রোহিঙ্গা ত্রাণ প্রকল্প অনুমোদনে অহেতুক জটিলতা বিলুপ্ত করার দাবি নাগরিক সমাজের

বিশেষ সংবাদদাতা
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জরুরি মানবিক সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা সমুন্নত রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এনজিও ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। একই সাথে তারা রোহিঙ্গা ত্রাণ প্রকল্প অনুমোদনে অহেতুক জটিলতা বিলুপ্ত করারও আহ্বান জানিয়েছেন।
গতকাল ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ আহ্বান জানান। কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক এবং সিসিএনএফের কো-চেয়ার রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফোরামের অন্য কো-চেয়ার এবং পালসের নির্বাহী পরিচালক আবু মোর্শেদ চৌধুরী এ সময় এডাবের পরিচালক এ কে এম জসিম উদ্দিন এবং আইএসডিইর নির্বাহী পরিচালক নাজের আহমেদ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা অবিলম্বে এনজিও ব্যুরোর ৪৩ নং আইন, ২০১৬ পুনর্বহাল এবং রোহিঙ্গা ত্রাণ প্রকল্প অনুমোদনে অহেতুক জটিলতা বিলোপ করার দাবি জানিয়ে বলেন, স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করার বিধান প্রবর্তনের কারণে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে মূলত ত্রাণসংক্রান্ত কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। 
রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, আমাদের কাছে প্রমাণ আছে, সময় ক্ষেপণের কারণ দেখিয়ে দাতাসংস্থাগুলো তাদের জরুরি তহবিল বাতিল করছেন এবং প্রকল্প অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত অর্থ ছাড় করতে চাচ্ছে না।
আবু মোর্শেদ চৌধুরী তার সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনায় বলেন, যদি এনজিও ব্যুরোর অনুমোদন প্রক্রিয়ার এই বিধান অব্যাহত থাকে তাহলে অচিরেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পসমূহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে। বিশেষ করে, ডিপথেরিয়া এবং ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। পাশাপাশি এই বিধানের ফলে এনজিওসমূহ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে আনতে বাধ্য থাকবে। এনজিও ব্যুরোর বিধিসম্মত কর্তৃত্ব ফিরিয়ে দেয়ার ওপর জোর দেয়ার পাশাপাশি তিনি ছয়টি দাবি জানান।
এ কে এম জসিম উদ্দিন বলেন, এনজিও ব্যুরো কর্তৃক নিবন্ধিত এনজিওগুলোর জন্য ধর্মীয় জঙ্গিবাদের উত্থানে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই বরং মুক্তিযুদ্ধের মহান চেতনা বজায় রেখে ধর্মনিরপেক্ষতা চেতনার প্রসার করে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। বরং এনজিওগুলো যদি তাদের কার্যক্রম উঠিয়ে নিয়ে যায় তাহলে ট্রমার মধ্যে থাকা এসব রোহিঙ্গা দ্রুত জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়তে পারে। 
নাজের আহমেদ বলেন, সেনাবাহিনী ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় এনজিওগুলো যেভাবে রোহিঙ্গা ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তা প্রশংসার দাবি রাখে। যদি এনজিওগুলো তাদের কার্যক্রম উঠিয়ে নেয় তাহলে ইউএন সংস্থাগুলো একচেটিয়াভাবে আধিপত্য বিস্তার করবে এবং যা কিনা ব্যয়বহুলও বটে। যেমন, বর্তমানে কক্সবাজারে ১০০০ বিদেশী কাজ করছে যাদের প্রতিজনের পেছনে প্রতিদিন ৩০০ ডলায় ব্যয় হচ্ছে। তার অর্থ হলো, তাদের জন্য প্রতিদিন ব্যয় হচ্ছে দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.