বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুর চিকিৎসায় কেন ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ নয় : হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ক্ষতিগ্রস্ত সাত বছরের শিশু রাফসান নূরের চিকিৎসায় কেন এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। একইসাথে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সরকারি তহবিল থেকে ওই শিশুর চিকিৎসা ব্যয় প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।

একই সাথে আবাসিক এলাকায় নিরাপদ বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) অপরাগতা ও ব্যর্থতাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষকে সংশ্লিষ্ট এলাকার খোলা বৈদ্যুতিক তার নিরাপদ করণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত। তার সহযোগিতায় ছিলেন আইনজীবী মুনতাসীর মাহমুদ রহমান, প্রভাষ চন্দ্র দাস ও মিজানুর রহমান।

এ বিষয়ে মুনতাসীর মাহমুদ রহমান বলেন, আবাসিক এলাকার বাসাবাড়ির কাছ দিয়ে হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের বিষয়ে রাজধানীর জিগাতলার এলাকাবাসী অনেকদিন ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেয়াতেই রিটকারীর সাত বছরের শিশুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করি। আদালত আবেদন শুনে এ বিষয়ে দুটি পৃথক রুল জারি করেন।

গত ২৭ নভেম্বর আইনজীবী কেএম রেজাউল ফিরোজ মিন্টুর সাত বছরের সন্তান রাফসান নূর বাসার বারান্দার কাছ থেকে চলে যাওয়া ১১ হাজার বোল্টের খোলা বৈদ্যুতিক তারে বসা পাখি ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। এতে তার মুখমণ্ডলসহ শরীরের ২০ শতাংশ পুড়ে যায়।

এরপর শিশুটিকে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের সেবায় সে প্রাথমিকভাবে আশঙ্কামুক্ত হলেও এখন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন আছে। এ বিষয়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকা নয়া দিগন্তে গত ১২ ডিসেম্বর ‘নূরের এই নির্মম পরিণতির দায় কার?’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয় ‘ফুটফুটে ছয় বছরের শিশু রাফসান নূর। দিনভর ঘরের মধ্যে দুরন্তপনা। ছোট বোনকে নিয়ে এঘর থেকে ওঘরে সারাক্ষণই ব্যস্ত রাফসান। কখনো কখনো বারান্দায় গিয়ে পাখি দেখে দুই ভাই-বোনের সে কি আনন্দ। এই পাখি দেখাই কাল হলো ছোট্ট রাফসানের জন্য। ছোট্ট এই শিশুটি এখন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে। পুড়ে গেছে শরীরের ২০ শতাংশ। প্রশ্ন জেগেছে রাফসানের এই নির্মম পরিণতির দায় কার? পাখিটি বসা ছিলো বিদ্যুতের তারে। তখন নূর ও তার তিন বছরের বোনটি ঘরে বসে খেলছিলো। নূর হাত বাড়ায় পাখিটি ছুঁয়ে দেখার জন্য। জানালা দিয়ে হাত বাড়ায় সে। কিন্ত ব্যর্থ হয়। নূরের দৃষ্টি পড়ে পড়ার টেবিলে থাকা এক খণ্ড পাইপের দিকে। সেটি নিয়ে জানালা দিয়ে পাখিটিকে পিটুনি দেয় অবুঝ নূর। এলুমিনিয়ামের পাইপ স্পর্শ করে বৈদ্যুতিক তারে। তখনই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। উড়ে যায় পাখি। বারন্দায় ছিটকে পড়ে নূর।’

প্রকাশিত সংবাদের কপি সংযুক্ত করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন শিশুটির বাবা কেএম রেজাউল ফিরোজ মিন্টু।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.