে মিলে। আগামী শত বছরেও এমন খবর পাওয়ার সম্ভাবনা অন্তত বাংলাদেশে নেই। জরিপ চালালে বরং দেখা যাবে, পেশাদার ছিনতাইকারীর সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তাদের সাথে যুক্ত রয়েছে পুলিশের একটি গ্রুপও।

পুলিশ কোন পক্ষে রয়েছে
এভাবে প্রতিকারহীন বর্ধিত হারে অপরাধের চর্চা হয়ে চলছে বাংলাদেশে। রচিত হচ্ছে অপরাধের এক মহাকাব্য। মঙ্গলবার মর্মান্তিক ও নির্দয় শিশু মৃত্যুর খবরের মধ্যে একটি পত্রিকা প্রধান শিরোনাম করেছে পুলিশ নিয়ে। ওই প্রতিবেদনে একজন ব্যবসায়ী বর্ণনা দিয়েছেন কিভাবে তার অর্থ ছিনতাই হয়ে গেল। এই ছিনতাইকারী পুলিশ নিজে। কিন্তু ওই ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ করতে পারেননি ওই পুলিশ ছিনতাইকারীর।

তিনি জানান, দক্ষিণখান মোল্লারটেকে একটি চায়ের দোকানে এক বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সময় নভেম্বর মাসের ১০ তারিখ বিকেল সাড়ে ৪টা। তার কাছে থাকা টাকা গুনছিলেন তিনি। এই সময় পুলিশের একজন উপপরিদর্শক এক ইনফরমারসহ তার ওপর হামলে পড়ে। সার্চ করে তার কাছে ৪০ হাজার টাকা পায়। ওই সময় জোর করে তাকে পাশে অন্য একটি চায়ের দোকানে নিয়ে যায়। সেখানে আরেকজন উপপরিদর্শকসহ আরো তিনজন পুলিশ সদস্য ছিলেন।

ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘উপপরিদর্শক আমার কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। তখন এই বলে শাসায় যে, টাকা নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি যেন আমি ভুলে যাই। অন্যথায় আমার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হবে।’

একজন সাধারণ মানুষ থেকে যেভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়া হলো সেটাকে ছিনতাই ছাড়া অন্য কিছু বলা যায় কি? সাধারণত ছিনতাইকারীরা ছোঁ মেরে অর্থকড়ি ও গয়নাগাটি ছিনিয়ে নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে হাওয়া হয়ে যায়। কারণ, তাদের ধরা খাওয়ার ভয় রয়েছে। ধরা পড়লে গণপিটুনিতে প্রাণ হারানোর শঙ্কা রয়েছে। অনেক ছিনতাইকারী এমন গণপিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছে। পুলিশ যেই কায়দায় অর্থ কেড়ে নিলো, এর সাথে ছিনতাইকারীর পার্থক্য হলো : পুলিশের গায়ে আইনের পোশাক ছিল। আর ছিল আইন। যেমনটি ওই পুলিশ উপপরিদর্শক বলেছেন, মাদক চোরাচালানের মামলা দিয়ে দেবো। বাড়তি হিসেবে ছিল তাদের হাতে বৈধ অস্ত্র। পুলিশ রাষ্ট্রের নিরাপত্তার চাদর গায়ে নিয়ে অপরাধটি করেছে। অন্য দিকে ছিনতাইকারীরা অপরাধটি করছে কোনো ধরনের নিরাপত্তা চাদর ছাড়া। এ ছাড়া আর কী পার্থক্য থাকতে পারে দুই ছিনতাইয়ের মাঝে।

ওই প্রতিবেদনে পত্রিকাটি জানাচ্ছে, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। পুলিশ দফতর থেকে জানা গেছে, প্রতিদিন ৪৫টি অভিযোগ পাওয়া যায় পুলিশের বিরুদ্ধে। ছিনতাই, ইয়াবা দিয়ে তরুণদের বিরুদ্ধে মামলা গঠন, মুক্তিপণের জন্য ব্যবসায়ী অপহরণ, সন্দেহভাজন বলে কাস্টডিতে নিয়ে নির্যাতন। রিকশা ও ছোটখাটো যানবাহন থামিয়ে চাঁদা নিতে গিয়ে ট্রাফিক জ্যাম বাধিয়ে দেয়া হচ্ছে ঢাকায়। এগুলো হচ্ছে প্রতিদিন পুলিশের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ। তাহলে যেসব অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল হতে পারে না তার সংখ্যা কত? সাধারণত মানুষ অন্যায়ের শিকার হলেও পুলিশের বিরুদ্ধে কিছু বলে না। কারণ, তারা জানে এর ফলে উপর্যুপরি আরো হয়রানি ও নিষ্ঠুরতা নেমে আসবে। সুতরাং একবার নিপীড়িত নির্যাতিত হলেও পুনর্বার না হওয়ার ভয়ে চেপে যাওয়াকে বুদ্ধিমানের কাজ তারা মনে করে।

