মোবাইল ব্যাংকিং
মোবাইল ব্যাংকিং

মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ে জটিলতা কাটবে কি?

জাকির হোসেন লিটন

মোবাইল অপারেটরদের সাথে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা অপারেটরদের রাজস্ব ভাগাভাগির বদলে সেশন ভিত্তিতে ইউএসএসডি চার্জ নির্ধারণ করা নিয়ে বিটিআরসির প্রস্তাবে এখনো সাড়া নেই টেলিকম মন্ত্রণালয়ের। প্রায় এক মাস ধরে প্রস্তাবটি টেলিকম মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তাদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেই মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে রাজস্ব ভাগাভাগিতে স্বচ্ছতা নেই। এই সেবা দিতে শুরুর দিকে যে হারে মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর চাপ পড়ত, এখন তার চেয়ে চাপ পড়ে অনেক বেশিÑ কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা এক হাজার গুণ বেশি বলে দাবি করছে অপারেটররা।

সে জন্য দীর্ঘ দিন ধরে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার রাজস্বের একটি সুষম ভাগাভাগি দাবি করে আসছিল অপারেটররা। বিষয়টি নিয়ে বিটিআরসি বাংলাদেশ ব্যাংক, এমএফএস অপারেটর, মোবাইল অপারেটর ও এমটবের প্রতিনিধিদের সাথে একাধিক সমন্বিত সভা হয়। প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ও সেশন ভিত্তিতে ইউএসএসডি চার্জ নির্ধারণ করার জন্য মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসিকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন-বিটিআরসি প্রতি ৯০ সেকেন্ডের প্রতি সেশনের জন্য ৮৫ পয়সা দাম নির্ধারণ করে গত মাসে মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠায়। তবে এক মাস পার হলেও এ ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত অনুমোদন দেয়নি মন্ত্রণালয়।

ইউএসএসডি হলো আনস্ট্রাকচারড সাপ্লিমেন্টারি সার্ভিস ডাটা, যা মোবাইল নেটওয়ার্কের একটি অংশ মেশিনের সাথে মেশিনের সম্পর্ক স্থাপন করে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিটিআরসি ইউএসএসডির সেশনের চার্জ নির্ধারণ করেছে। ভারতে বর্তমানে এই চার্জ বাংলাদেশী মুদ্রামানে ৬৫ পয়সা, থাইল্যান্ডে ৩ টাকা, নাইজেরিয়ায় ৮০ পয়সা, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৩ টাকা ৬০ পয়সা আর কেনিয়ায় ৩ টাকা ২০ পয়সা। সব কিছু বিবেচনা করে বিটিআরসি প্রতি সেশনের জন্য ৮৫ পয়সা দাম নির্ধারণ করে সুপারিশ পাঠায় মন্ত্রণালয়ে।

জানা গেছে, বাংলাদেশে সাত বছর আগে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করা হয়। তবে এখানে ৭০-৮০ শতাংশ অর্থ লেনদেন হয় এজেন্টদের মাধ্যমে, যা অবৈধ। মাত্র ২০-৩০ শতাংশ ব্যবহারকারীর নিজের অ্যাকাউন্ট আছে।

অপারেটররা জানায়, মোবাইলে টাকা পাঠাতে নিজের অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে, শুধু ওয়ালেটে টাকা ভরতে ও টাকা তুলতে এজেন্টের শরণাপন্ন হতে হবে, এটাই নিয়ম। এই নিয়ম কার্যকর হয়নি। লেনদেন মূলত চলছে এজেন্টের মাধ্যমেই। তারা একাধিক নামে একাধিক মোবাইল সিম ব্যবহার করে সেবা দেন।

এজেন্টদের মাধ্যমে লেনদেন করা টাকার তথ্য মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্ক হয়ে ব্যাংক (ডাচ বাংলা ব্যাংকের সেবা রকেট) বা তাদের অনুমোদিত সেবাদাতার (ব্র্যাক ব্যাংকের বিকাশ) পোর্টালে ঢোকে।

জানা গেছে, পাঠানো টাকা উত্তোলন করতে যে খরচ হয়, তার ৯৩ শতাংশ যায় সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছেই। যার অংশ আবার চলে যায় ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলার বা এজেন্টদের কাছে। বাকি ৭ শতাংশ পায় মোবাইল অপারেটররা। ওয়ালেটে টাকা ভরতে কোনো খরচ নেই, তবে এক মোবাইল থেকে অন্য মোবাইলে টাকা পাঠাতে খরচ ৫ টাকা। আর টাকা উত্তোলনে খরচ ১.৮৫ শতাংশ।
বিটিআরসি ও অপারেটর সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং অপারেটরগুলো মোবাইল অপারেটরদের সাথে তাদের আয়ের ৭ শতাংশ ভাগ করছে তাদের নেটওয়ার্ক (ইউএসএসডি) ব্যবহার করার জন্য। কিন্তু মোবাইল অপারেটরগুলো বলছে, এতে স্বচ্ছতা নেই। তা ছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে সাধারণত সেশন ভিত্তিতে ইউএসএসডি চার্জ নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। এটি অনেকটা ইউটিলিটি সেবার মতো।

মোবাইল ব্যাংকিং অপারেটরগুলো বলছে, সেশন ভিত্তিতে ইউএসএসডি চার্জ করা হলে গ্রাহকের ওপর বাড়তি বোঝা চাপানো হবে। কিন্তু মোবাইল অপারেটরগুলোর মতে, বিষয়টি ঠিক নয়। কারণ, ইউএসএসডি চার্জ এর বিষয়টি বিজনেস টু বিজনেস, অর্থাৎ অপারেটর টু অপারেটর চুক্তির ভিত্তিতে হবে। এর সাথে গ্রাহকের কোনো সম্পর্ক নেই। বিটিআরসিও তেমনটাই মনে করে।
বিটিআরসির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানায়, মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বিটিআরসির গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বর্তমানে ইউএসসডি সেবা বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ট্যারিফ এবং নির্দেশনা না থাকায় বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে গ্রাহকেরা এই সেবার পূর্ণসুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই চার্জ কোনোভাবেই গ্রাহকদের ওপর প্রভাব ফেলবে না বলেও মত দেয়া হয় প্রতিবেদনে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিটিআরসি সচিব সরওয়ার আলম নয়া দিগন্তকে বলেন, এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আরো আগেই মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন তা মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.