ঢাকা, রবিবার,২২ এপ্রিল ২০১৮

সংগঠন

বিএফইউজে-ডিইউজের আলোচনা সভা

দেশের বুদ্ধিজীবীরা আজও গুম-হত্যার শিকার হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ ডিসেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ২০:১৪


প্রিন্ট

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সাংবাদিক নেতারা বলেছেন, বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে, পাকিস্তানি সৈন্য ও তাদের সহযোগী রাজাকাররা পলায়নরত ঠিক সে সময়ে দেশের বুদ্ধিজীবীদের অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। যাতে যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশ ঘুরে দাঁড়াতে না পারে সেটাই ছিল তাদের লক্ষ্য। আজও দেশের ভিন্নমতের বুদ্ধিজীবীদের গুম-হত্যা করা হচ্ছে। অগণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপক্ষে কেউ যাতে জোরালোভাবে কথা বলতে না পারে সেজন্যই এ গুম-হত্যা চলছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের নিজস্ব কার্যালয়ে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

বিএফইউজের সিনিয়র সহ সভাপতি শামসুদ্দিন হারুনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, বর্তমান মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বাকের হোসাইন, বিএফইউজের সাবেক সহ-সভাপতি নূরুল আমীন রোকন, মোদাব্বের হোসেন, বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, ডিইউজের সহ-সভাপতি খুরশিদ আলম, কলামিস্ট আব্দুল আউয়াল ঠাকুর, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি একেএম মহসিন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন, সাংবাদিক নেতা শেখ রকিব উদ্দিন, বেলায়েত হোসেন, শাখাওয়াত হোসেন, জসিম মেহেদী, ডি.এম. আমিরুল ইসলাম অমর, খন্দকার আলমগীর হোসেন, আমিনুল ইসলাম, এইচ এম আল-আমিন, মতিউর রহমান, আবু হানিফ প্রমুখ।

সভা সঞ্চালনা করেন ডিইউজের যুগ্ম সম্পাদক শাহীন হাসনাত।

রুহুল আমিন গাজী বলেন, দেশের বুদ্ধিজীবীদের অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ’৭১ এর ১ ডিসেম্বর থেকে দেশ মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ৫ ডিসেম্বরের পর থেকেই পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পন করতে প্রস্তুত হয়ে পড়ে। তাহলে ১৪ ডিসেম্বর কারা দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করলো?

তিনি বলেন, বর্তমানেও দেশে বুদ্ধিজীবীদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। ভিন্নমত প্রকাশ করলেই মামলা করা হচ্ছে। মিছিল-সমাবেশও করতে দেয়া হচ্ছে না। অনেককে ধরে নিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

এম আবদুল্লাহ বলেন, দেশে আজ প্রকৃত বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা খুবই নগণ্য। যারা আছেন তারাও সত্য কথা বলতে পারছেন না। আমার দেশ এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সরকারের সমালোচনা করে একটি বক্তব্য দেয়ায় তার বিরুদ্ধে দেশের ৩২ জেলায় মামলা করা হয়েছে। কবি ও গবেষক ফরহাদ মজহারকে গুম করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু দেশী-বিদেশী চাপের কারণে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের গণমাধ্যম আজ সত্য কথা তুলে ধরতে পারছে না। এজন্য মুক্ত গণমাধ্যম ফিরে পেতে আমাদের আবার লড়াই করতে হবে।

আবদুল হাই শিকদার বলেন, দেশের যেসব বুদ্ধিজীবী পাকিস্তানের পক্ষে থেকে চাকরি-বাকরি করেছেন তারাই পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পনের প্রস্তুতিকালে কিভাবে হত্যার শিকার হলেন, কারা তাদের হত্যা করলো তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। একইভাবে মেজর জলিল সেক্টর কমান্ডার হবার পরও মুক্তিযুদ্ধের সময়ই কেন তাকে কারাবন্দি করা হয় এবং তাকে কোনো পদক-পদবী দেয়া হয়নি তা আজো প্রশ্ন হয়ে রয়েছে।

এম এ আজিজ বলেন, ডিসেম্বরের শুরুতেই পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকাররা পালাতে শুরু করে, তাহলে তারা কিভাবে ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করলো? পরে জহির রায়হানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে সেই জহির রায়হানও গুম হয়ে গেলেন কেন?

জাহাঙ্গীর আলম প্রধান বলেন, জাতিকে মেধাশূন্য করতে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়। জাতি যাতে মাথাতুলে দাঁড়াতে না পারে সেজন্য পরিকল্পিতভাবে এ হত্যা করা হয়। আজও একইভাবে দেশের বুদ্ধিজীবী-সাংবাদিকদের হত্যা-গুম করা হচ্ছে।

মুহাম্মদ বাকের হোসাইন বলেন, ’৭১ এর ১৪ ডিসেম্বর শুধু জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদেরই হত্যা করা হয়নি, এ ঘটনার মাধ্যমে জাতিকেও বিভক্ত করা হয়েছে। এখন সর্বত্র বিভক্তি আর বিভক্তি। এখন যারা বুদ্ধিজীবী আছেন তাদের কণ্ঠও স্তব্দ হয়ে গেছে। জাতির প্রয়োজনে তারা এখন আর এগিয়ে আসছেন না। মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান তিনি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