বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ‘নির্বাচিত’ হওয়া
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ‘নির্বাচিত’ হওয়া

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ‘নির্বাচিত’ হওয়া

শহীদুল আযম

আমাদের দেশে যেকোনো কাজ বা প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের ক্ষেত্রে মাত্র একটি বৈধ দরপত্র পাওয়া গেলে তা অগ্রাহ্য করে পুনঃ দরপত্র আহ্বানের বিধান রয়েছে। অথচ বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে কোনো আসন বা পদে মাত্র একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকেই সরাসরি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় ‘নির্বাচিত’ ঘোষণা করা হয়। প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সেটি হয়তো বেআইনি বা অবৈধ নয়। ক্ষুদ্র পরিসরে কম গুরুত্বপূর্ণ অথবা অনানুষ্ঠানিক কোনো নির্বাচনে এমনটি ঘটাকে অস্বাভাবিক বা আপত্তিকর বলা যায় না।

তবে অন্যান্য নির্বাচনেও মোট পদের বড়জোর দুই থেকে চার শতাংশ ক্ষেত্রে ‘ব্যতিক্রম’ হিসেবে এটা কদাচিৎ ঘটতেও পারে। কিন্তু যখন সবগুলো পদে, অন্তত সংখ্যাগরিষ্ঠ পদে মাত্র একজন করে বৈধ প্রার্থী থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ‘নির্বাচিত’ হওয়ার ঘটনা ঘটে, তখন জনমনে নানা সন্দেহ বা প্রশ্নের উদ্রেক হবেই। কারণ ‘নির্বাচন’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ- জনমত গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিনিধি বাছাই। জনমত গ্রহণের সুযোগই না থাকা নির্বাচনের মূল চেতনাবিরোধী এবং এটি অসম্পূর্ণ তথা বেমানান প্রক্রিয়া বলে গণ্য হতে বাধ্য।

ইদানীং আমাদের দেশে বিভিন্নপর্যায়ে নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ‘নির্বাচিত’ হওয়ার অশুভ প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। যেকোনো নির্বাচনে ভোটপ্রার্থী যেমন থাকে, তেমনি থাকে সাধারণ ভোটার বা ভোটদাতা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ ‘নির্বাচিত’ হলে ভোটারের পক্ষে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করা কিংবা মতামত দেয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। ফলে ভোটাররা ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। তাই এ ধরনের প্রার্থীকে ‘নির্বাচিত’ ঘোষণা করা হলে নৈতিকভাবে ঘাটতি থেকে যায়। কারণ তার প্রতি সাধারণ ভোটারের বেশির ভাগের আস্থা বা সমর্থন আছে কি-না তা যাচাই করা হয় নি।

যেকোনো নির্বাচনের ক্ষেত্রে একমাত্র বৈধ প্রার্থিতার উদ্ভব হলে সে ক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের বিধান থাকা উচিত। ভোটদাতাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত ‘হ্যাঁ’ হলে কেবল সে ক্ষেত্রেই এমন প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা সমীচীন। অন্যথায়, নতুন করে তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নেয়া বাঞ্ছনীয়।

মিরপুর, ঢাকা

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.