বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট

রোগ প্রতিরোধী আলুর জাত উদ্ভাবনে থ্রি-জিন প্রযুক্তি ব্যবহার

উৎপাদন খরচ কমবে ২৫-২৮ শতাংশ
গাজীপুর সংবাদদাতা
আলুর নাবিধসা রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে বুধবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের মিলনায়তনে ‘ফিড দ্য ফিউচার বায়োটেকনোলজি পটেটো পার্টনারশিপ’ প্রকল্পের উদ্ভোবন অনুষ্ঠিত হয়েছে। থ্রি-জিন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এ দেশে আলুর সবচেয়ে মারাত্মক এ রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন করা হবে। এতে মোট উৎপাদন খরচের প্রায় ২৫-২৮ শতাংশ সাশ্রয় হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিব দায়িত্বে) মোহাম্মদ নজমুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। 
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, থ্রি-জিন জিএম আলু কৃষকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে কোনো ওষুধ স্প্রে করতে হয় না। তাতে পরিবেশ ও কৃষকের স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুলাংশে কমে যাবে। থ্রি-জিন জিএম আলু সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত। 
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. ভাগ্য রানী বণিক এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. আবুল কালাম আযাদ। এতে বক্তৃতা করেনÑ এফটিএফ প্রোগ্রাম লিড ইউএসএআইডি অফিসের ডেভিড ওয়েস্টারলিংক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আমেরিকার মেশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রকল্প পরিচালক ড. ডেভিড ডুছেস। স্বাগত বক্তৃতা করেনÑ বিএআরআইয়ের পরিচালক (কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্র) ড. তপন কুমার পাল। এ ছাড়া বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা, কৃষক প্রতিনিধি এবং এনজিও প্রতিনিধিসহ প্রায় ৩৫০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধের ওপর পাঁচজন বক্তব্য রাখেন। 
সভায় বক্তারা বলেন, আলুর নাবিধসা রোগটি মারাত্মক। এ রোগটি আলু মাঠে দেখা দেয়ার সাথে সাথে ব্যবস্থা না নিলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাঠের সব ফসল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ দেশের আলুচাষিরা এ রোগটি নিয়ে সব সময় চিন্তায় থাকেন। তাই, আলু গাছ ২৫-৩০ দিন বয়সের হলে পরেই দামি ছত্রাকনাশক ছিটাতে আরম্ভ করেন। আলুচাষিরা সাত-আটবার আলু জমিতে স্প্রে করে থাপ্রণ। শুধু নাবিধসা রোগ দমনের ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে মোট উৎপাদন খরচের প্রায় ২৫-২৮ শতাংশ খরচ হয়। বাংলাদেশের আলুচাষিরা এ রোগটি দমন করতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ছত্রাকনাশক স্প্রে করে থাকে। ১০০ কোটি টাকার ওষুধ ছিটানোর ফলে বায়ু, পরিবেশ, মাটি, পানি ইত্যাদি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.