ওই প্রতিবেদনে পুলিশের সূত্রে জানানো হচ্ছে, এ ধরনের অপরাধ পুলিশের একেবারে নিম্নপর্যায়ে ঘটছে বেশি। এর কারণও তাদের পক্ষ থেকে জানা যাচ্ছে। এরা সবাই ঘুষ দিয়ে চাকরি নিয়েছে। একজন কনস্টেবল ছয় থেকে সাত লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছে। একজন পরিদর্শক নিযুক্ত হয়েছে ১৫ লাখ টাকা দিয়ে। এই ঘুষ তারা এখন বিনিয়োগ হিসেবে কাউন্ট করছে। যেই বেতন চাকরি থেকে আসে তা বিনিয়োগের তুলনায় যথেষ্ট নয়। ফলে তারা সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয়ে তা তুলে নিতে চায়। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মানুষের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব নিয়ে তারা উল্টো নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কাজে নেমে পড়ছে।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সন্তুষ্ট রাখতে নিয়মিত টাকা দিতে হয়। এ ছাড়া নিয়োগ-পদোন্নতিও নির্ভর করে ঘুষের ওপর। এ কথাগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে পেয়ে প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ হয়েছে। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুতর অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে এ ধরনের অসংখ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমান সময়ের বাস্তবতা হচ্ছে, সরকার ও ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এই বাহিনীর উচ্চ প্রশংসা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রতিকার ও শুদ্ধি অভিযান প্রত্যাশা করা যায় না। তবে কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে, তাহলে সেটা হয় অনেকটাই নামমাত্র। ভয়াবহ নৈতিক স্খলন দূর করতে হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রয়োজন।

চাকরিচ্যুতির মতো শাস্তি থাকতে পারে। যেসব অপরাধ তারা করেছে একজন সাধারণ নাগরিক করলে তার জেল-জরিমানা ও বিভিন্ন দণ্ড হয়ে যেত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যখন একই অপরাধ করছে সে দায়মুক্তি পাচ্ছে। তাকে কোনো ধরনের আইন-আদালতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে না।

অনুসরণীয় হননি মন্ত্রী ছায়েদুল হক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হকের মৃত্যু নিয়ে খুব একটা আলোচনা হয়নি। একজন সিটিং মন্ত্রীর মৃত্যুর খবরটি পত্রিকার শেষের পাতায় ছাপা হয়েছে। কয়েক দিন পর একটি পত্রিকা তার গ্রামের বাড়ির একটি ছবি দিয়ে তার অনাড়ম্বর জীবন যাপনের চিত্র তুলে ধরেছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে চৌচালা ঘরটির টিন পুরনো। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ঘরটির নিচের অংশটি মাটি খেয়ে ফেলেছে। চালের ওপর শিম ও লাউয়ের ডগা পুরনো জংধরা ঘরটিকে যেন কিছুটা আড়াল করে রেখেছে। না হয় এর ভগ্নদশা আরো প্রকাশ হয়ে পড়ত।
নাসিরনগর উপজেলার পূর্বভাগ ইউনিয়নের পূর্বভাগ গ্রামের উত্তরপাড়ায় রয়েছে তার দু’টি টিনের ঘর। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া এ দু’টি টিনের ঘরই তার সম্পদ। দীর্ঘ দিনের পুরনো দুই ঘরের একটিতে তিনি থাকতেন আর অন্যটিতে ছিল তার বৈঠকখানা। ঘরের ভেতরের কেমন আসবাব রয়েছে তার বর্ণনা দিয়েছে পত্রিকাটি। টিনের দুই ঘরে শুধু দু’টি খাট। তার সাথে রয়েছে কাঠের সামান্য কিছু আসবাব এবং প্লাস্টিকের কয়েকটি চেয়ার। বাড়িতে আসলে এই খাটেই তিনি ঘুমাতেন।

যখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পাঁচবারের এমপি হওয়া জনপ্রিয় এক নেতার কৃচ্ছ জীবনযাপনের চিত্র লো প্রোফাইলে হলেও হাইলাইট করার চেষ্টা হচ্ছে, তখন একই দলের অন্য নেতারা কী করছেন। একই সময় খবর পাওয়া যাচ্ছে, এক সংসদ সদস্য এক কলেজের কাছ থেকে স্বর্ণের নৌকা উপহার নিচ্ছেন। তিনি ময়মনসিংহ ফুলপুর-তারাকান্দা আসনের সংসদ শরীফ আহমেদ। তারাকান্দা উপজেলার বঙ্গবন্ধু কলেজ জাতীয়করণ উপলক্ষে এই সংসদ সদস্যকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। অনেক নেতার বিরুদ্ধে আছে খাল দখল, নদী দখল ও খাসজমি দখলের ভয়াবহ অপরাধের অভিযোগ।
একটি কলেজ জাতীয়করণ হলে ওই কলেজের ছাত্র ও শিক্ষকেরা লাভবান হন। শিক্ষা অর্জন করা তাদের জন্য সহজ হয়, কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্যকে কেন এ উপলক্ষে সংবর্ধনা দিতে হবে। রাষ্ট্র এই সুযোগ করে দিয়েছে। এ জন্য বাড়তি যে অর্থ খরচ হবে, সেটা জনগণের তহবিল থেকে যাবে। একই সময় আওয়ামী লীগ ও এর সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে সংবাদমাধ্যমে যেসব খবর প্রকাশ হচ্ছে তার সাথে ছায়েদুল হকের জীবনের কোনো মিল নেই। তিনি নাকি সব সময় বলতেন দুনিয়ার চাকচিক্য থাকবে না, একদিন সব কিছুর হিসাব দিতে হবে। এমন চেতনা ক্ষমতাসীনদের কারো মধ্যে সাম্প্রতিককালে দেখা যায়নি, বরং সবার কর্মকাণ্ডে এমনটিই মনে হয়- আওয়ামী লীগ সব সময় ক্ষমতায় থাকবে। তাদের জন্য সুযোগ সুবিধার যে দুয়ার খুলে গেছে, উত্তরোত্তর সেটা আরো বেগবান হবে।

jjshim146@yahoo.com

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.